PM Modi Xi Jinping Meeting: প্রধানমন্ত্রী মোদী-জিনপিং বৈঠকের পরই প্রকাশ্যে মতপার্থক্য! কোথায় আলাদা ভারত-চিনের অবস্থান? | BRICS Summit 2026: India, China Differs in Wording on Border Issue after PM Narendra Modi China President Xi Jinping Bi lateral Meeting - 24 Ghanta Bangla News
Home

PM Modi Xi Jinping Meeting: প্রধানমন্ত্রী মোদী-জিনপিং বৈঠকের পরই প্রকাশ্যে মতপার্থক্য! কোথায় আলাদা ভারত-চিনের অবস্থান? | BRICS Summit 2026: India, China Differs in Wording on Border Issue after PM Narendra Modi China President Xi Jinping Bi lateral Meeting

Spread the love

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।Image Credit: PTI

নয়া দিল্লি: ব্রিকস সামিটে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সেরেছেন তিনি। দুই দেশই একসঙ্গে চলার কথা বলেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  চিনের প্রেসিডেন্টের কাছে এ কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্তে শান্তি থাকা দরকার।   সীমান্তে শান্তি না ফিরলে কি ভারত-চিনের সম্পর্ক এগোবে? নাকি সীমান্ত সমস্যা একদিকে রেখেই অন্য ক্ষেত্রগুলিতে সম্পর্ক মজবুত করা সম্ভব হবে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের বিবৃতিতে উঠে এল এই প্রশ্নই।

দুই দেশের দুই বিবৃতি-

বেজিং চাইছে সীমান্ত সমস্যা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই পাশাপাশি অগ্রগতি হোক। অন্যদিকে নয়া দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তি।

সাত বছর পর ভারতে এসেছেন শি জিনপিং। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই বিভেদ ভুলেই ভারতের আমন্ত্রণে ব্রিকসে যোগ দিতে এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট।

চিনের বিবৃতি-

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর চিনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই দেশের উচিত একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা”। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই পাশাপাশি অগ্রগতি চায় বেজিং। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে তাদের বিবৃতিতে।

চিন বলেছে, “দুই দেশের উচিত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। পাশাপাশি, দুই ক্ষেত্রে এমন অগ্রগতি করতে হবে, যা একে অপরকে আরও শক্তিশালী করবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থাও বজায় রাখতে হবে।”

ভারতের বিবৃতি-

তবে ভারতের বিবৃতিতে বিষয়টি কিছুটা অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেছেন যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে সীমান্ত সংক্রান্ত যে সমস্ত চুক্তি ও সমঝোতা ইতিমধ্যেই হয়েছে, তা দুই দেশকেই মেনে চলতে হবে।

ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের জন্য কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এই সমাধানের ক্ষেত্রে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এবং উভয় দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথাও বিবেচনা করা হবে।

দুই দেশের বিবৃতির মধ্যে মূল পার্থক্যটি এখানেই। চিন চাইছে, সীমান্ত সমস্যার সমাধান না হলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত নিয়ে আলোচনা—দুটিই পাশাপাশি এগিয়ে চলুক। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান ভিত্তি।

চিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে সীমান্ত সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হলেও দুই দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ফলে মোদী-শি বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও সীমান্ত প্রশ্নে ভারত ও চিনের অবস্থানের ফারাক এখনও স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *