ব্রিকসের অভিন্ন মুদ্রা নয়, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যেই জোর ভারতের - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রিকসের অভিন্ন মুদ্রা নয়, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যেই জোর ভারতের

Spread the love

নয়াদিল্লি: ব্রিকস গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির মধ্যে একটি অভিন্ন মুদ্রা চালুর (Local Currency Trade) কোনও প্রস্তাব এই মুহূর্তে নেই। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের আলোচনা চলবে। এর ফলে লেনদেনের খরচ কমানো এবং সীমান্তপারের অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব সুধাকর দলেলা।

নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলেলা স্পষ্ট করে বলেন, “এই মুহূর্তে ব্রিকসে ব্রিকস মুদ্রার কোনও প্রস্তাব নেই।” তাঁর বক্তব্যের ফলে ব্রিকসের নিজস্ব অভিন্ন মুদ্রা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে চলা জল্পনায় আপাতত জল পড়ল।

স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলবে

দলেলা জানান, ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির বিষয়টি নতুন নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই এই নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের অবস্থান অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারকে একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল লেনদেনের খরচ কমানো। তবে এর অর্থ বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদান ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে সরিয়ে দেওয়া নয়। দলেলার কথায়, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ ও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

ব্রিকস মুদ্রা নয়, পেমেন্ট ব্যবস্থায় জোর

ব্রিকসের আলোচনায় বর্তমানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সীমান্তপারের অর্থপ্রদানকে আরও দ্রুত, কম খরচের এবং নিরাপদ করার দিকে। ব্রিকস পেমেন্ট টাস্ক ফোর্স এই নিয়ে কাজ করছে। নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলির মধ্যে অর্থপ্রদান ও বার্তা আদানপ্রদানের বিভিন্ন ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ কতটা কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে ব্রিকস পেমেন্ট টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা করছে। বাস্তবসম্মত এমন অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত, কম খরচের, সহজলভ্য, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ হবে। ঘোষণাপত্রে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের জাতীয় অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব দেশের জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।

Advertisements


   


   

ডলারের উপর নির্ভরতা কমানো নিয়ে বিতর্ক

ব্রিকস সদস্য দেশগুলির স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও সমালোচনা করেছেন। গত বছর ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, যেসব দেশ মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট, স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্য কোনও নতুন অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা তৈরি করা নয়।

স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারে সওয়াল ইরানের

শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের নেতাদের অধিবেশনেও স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর জোর দেন। পেজেশকিয়ান ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তাঁর মতে, এর সঙ্গে মুদ্রার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি সামলানোর ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা সীমিত সংখ্যক মুদ্রার উপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় রাজনৈতিক ধাক্কার ক্ষেত্রে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ ও গ্যারান্টির মাধ্যমে পরিকাঠামো এবং জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একতরফা শুল্ক নিয়েও উদ্বেগ ব্রিকসের

নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে একতরফা শুল্ক এবং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিকস নেতারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা বাড়লে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এমন একতরফা পদক্ষেপ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজমের মতো একতরফা, শাস্তিমূলক ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে গোষ্ঠীটি।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের দাবি

ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের পক্ষে আবারও সওয়াল করেছে। একটি বৈষম্যহীন, উন্মুক্ত, ন্যায্য, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্পূর্ণ কার্যকর দুই-স্তরীয় বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের সভাপতিত্বে আট মাসের কাজ

দলেলা জানান, ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে গত আট মাসে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গোষ্ঠী, মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, কর্মীগোষ্ঠী, ব্যবসায়িক অধিবেশন এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে এই কাজ এগিয়েছে।

১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চলমান সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নেতারা মতপার্থক্য মেটাতে আলোচনা, কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল “বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি”, অর্থাৎ স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ তৈরি করা।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *