Hero Xpulse 200 4V Pro-র দামে কোন বাইক-স্কুটার কিনবেন? রইল ৫টি বিকল্প
ভারতে কম দামের ডুয়াল-স্পোর্ট মোটরসাইকেলের কথা উঠলে হিরো এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো (Hero Xpulse 200 4V Pro) অন্যতম জনপ্রিয় নাম। এর দাম ১,৫৬,৭১১ টাকা, এক্স-শোরুম। এই দামের মধ্যে ডুয়াল-স্পোর্ট বাইক হিসেবে এটি অন্যতম সাশ্রয়ী বিকল্প।
তবে একই দামের আশপাশে ভারতীয় বাজারে আরও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল এবং ইলেকট্রিক স্কুটার রয়েছে। কেউ বেশি পারফরম্যান্স চান, কেউ আধুনিক ফিচার, আবার কেউ শহরের ব্যবহারের জন্য হালকা ও আরামদায়ক বাইক খুঁজছেন। সেই হিসেবে এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো কেনার আগে যে পাঁচটি বিকল্প দেখতে পারেন, সেগুলি হল।
১. হিরো এক্সট্রিম ২৫০আর, দাম ১,৭২,৫২৪ টাকা
এক্সপালসের তুলনায় কিছুটা বেশি টাকা খরচ করতে পারলে হিরো এক্সট্রিম ২৫০আর একটি শক্তিশালী বিকল্প। এর দাম ১,৭২,৫২৪ টাকা, এক্স-শোরুম। বাইকটিতে রয়েছে ২৪৯.০৩ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি ৩০ পিএস শক্তি এবং ২৫ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ।
হিরোর দাবি অনুযায়ী, এক্সট্রিম ২৫০আর ০-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে পারে মাত্র ৩.২ সেকেন্ডে। সাসপেনশনের জন্য সামনে রয়েছে ৪৩ মিমি ইউএসডি ফর্ক এবং পিছনে গ্যাস-চার্জড মনোশক, যেখানে ৬-ধাপ প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্ট রয়েছে। ব্রেকিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে সামনে ৩২০ মিমি এবং পিছনে ২৩০ মিমি পেটাল ডিস্ক। বাইকে ডুয়াল-চ্যানেল সুইচেবল এবিএস রয়েছে। রোড এবং ট্র্যাক, এই দুই এবিএস মোডও পাওয়া যায়। ১৭ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, ১১.৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ৮০৬ মিমি সিট হাইট এবং ১৬৭.৭ কেজি কার্ব ওয়েট রয়েছে। ফিচারের মধ্যে রয়েছে এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, যেখানে স্পিড, ট্যাকোমিটার, ফুয়েল, গিয়ার পজিশন, ওডোমিটার এবং ট্রিপ মিটারের তথ্য দেখা যায়।
Advertisements
২. টিভিএস রনিন, টপ ভ্যারিয়েন্ট ১,৬১,৬৪০ টাকা
রেট্রো ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক বৈশিষ্ট্য চাইলে টিভিএস রনিনের টপ ভ্যারিয়েন্ট দেখতে পারেন। এর দাম ১,৬১,৬৪০ টাকা, এক্স-শোরুম। রনিনে রয়েছে ২২৫.৯ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার অয়েল-কুলড ইঞ্জিন। এটি ২০.৪ পিএস শক্তি এবং ১৯.৯৩ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ। টিভিএসের গ্লাইড থ্রু টেকনোলজি বা জিটিটি কম গতিতে থ্রটল না দিয়েও বাইককে মসৃণভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। সাসপেনশনে রয়েছে ৪১ মিমি ইউএসডি ফর্ক এবং ৭-ধাপ প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্ট-সহ পিছনের মনোশক। সামনে ৩০০ মিমি এবং পিছনে ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। টপ ভ্যারিয়েন্টে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসের পাশাপাশি রেন ও আরবান এবিএস মোডও পাওয়া যায়।
রনিনের সিট হাইট ৭৯৫ মিমি, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৮১ মিমি এবং কার্ব ওয়েট ১৬০ কেজি। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ১৪ লিটার। ফিচারের মধ্যে রয়েছে অ্যাসিমেট্রিক এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং টিভিএস স্মার্টএক্সঅনেক্ট ব্লুটুথ সংযোগ। এর মাধ্যমে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, কল ও এসএমএস অ্যালার্ট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্স, রাইড অ্যানালিসিস এবং শেষ কোথায় বাইক পার্ক করা হয়েছিল, সেই তথ্যও পাওয়া যায়।
৩. এথার ৪৫০এক্স, ১২৬ কিমি ভ্যারিয়েন্ট, ১,৭৫,৯৯৮ টাকা
পেট্রোল বাইকের বদলে ইলেকট্রিক স্কুটার নিতে চাইলে এথার ৪৫০এক্স একটি বিকল্প। ১২৬ কিলোমিটার রেঞ্জের ভ্যারিয়েন্টটির দাম ১,৭৫,৯৯৮ টাকা। এতে রয়েছে ৩.৭ কিলোওয়াটআওয়ার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। আইডিসি-সার্টিফায়েড রেঞ্জ ১২৬ কিলোমিটার। বৈদ্যুতিক মোটর থেকে সর্বোচ্চ ৬.৪ কিলোওয়াট শক্তি এবং ২৬ এনএম টর্ক পাওয়া যায়।
