এমন শালুক পাতা—১০০ কেজির মানুষও ভাসবে, হাওড়ার বটানিক গার্ডেনে ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি রাইড’ চড়বেন নাকি?

একটি বিশাল শালুক পাতা। তার উপর নিশ্চিন্তে বসে জলে ভেসে রয়েছেন ৮০ থেকে ১০০ কেজি ওজনের পূর্ণবয়স্ক মানুষ! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমনই এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে হাওড়ার শিবপুরের বটানিক গার্ডেনে।

হাওড়ার বটানিক গার্ডেন কর্তৃপক্ষ জলাশয়ে এই বিশেষ বিশালাকার পাতা চাষ করে সেখানে মানুষের বসার ব্যবস্থা করেছেন। বটানিক গার্ডেনের ইতিহাসে প্রথম চালু হওয়া এই অনন্য অ্যাডভেঞ্চারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি রাইড’। কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ এখন সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

সম্প্রতি বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ড. কনাদ দাসের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর অভিযানের সূচনা হয়েছে। এই সাফল্য অর্জনের পিছনে ড. কনাদ দাস এবং গার্ডেন ইনচার্জ মানস ভৌমিকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। গত কয়েক দিনে উদ্যানের বিশেষজ্ঞ কর্মী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরাও এই পাতায় বসার অভিজ্ঞতা নিয়েছেন।

যে উদ্ভিদের পাতায় এই ঘটনা ঘটছে, তার নাম ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি’ বা ‘ভিক্টোরিয়া অ্যামাজ়োনিকা’। আমাজ়ন অরণ্যের এই বিরল জলজ উদ্ভিদটি বটানিক গার্ডেনের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এর আগে নানা ছবি বা ভিডিয়োতে কেবল ছোট শিশুদের এই ধরনের পাতায় ভেসে থাকতে দেখা গিয়েছে।

তবে এ বার আর শুধু শিশু নয়, প্রায় ৯৫ কেজি ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও অনায়াসে এই পাতায় ভেসে থাকছেন। বটানিক গার্ডেনের ১ নম্বর গেট থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরের জলাশয়ে এই রাইড চলছে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত দর্শনার্থীরা এই পাতায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন।

২০২০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে এই বিরল জলজ উদ্ভিদটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর পর উদ্যান কর্তৃপক্ষ এগুলি সংরক্ষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে তুলে ধরার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে উদ্যানের বিভিন্ন প্রান্তের ১৬টি জলাশয়ে এর সফল সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

উদ্যানের গবেষক ড. আর. সরবানন জানান, এই জলজ উদ্ভিদের মূল আকর্ষণ এর কাঁটাযুক্ত লম্বা কাণ্ড এবং বিশাল আকৃতির পাতা। উদ্ভিদে ফুল ফোটার ঠিক আগের সময়টিতে পাতাগুলি সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী থাকে। এ চাড়াও তিনি জানান, যাঁরা বসতে ইচ্ছুক ঝটপট চলে আসতে হবে, বেশি দেরি করা যাবে না। কারণ আর মাত্র ১৫ দিনের মতো এই পাতায় বসার সুযোগ মিলবে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মানুষ বসলে পাতাটি ছিঁড়ে বা ডুবে যায় না কেন? আসলে পাতাকে সুরক্ষিত রাখতে এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাতার উপরে এবং নীচে দু’টি বিশেষ ভাসমান উপকরণ রাখা হয়। এর ফলে মানুষের ওজন সরাসরি পাতায় না পড়ে চারপাশে ছড়িয়ে যায় এবং পাতা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

তাই বটানিক গার্ডেনে ঘুরতে এসে বিরল এই শালুক পাতায় ভেসে থাকার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী বছরগুলিতে ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরও বড় পরিসরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই মরশুমে এই বিরল অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই আপনাকে যেতে হবে বটানিক গার্ডেনে।