দিল্লিতে BRICS-এর মঞ্চে মোদীর কূটনৈতিক পরীক্ষা, মুখোমুখি পুতিন-শি-পেজেশকিয়ান - 24 Ghanta Bangla News
Home

দিল্লিতে BRICS-এর মঞ্চে মোদীর কূটনৈতিক পরীক্ষা, মুখোমুখি পুতিন-শি-পেজেশকিয়ান

Spread the love

নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। দু’দিনের এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে এক মঞ্চে বসতে চলেছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। ১১ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি…

নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। দু’দিনের এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে এক মঞ্চে বসতে চলেছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। ১১ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি ১০টি অংশীদার রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ফলে ভারতের রাজধানী এই মুহূর্তে কার্যত বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের প্রেক্ষাপট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও অস্থিরতা, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একাধিক জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি BRICS। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান BRICS-এর সদস্য হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিয়ে তেহরানের অবস্থানও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্মেলনের আগে শুক্রবারই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা সামুদ্রিক বাণিজ্য ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন।

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠকও তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে ভারত-ইরান সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, মোদীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।

Advertisements


   


   

এবারের BRICS সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আজ তাঁর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে মোদী-শি বৈঠকের দিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। BRICS-এর মঞ্চে দুই দেশের নেতার উপস্থিতি একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক সমীকরণের বার্তা বহন করতে পারে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যও এবারের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডলারের উপর নির্ভরতা কমানো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তবে সম্প্রসারিত BRICS-এর ভিতরে সদস্য দেশগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সেই কারণে ঐকমত্য তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে এবারের সম্মেলন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার বৈঠক নয়, বরং বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে BRICS-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকারও পরীক্ষা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতির নতুন সমীকরণের মধ্যে দিল্লির মঞ্চ থেকে কী বার্তা বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *