লন্ডনে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বিরাট কোহলির সাক্ষাৎ
লন্ডনে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। শুক্রবারের এই সাক্ষাতে খেলাধুলা, পরিকাঠামো এবং মহারাষ্ট্র সরকারের…
লন্ডনে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। শুক্রবারের এই সাক্ষাতে খেলাধুলা, পরিকাঠামো এবং মহারাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিন্ডে।
সাক্ষাতের পর সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একনাথ শিন্ডে বিরাট কোহলিকে ‘মাটির কাছাকাছি থাকা’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, কোহলি জানতে পেরেছিলেন যে তিনি লন্ডনে রয়েছেন। এরপরই সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য দেখা করতে আসেন ভারতীয় ক্রিকেটার।
মহারাষ্ট্রের পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা
শিন্ডে জানিয়েছেন, সাক্ষাতে মহারাষ্ট্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে প্রস্তাবিত ‘থার্ড মুম্বই’ উন্নয়ন প্রকল্প, অটল সেতু, বালাসাহেব ঠাকরে সমৃদ্ধি মহামার্গ, কোস্টাল রোড এবং মেট্রো প্রকল্পের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বিরাটকে জানান তিনি। এর পাশাপাশি স্কুল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী।
শিন্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিরাট কোহলি। রাজ্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং চলতি পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও তাঁকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
Advertisements
সরকারি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা
সাক্ষাতে মহারাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়েও বিরাটের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে লাডলি বহনা প্রকল্প এবং ‘গভর্নমেন্ট অ্যাট ইয়োর ডোরস্টেপ’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন শিন্ডে। তাঁর দাবি, রাজ্য বর্তমানে জিডিপি, স্টার্টআপ, পরিকাঠামো এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। মহারাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে পড়ছে, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তরুণ প্রতিভা নিয়ে বিরাটের পরামর্শ
সাক্ষাতের আলোচনায় তরুণ প্রজন্ম এবং খেলাধুলায় প্রতিভা বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার জন্য কীভাবে প্রস্তুত করা যায় এবং তরুণ প্রতিভাকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিন্ডে।
বিরাট কোহলি এই বিষয়ে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের হাতে। তাই তাদের প্রতিভার সঠিক বিকাশ মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি গোটা দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
📍 लंडन, युनायटेड किंग्डम |
भारतीय क्रिकेट संघाचा माजी कर्णधार आणि विश्वविक्रमी फलंदाज विराट कोहली याने आज #लंडन येथे माझी सदिच्छा भेट घेतली.
यावेळी राज्यातील क्रीडा सुविधा वाढवण्यासाठी तसेच राष्ट्रीय आणि आंतरराष्ट्रीय कीर्तीचे खेळाडू तयार व्हावेत यासाठी नक्की कोणत्या सुधारणा… pic.twitter.com/DWIz842j5D
— Eknath Shinde – एकनाथ शिंदे (@mieknathshinde) September 11, 2026
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে শতরানের লক্ষ্য
এদিকে ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলির সামনে রয়েছে আরও একটি বড় লক্ষ্য। ওয়ানডেতে ১০০টি আন্তর্জাতিক শতরানের মাইলফলক স্পর্শের দৌড় চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চলতি বছরে ওয়ানডেতে এখনও পর্যন্ত ছয় ইনিংসে ৩৮৪ রান করেছেন বিরাট। তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৪.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৬-এর বেশি। এর মধ্যে রয়েছে একটি শতরান এবং তিনটি অর্ধশতরান। আগস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজেও খেলেছেন বিরাট। তিন ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৪৪ রান, যার মধ্যে ছিল দুটি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ স্কোর ৭৪।
১৫ হাজার ওয়ানডে রানের সামনে বিরাট
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। তিন ম্যাচের এই সিরিজে বিরাটের সামনে আন্তর্জাতিক শতরানের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। বর্তমানে তাঁর আন্তর্জাতিক শতরানের সংখ্যা ৮৫। ফলে ১০০ শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করতে আরও ১৫টি শতরান প্রয়োজন। এই কৃতিত্ব এখনও পর্যন্ত শুধু সচিন তেন্ডুলকরই অর্জন করেছেন।
পাশাপাশি ওয়ানডেতে ১৫,০০০ রানের মাইলফলক থেকেও খুব কাছে রয়েছেন বিরাট। ৩১৪টি ওয়ানডেতে ৩০২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৪,৯৪১ রান। ব্যাটিং গড় ৫৮.৫৯। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৫৪টি শতরান এবং ৭৯টি অর্ধশতরান।
অর্থাৎ আর মাত্র ৫৯ রান করলেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ১৫,০০০ রানের ক্লাবে ঢুকে পড়বেন বিরাট কোহলি। ৩৭ বছর বয়সেও তাই ভারতীয় তারকার সামনে রয়েছে একাধিক বড় ব্যক্তিগত মাইলফলক।