প্রতিরক্ষা গবেষণায় উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গ! জুনপুটে DRDO র নয় কেন্দ্রের প্রস্তুতি শুরু
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (DRDO)। রাজ্য সরকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জুনপুট গ্রামে ডিআরডিওর নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পথ পরিষ্কার…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (DRDO)। রাজ্য সরকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জুনপুট গ্রামে ডিআরডিওর নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছে। এই কেন্দ্রটি ওডিশার চান্দিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ওপর চাপ কমাতে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে।জুনপুট চান্দিপুর থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত।
এখানে ৮.৭৩ একর জমিতে এই সুবিধা গড়ে তোলা হবে। (DRDO)সমুদ্রের তীরবর্তী এই অবস্থান উপকূলীয় পরীক্ষা করিডোরে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেবে। চান্দিপুর দীর্ঘদিন ধরে ভারী পরীক্ষার চাপ সামলে আসছে। নতুন এই কেন্দ্র স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার পরীক্ষার দায়িত্ব নেবে। ফলে চান্দিপুর দীর্ঘ-পরিসর ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে পারবে।এর আগে প্রকল্পে কিছু বিলম্ব হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ লাদাখকে পূর্ন রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে না! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের প্রতিবাদের হুমকি সোনমের
কিন্তু রাজ্য সরকার ও ডিআরডিওর (DRDO)সমন্বয়ের ফলে সেই বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ডিআরডিও আগেও এই প্রকল্প নিয়ে যোগাযোগ করেছিল। বর্তমান সরকার সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই উদ্যোগ এখন এগিয়ে চলছে।
Advertisements
ডিআরডিওর (DRDO)এই নতুন সুবিধা ভারতের প্রতিরক্ষা পরীক্ষা অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। চান্দিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষায় ব্যস্ত থাকে। কাজের চাপ বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত একটি স্থানের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল। জুনপুট সেই চাহিদা মেটাবে। স্বল্প-পরিসরের পরীক্ষা এখানে সম্পন্ন হলে চান্দিপুরে দীর্ঘ-পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো আরও নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হবে।
উপকূলীয় অবস্থানের কারণে এই কেন্দ্র নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হবে। স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অন্যান্য শিল্প প্রকল্পেও জমি হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিআরডিওর এই কেন্দ্র সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি অবদান রাখবে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার প্রযুক্তির পরীক্ষা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও মজবুত হবে।জুনপুট কেন্দ্র চালু হলে দুই রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে। চান্দিপুর ও জুনপুট একসঙ্গে কাজ করে পরীক্ষার সময়সূচি আরও নমনীয় করবে। এর ফলে জরুরি পরীক্ষাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ডিআরডিওর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা নতুন এই সুবিধায় কাজ করার সুযোগ পাবেন।