গিগ ইকোনোমিতে নয়া অধ্যায়! ৫০,০০০ ডেলিভারি বয় এখন ভারতের অর্থনীতির অংশ
নয়াদিল্লি: ভারতের গিগ ইকোনমিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। (Swiggy delivery)দেশের জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম সুইগির সঙ্গে যুক্ত ৫০হাজারেরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার এখন আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির…
নয়াদিল্লি: ভারতের গিগ ইকোনমিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। (Swiggy delivery)দেশের জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম সুইগির সঙ্গে যুক্ত ৫০হাজারেরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার এখন আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশীদার হয়ে উঠেছেন। তারা ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন বা আইটিআর দাখিল করেছেন এবং এর মাধ্যমে মোট সাড়ে ছয় কোটি টাকার রিফান্ড দাবি করেছেন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এসব ডেলিভারি পার্টনারদের মধ্যে (Swiggy delivery)তেত্রিশ শতাংশেরও বেশি প্রথমবারের মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ, যারা আগে কখনো কর ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না, তারা এখন সরকারি নথিতে নিজেদের আয়ের হিসাব জমা দিচ্ছেন। সুইগির মত প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করার মাধ্যমে তারা নিয়মিত আয়ের একটা প্রমাণ তৈরি করতে পারছেন।
আরও দেখুনঃ আধারের ঠিকানা বদলের নিয়ম: কতবার করতে পারবেন আপডেট? জানুন পদ্ধতি
এই প্রমাণই তাদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক দরজা খুলে দিচ্ছে।ডেলিভারি পার্টনারদের এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিতে এক নীরব পরিবর্তন আনছে। আগে অনেক গিগ কর্মী নগদ টাকায় কাজ করতেন এবং তাদের আয়ের কোনো সরকারি নথি থাকত না। ফলে ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড বা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার মতো সাধারণ সুবিধাগুলো থেকেও তারা বঞ্চিত থাকতেন।
Advertisements
এখন আইটিআর দাখিল করার ফলে তাদের হাতে একটা আনুষ্ঠানিক আর্থিক নথি তৈরি হচ্ছে। এই নথি দেখিয়ে তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছেন, ক্রেডিট স্কোর তৈরি করতে পারছেন এবং বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য আর্থিক সেবা সহজেই পাচ্ছেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিবর্তন শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক।
যখন বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসেন, তখন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে এবং অর্থনীতির স্বচ্ছতা বাড়ে। একই সঙ্গে গিগ কর্মীরা নিজেদের আয়ের প্রমাণ তৈরি করতে পারায় তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই এখন নিজেদের শুধু ডেলিভারি বয় হিসেবে না দেখে একজন আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
সুইগির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোম্পানি তাদের পার্টনারদের আয়কর রিটার্ন (Swiggy delivery)দাখিলে সহায়তা করেছে। অনেক ডেলিভারি পার্টনারকে কর সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা আগে জটিলতায় ভয় পেতেন, তারাও এখন সহজেই রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। এই উদ্যোগের ফলেই পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ প্রথমবার বা নিয়মিতভাবে কর ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন শহরে ডেলিভারি (Swiggy delivery)পার্টনারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন এবং নিয়মিত লেনদেন করছেন। কেউ কেউ ছোট ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। কেউ আবার সন্তানের শিক্ষা বা বাড়ি তৈরির জন্য ঋণের আবেদন করছেন। তাদের মতে, আগে শুধু নগদ আয় থাকলেও এখন হাতে কাগজপত্র থাকায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। একজন ডেলিভারি পার্টনার বলেন, আগে কেউ বিশ্বাস করত না যে আমার নিয়মিত আয় আছে। এখন আইটিআর দেখিয়ে সহজেই কাজ হচ্ছে।