টেট দিতে হবে কাদের? পরীক্ষায় বসা নিয়েই ধন্দ, বিস্তর বিভ্রান্তি
এই সময়: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের যে সমস্ত কর্মরত শিক্ষক টেট পাশ করেননি, তাঁদের পরীক্ষার বন্দোবস্ত করছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কারা পরীক্ষায় বসবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে একাংশের মনে। সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চলেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।
প্রাথমিকে টেট দিতে হলে একজন প্রার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ও উচ্চ প্রাথমিকে টেট–এ বসতে হলে একজন প্রার্থীকে স্নাতকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতেই হয়। কিন্তু ২০১০–এর এপ্রিলে শিক্ষার অধিকার আইন চালুর আগে স্কুলের এই দু’টি স্তরে নিয়োগে পশ্চিমবঙ্গ–সহ অনেক রাজ্যেই এই শিক্ষাগত যোগ্যতামান ছিল না। ফলে ৫০ শতাংশের কম নম্বর পেয়েই অনেকে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা এখন টেট দিতে পারবেন তো?
এখানেই শেষ নয়। ২০১৬–র আগে এ রাজ্যে উচ্চ প্রাথমিকে স্কুল সার্ভিস কমিশন কখনও আলাদা করে শিক্ষক নিয়োগ করেনি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হতো। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যে শিক্ষকরা চাকরি পেতেন, তাঁরাই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতেন। পরবর্তীতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার জন্য উচ্চ প্রাথমিক বলে নতুন ক্যাটিগরি হয়। কিন্তু ২০১৬–র আগে যাঁরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের অনেককেই এখনও পঞ্চম থেকে অষ্টম পর্যন্ত পড়াতে হয়।
কমিশন ২০১৬ থেকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে টেট নেওয়া শুরু করে। প্রশ্ন উঠছে, তার আগে চাকরি পাওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের যে শিক্ষকদের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত ক্লাস নিতে হয়, তাঁদেরও কি পরীক্ষায় বসতে হবে? কারণ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত শিক্ষার অধিকার আইন মেনে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কর্মরত সমস্ত শিক্ষক–শিক্ষিকাদের টেট নিতে বলেছিলেন। এ দিকে বহু স্কুলেই শিক্ষকের অভাবে মূলত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকরা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেন। তাঁরা কি টেট–এ বসবেন? নাকি ২০২৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টেট নেওয়ার যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মিটলে তাঁরা শুধুই মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াবেন? এ ব্যাপারে জানতে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।