এথারের দাবি অনুযায়ী, স্কুটারটি ০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে পারে ৩.৩ সেকেন্ডে এবং সর্বোচ্চ গতি ৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। স্কুটারে স্মার্টইকো, ইকো, রাইড এবং স্পোর্ট, এই চারটি রাইডিং মোড রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এবং ম্যাজিক টুইস্ট ফিচার। পার্ক অ্যাসিস্টের সঙ্গে রিভার্স মোড এবং অটোহোল্ডও পাওয়া যায়। শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে।
সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে মনোশক রয়েছে। ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ২০০ মিমি এবং পিছনে ১৯০ মিমি ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম। স্কুটারটির ৭ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন টিএফটি ডিসপ্লে অন্যতম বড় আকর্ষণ। এতে গুগল ম্যাপস নেভিগেশন, রাইড স্ট্যাটিসটিক্স, ব্যাটারি ও চার্জিং তথ্য, রাইডিং মোড এবং বিভিন্ন সেটিংস দেখা যায়। ওভার-দ্য-এয়ার সফটওয়্যার আপডেটের সুবিধাও রয়েছে।
৪. হোন্ডা এনএক্স২০০, দাম ১,৫৯,৯৬৯ টাকা
অ্যাডভেঞ্চার বাইকের মতো ডিজাইন চাইলে হোন্ডা এনএক্স২০০-ও দেখতে পারেন। এর দাম ১,৫৯,৯৬৯ টাকা, এক্স-শোরুম। বাইকটিতে রয়েছে ১৮৪.৪ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এটি ১৭ পিএস শক্তি এবং ১৫.৭ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ রয়েছে।
সাসপেনশনের জন্য ইউএসডি ফর্ক ও পিছনে মনোশক দেওয়া হয়েছে। সামনে এবং পিছনে ডিস্ক ব্রেকের সঙ্গে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে। এনএক্স২০০-এর সিট হাইট ৮১০ মিমি, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৭ মিমি এবং কার্ব ওয়েট ১৪৮ কেজি। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ১২ লিটার।
ফিচারের তালিকায় রয়েছে ৪.২ ইঞ্চি টিএফটি ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল। এতে স্পিড, ট্যাকোমিটার, ফুয়েল, গিয়ার পজিশন, ওডোমিটার, ট্রিপ মিটার এবং ঘড়ির তথ্য দেখা যায়। ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, কল অ্যালার্ট, এসএমএস নোটিফিকেশন এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্টও রয়েছে।
৫. রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০, ১,৫১,০২৫ টাকা থেকে
রেট্রো রোডস্টার পছন্দ হলে রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ অন্যতম জনপ্রিয় বিকল্প। এর দাম ১,৫১,০২৫ টাকা থেকে ১,৭১,০৭৭ টাকা। হান্টার ৩৫০-এ রয়েছে ৩৪৯ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার অয়েল-কুলড জে-সিরিজ ইঞ্জিন। এটি ২০.২ পিএস শক্তি এবং ২৭ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ।
সামনে ৪১ মিমি টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে ৬-ধাপ প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্ট-সহ টুইন শক অ্যাবজর্বার রয়েছে। ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ৩০০ মিমি এবং পিছনে ২৭০ মিমি ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস স্ট্যান্ডার্ড। হান্টার ৩৫০-এর সিট হাইট ৭৯০ মিমি, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬০ মিমি এবং কার্ব ওয়েট ১৮১ কেজি। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ক্ষমতা ১৩ লিটার। ফিচারের মধ্যে রয়েছে সেমি-ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল এবং ট্রিপার পড। ট্রিপার পডের মাধ্যমে ব্লুটুথ সংযোগ ব্যবহার করে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন পাওয়া যায়।
কোন বাইকটি আপনার জন্য?
অফ-রোড ও অ্যাডভেঞ্চার রাইডিং প্রধান লক্ষ্য হলে হিরো এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো এখনও এই তালিকার সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। বেশি শক্তি ও স্পোর্টি পারফরম্যান্স চাইলে এক্সট্রিম ২৫০আর এগিয়ে।
শহরের ব্যবহার এবং রেট্রো ডিজাইনের জন্য টিভিএস রনিন বা রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ ভালো বিকল্প হতে পারে। অ্যাডভেঞ্চার-অনুপ্রাণিত ডিজাইন ও প্রযুক্তি চাইলে হোন্ডা এনএক্স২০০ নজরে রাখা যায়। আর পেট্রোলের বদলে ইলেকট্রিক স্কুটারে যেতে চাইলে এথার ৪৫০এক্স সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা দেবে। অর্থাৎ, প্রায় একই বাজেটে শুধু দাম নয়, আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী বাইক বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন