Samsung ফোন নিজে থেকেই রিস্টার্ট হবে, চালু করুন অটো অপ্টিমাইজেশন
Samsung Tips: স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস, জমে থাকা ক্যাশ এবং একাধিক সিস্টেম প্রসেসের কারণে ফোন আগের তুলনায় ধীর মনে হতে পারে। এমনকি দামি ফ্ল্যাগশিপ ফোনেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা, স্টোরেজ খালি করা বা ক্যাশ পরিষ্কার করলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়। তবে নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করাও পারফরম্যান্স ঠিক রাখার একটি সহজ উপায়। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে এই কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার সুবিধাও রয়েছে।
ফোন রিস্টার্ট করলে কী লাভ হয়?
ফোন রিস্টার্ট করলে সাময়িক ফাইল ও অস্থায়ী সিস্টেম প্রসেস রিফ্রেশ হয় এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বিভিন্ন প্রসেস বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ফোনের মেমরি নতুন করে কাজ শুরু করে। নিয়মিত রিস্টার্টের ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফোনের রেসপন্স দ্রুত হতে পারে, ছোটখাটো সফটওয়্যার সমস্যা ঠিক হতে পারে এবং দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া ল্যাগ বা হ্যাংয়ের সমস্যা কমতে পারে। স্যামসাং এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে অটো অপ্টিমাইজেশন ফিচারের মাধ্যমে। এর সাহায্যে গ্যালাক্সি ফোন নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিজে থেকেই রিস্টার্ট করতে পারে।
স্যামসাং ফোনে অটো রিস্টার্ট কীভাবে চালু করবেন?
ওয়ান ইউআই-এর সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম বা অবস্থান সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত এইভাবে ফিচারটি চালু করা যায়:
Advertisements
১. আপনার স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে সেটিংস খুলুন।
২. নিচে স্ক্রল করে ব্যাটারি অ্যান্ড ডিভাইস কেয়ার অপশনে যান।
৩. অ্যাডিশনাল কেয়ার বিভাগে গিয়ে অটো অপ্টিমাইজেশন নির্বাচন করুন।
৪. সেখানে অটো-রিস্টার্ট ফিচারটি চালু করুন।
৫. প্রয়োজন অনুযায়ী রিস্টার্টের দিন এবং সময় নির্বাচন করুন।
ফিচারটি চালু হয়ে গেলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিস্টার্ট হবে। এমন সময় নির্ধারণ করা ভালো, যখন ফোন সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন, গভীর রাত বা ভোরের সময়।
সবসময় কি নির্ধারিত সময়ে ফোন রিস্টার্ট হবে?
না। স্যামসাংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্টের জন্য ফোনকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সাধারণত ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ব্যাটারির চার্জ ৩০ শতাংশের বেশি থাকতে হবে এবং সিম কার্ড লক বন্ধ থাকতে হবে। এর ফলে ফোন ব্যবহারের মাঝখানে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলার সময় হঠাৎ করে রিস্টার্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ফোন দ্রুত রাখতে আরও যা করবেন
শুধু অটো রিস্টার্ট চালু করলেই ফোনের সব পারফরম্যান্স সমস্যা দূর হবে না। পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় নিয়মিত মেনে চলা ভালো।
ডিভাইস কেয়ার ব্যবহার করুন
স্যামসাংয়ের বিল্ট-ইন ডিভাইস কেয়ার ফিচার দিয়ে ব্যাটারি, স্টোরেজ এবং মেমরি অপ্টিমাইজ করা যায়। প্রয়োজন হলে ম্যানুয়াল অপ্টিমাইজেশনও করা সম্ভব।
নিয়মিত ক্যাশ পরিষ্কার করুন
দীর্ঘদিন ব্যবহারে বিভিন্ন অ্যাপের ক্যাশ জমতে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাশ পরিষ্কার করলে কিছু স্টোরেজ খালি হতে পারে এবং নির্দিষ্ট অ্যাপের ছোটখাটো সমস্যা সমাধান হতে পারে।
সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
অ্যান্ড্রয়েড এবং ফোনের ওয়ান ইউআই-এর নতুন আপডেট ইনস্টল করা গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার আপডেটে সাধারণত বাগ সংশোধন, পারফরম্যান্স উন্নতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট থাকে।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
যে অ্যাপগুলি খুব কম ব্যবহার করেন, সেগুলিকে অপ্রয়োজনে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে না দেওয়াই ভালো। এতে মেমরি ও ব্যাটারির উপর চাপ কমতে পারে।
স্টোরেজ খালি রাখুন
ফোনের স্টোরেজ প্রায় পুরোপুরি ভর্তি হয়ে গেলে বিভিন্ন কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ, পুরনো ছবি-ভিডিও এবং বড় ফাইল মুছে বা ক্লাউড স্টোরেজে সরিয়ে নিয়মিত জায়গা খালি রাখুন।
অটো অপ্টিমাইজেশন এবং স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্ট তাই স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের একটি সহজ উপায়। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে ফোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফ্রেশ করার এই ফিচারটি কাজে আসতে পারে।