পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য সেরা ফোন, তালিকায় পিক্সেল থেকে আইফোন
কলকাতা: স্মার্টফোনে ভালো পোর্ট্রেট ছবি তুলতে শুধু বেশি মেগাপিক্সেলের (Best Camera Phones) ক্যামেরা থাকলেই হয় না। ক্যামেরার ফোকাল লেন্থ, অটোফোকাস এবং ছবি প্রসেসিংয়ের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন পোর্ট্রেটের ক্ষেত্রে, যেখানে ছবিতে থাকা ব্যক্তিকে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আলাদা করে ফুটিয়ে তুলতে হবে, কিন্তু ছবিটি যেন অতিরিক্ত কৃত্রিম না দেখায়।
২০২৬ সালে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে ডেডিকেটেড টেলিফটো ক্যামেরা, বড় সেন্সর এবং উন্নত পোর্ট্রেট নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিকে যারা বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য এই পাঁচটি ফোন বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
গুগল পিক্সেল ১১ প্রো
গুগল পিক্সেল ১১ প্রো-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরায় রয়েছে ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম। সেলফির জন্য রয়েছে ৪২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
পোর্ট্রেটের ক্ষেত্রে ৫ গুণ টেলিফটো ক্যামেরাটি বিশেষভাবে কার্যকর। এর সাহায্যে বিষয়বস্তুর কাছাকাছি না গিয়েও টাইট ফ্রেমে ছবি তোলা যায়। প্রধান ক্যামেরায় এফ/১.৬৮ অ্যাপারচার, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস এবং এলডিএএফ অটোফোকাস রয়েছে, যা কম আলো বা তুলনামূলক কঠিন পরিস্থিতিতেও কাজে আসতে পারে।
Advertisements
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ১.৫কে এলটিপিও অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং গুগলের টেনসর জি৬ চিপসেট। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এ চলে। সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ পাওয়া যায়। রয়েছে ৪,৮৪০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৩০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং। ফোনটি আইপি৬৮ রেটেড।
ভারতে দাম: ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু ১,০৯,৯৯৯ টাকা থেকে।
শাওমি ১৭ আল্ট্রা
পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে শাওমি ১৭ আল্ট্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। পুরো ক্যামেরা সেটআপে লেইকা টিউনিং রয়েছে।
২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা টাইট পোর্ট্রেটের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে বড় ১ ইঞ্চি সেন্সর এবং ওআইএস, যা কম আলোতে পোর্ট্রেট তোলার সময় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেলফির জন্য রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ হাইপারআরজিবি ওএলইডি ডিসপ্লে এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট। সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ পাওয়া যায়। ব্যাটারি ৬,০০০ এমএএইচ, সঙ্গে ৯০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং। ফোনটি আইপি৬৮ রেটেড।
ভারতে দাম: ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু ১,৩৯,৯৯৯ টাকা থেকে।
ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা
ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রার ক্যামেরা সেটআপ জেইস টিউনড। এতে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। পোর্ট্রেটের জন্য পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরাটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এতে ৩.৭ গুণ অপটিক্যাল জুম রয়েছে। ফলে বিষয়বস্তুর খুব কাছে না গিয়েও স্বাভাবিক দূরত্ব থেকে পোর্ট্রেটের ফ্রেম তৈরি করা যায়। সেলফির জন্য রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রায় রয়েছে ৬.৮২ ইঞ্চির ১৪৪ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট। সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজ পাওয়া যায়। ব্যাটারি ৬,৬০০ এমএএইচ এবং ১০০ ওয়াট চার্জিং সমর্থন করে। ফোনটি আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ রেটেড।
ভারতে দাম: ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু ১,৫৯,৯৯৯ টাকা থেকে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা
পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রাও শক্তিশালী বিকল্প। এতে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং ৩ গুণ ও ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম-সহ দুটি টেলিফটো ক্যামেরা।
দুটি টেলিফটো ক্যামেরা থাকার কারণে পোর্ট্রেটের ক্ষেত্রে একাধিক ফ্রেমিং অপশন পাওয়া যায়। ৩ গুণ জুমে তুলনামূলক কাছের পোর্ট্রেট থেকে শুরু করে ৫ গুণ জুমে আরও টাইট ফ্রেম তৈরি করা সম্ভব। প্রধান ক্যামেরায় ওআইএস এবং প্রশস্ত এফ/১.৪ অ্যাপারচার রয়েছে।
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির কিউএইচডি+ ডায়নামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি চিপসেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজ পাওয়া যায়। ব্যাটারি ৫,০০০ এমএএইচ, সঙ্গে ৬০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং। ফোনটি আইপি৬৮ রেটেড।
ভারতে দাম: ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু ১,৩০,৯৯৯ টাকা থেকে।
আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স
পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য অ্যাপলের আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সও অন্যতম আকর্ষণীয় বিকল্প। ফোনটির পিছনে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ৪ গুণ টেলিফটো ক্যামেরা, যা ২০০ মিমি পর্যন্ত ৮ গুণ অপটিক্যাল-কোয়ালিটি ভিউ দিতে পারে। অতিরিক্ত জুম রেঞ্জের কারণে পোর্ট্রেট তোলার সময় ফ্রেমিংয়ে বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়। অটোফোকাস এবং ওআইএস ছবিকে স্থির ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
অ্যাপল পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য ফোকাস ও ডেপথ কন্ট্রোল এবং ছ’টি পোর্ট্রেট লাইটিং ইফেক্টও দিয়েছে। ফলে ছবি তোলার পরেও পোর্ট্রেটের ফোকাস ও ব্যাকগ্রাউন্ডের গভীরতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে।
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ প্রোমোশন এবং অ্যাপলের এ১৯ প্রো চিপসেট। সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের বিকল্প রয়েছে। সামনে রয়েছে ১৮ মেগাপিক্সেলের সেন্টার স্টেজ ক্যামেরা। ম্যাগসেফ এবং কিউআই২ চার্জিংও সমর্থিত।
ভারতে দাম: ২৫৬ জিবি মডেলের দাম শুরু ১,৪৯,৯০০ টাকা থেকে।
কোন ফোনটি পোর্ট্রেটের জন্য সেরা?
পাঁচটি ফোনের প্রত্যেকটির নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। পিক্সেল ১১ প্রো-তে ৫ গুণ টেলিফটো, শাওমি ১৭ আল্ট্রায় ২০০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো, ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রায় ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রায় দুটি টেলিফটো ক্যামেরা পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়।
অন্যদিকে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ফোকাস, ডেপথ কন্ট্রোল এবং পোর্ট্রেট লাইটিংয়ের মতো সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বেশি সৃজনশীল স্বাধীনতা দেয়।
তাই শুধু মেগাপিক্সেল দেখে ফোন বেছে নেওয়ার বদলে টেলিফটো ক্যামেরার ফোকাল লেন্থ, অটোফোকাস, ওআইএস, সেন্সরের আকার এবং ছবি প্রসেসিংয়ের ক্ষমতাও বিবেচনা করা উচিত। পোর্ট্রেট যদি আপনার ফোন কেনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়, তাহলে এই পাঁচটি ফ্ল্যাগশিপই ২০২৬ সালে নজরে রাখার মতো।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন