Volvo XC40, EX40 ও EC40-এ বড় আপডেট, ১১.২ ইঞ্চি স্ক্রিনে নতুন চমক - 24 Ghanta Bangla News
Home

Volvo XC40, EX40 ও EC40-এ বড় আপডেট, ১১.২ ইঞ্চি স্ক্রিনে নতুন চমক

Spread the love

গুরুগাঁও: ভলভো তাদের ৪০ সিরিজের (Volvo XC40) গাড়িগুলিতে বড়সড় আপডেট আনল। এক্সসি৪০, এক্সই৪০ এবং ইসি৪০-এর ফেসলিফটেড সংস্করণ প্রকাশ করেছে সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা সংস্থা। নতুন মডেলগুলিতে…

গুরুগাঁও: ভলভো তাদের ৪০ সিরিজের (Volvo XC40) গাড়িগুলিতে বড়সড় আপডেট আনল। এক্সসি৪০, এক্সই৪০ এবং ইসি৪০-এর ফেসলিফটেড সংস্করণ প্রকাশ করেছে সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা সংস্থা। নতুন মডেলগুলিতে খুব বড় কোনও ডিজাইন পরিবর্তন না থাকলেও বাইরের নকশায় সূক্ষ্ম সংশোধন, নতুন ইন্টেরিয়র অপশন, আপডেটেড প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করা হয়েছে। নতুন আপডেটের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ১১.২ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন এবং ঐচ্ছিক লেভেল ২ এডিএএস।

সামনের ডিজাইনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন

ফেসলিফটেড তিনটি মডেলের সামনের অংশেই কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ম্যাট্রিক্স এলইডি হেডল্যাম্পে ভলভোর পরিচিত ‘থর্স হ্যামার’ ডিআরএল ডিজাইন বজায় থাকলেও পুরো সেটআপকে আরও পরিষ্কার ও আধুনিক করা হয়েছে।

বাম্পারের ডিজাইনেও এসেছে সংশোধন। এক্সসি৪০-এর জন্য নতুন গ্রিল ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা সেটিকে ইসি৪০ এবং এক্সই৪০ থেকে আলাদা করে তুলেছে। অন্যদিকে ইসি৪০ এবং এক্সই৪০-এ গ্রিলের জায়গায় ব্ল্যাঙ্কড-অফ ডিজাইন রয়েছে।

পিছনের অংশে তুলনামূলক বেশি পরিবর্তন দেখা যায় এক্সসি৪০ এবং এক্সই৪০-এ। এই দুই মডেলে নতুন এলইডি টেল-ল্যাম্পের পাশাপাশি সংশোধিত টেলগেট ও বাম্পার দেওয়া হয়েছে।

Advertisements


   


   

তিনটি মডেলেরই অ্যালয় হুইলের ডিজাইন বদলেছে। এক্সসি৪০-এ এবার ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত অ্যালয় হুইলের বিকল্প পাওয়া যাবে। এছাড়া যারা আরও স্পোর্টি চেহারা চান, তাদের জন্য ব্ল্যাক এডিশনও রয়েছে। এই সংস্করণে গাড়ির বিভিন্ন বাইরের অংশ কালো রঙে দেওয়া হয়েছে।

volvo-xc40-ex40-ec40-facelift-11-2-inch-infotainment-level-2-adas

১১.২ ইঞ্চির স্ক্রিন, গুগল জেমিনি

ইন্টেরিয়রেও প্রযুক্তিগত আপডেট রয়েছে। আগের তুলনায় বড় ১১.২ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। এতে ভলভোর সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুগল জেমিনি। এর সাহায্যে চালক গাড়ির ইন-কার অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে আরও স্বাভাবিকভাবে কথোপকথন করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কমান্ড দেওয়ার পরিবর্তে কথোপকথনের মতো করে বিভিন্ন তথ্য বা সহায়তা চাওয়া সম্ভব হবে। ইন্টেরিয়রের জন্য নতুন আপহোলস্ট্রি এবং ডেকর অপশনও যোগ করেছে ভলভো। ফলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কেবিনের পরিবেশ আরও বেশি কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

নিরাপত্তায় আরও জোর

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন ৪০ সিরিজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। ভলভোর দাবি, তিনটি মডেলেই স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে এমন ব্যবস্থা থাকবে, যা সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে রিয়েল-টাইমে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ইমার্জেন্সি স্টিয়ারিং এবং অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং।

এর পাশাপাশি ক্রেতারা চাইলে ঐচ্ছিকভাবে লেভেল ২ এডিএএস এবং ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা বেছে নিতে পারবেন। ফলে গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স এবং পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

ভলভো জানিয়েছে, এক্সসি৪০, এক্সই৪০ এবং ইসি৪০-কে ওটিএ বা ওভার-দ্য-এয়ার আপডেটের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন ফিচারে পরিবর্তন বা উন্নতি আনা সম্ভব হবে।

পেট্রোল ও ইলেকট্রিক, দুই ধরনের পাওয়ারট্রেন

ফেসলিফটেড এক্সসি৪০-এ রয়েছে ২.০ লিটারের টার্বোচার্জড পেট্রোল ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন দুটি আলাদা টিউনিংয়ে পাওয়া যায়। লোয়ার-স্পেক সংস্করণে ইঞ্জিনটি ১৬৩ হর্সপাওয়ার এবং ২৬৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। উচ্চতর সংস্করণে পাওয়ার বেড়ে হয় ১৯৭ হর্সপাওয়ার, আর টর্ক ৩০০ নিউটন-মিটার। দুই ক্ষেত্রেই শক্তি সামনের চাকায় পৌঁছয় এবং ট্রান্সমিশনের দায়িত্বে রয়েছে ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ গিয়ারবক্স।

অন্যদিকে ইসি৪০ এবং এক্সই৪০ সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মডেল। এই দুই গাড়িতে ৬৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা থেকে ৭৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রয়েছে। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পিছনে একটি ইলেকট্রিক মোটর অথবা দুইটি মোটর ব্যবহার করা হয়। ডুয়াল-মোটর সংস্করণে অল-হুইল ড্রাইভ বা এডব্লিউডি পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ শক্তিশালী সংস্করণে ইলেকট্রিক মোটরের আউটপুট ৪৪২ হর্সপাওয়ার এবং ৬৭০ নিউটন-মিটার।

৫৮৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ

ব্যাটারি ও পাওয়ারট্রেনের উপর নির্ভর করে ইলেকট্রিক মডেলগুলির রেঞ্জও আলাদা। ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষার হিসাবে এক্সই৪০-এর সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৫৭৫ কিলোমিটার, আর ইসি৪০-এর সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৫৮৪ কিলোমিটার। ফলে নতুন ইসি৪০ এবং এক্সই৪০ শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকেই নয়, দীর্ঘ রেঞ্জের দিক থেকেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে।

ভারতে আসবে কি নতুন ইসি৪০?

ভারতের বাজারের জন্য এখনও বড় প্রশ্ন হল, ফেসলিফটেড ইসি৪০ এখানে কবে আসবে। বর্তমানে ইসি৪০-ই ভলভোর ৪০ সিরিজের একমাত্র মডেল যা ভারতে বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভলভো তাদের ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে এক্সই৪০ সরিয়ে দিয়েছে। এক্সসি৪০-ও ভারতে ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন ফেসলিফটেড ইসি৪০ ভারতে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও ভলভোর তরফে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে বিশ্ববাজারে ৪০ সিরিজের এই আপডেটের ফলে ভারতীয় বাজারেও ভলভোর বৈদ্যুতিক মডেলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *