ধাঁধায় পড়েছে বিজ্ঞানীরা, দ্রুত ছোট হচ্ছে সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ
Mercury Shrinking: বুধ হলো সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ। বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতের তুলনায় গ্রহটি সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি বিজ্ঞানীদের ধাঁধায় ফেলেছে। এই ঘটনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য…
Mercury Shrinking: বুধ হলো সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ। বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতের তুলনায় গ্রহটি সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি বিজ্ঞানীদের ধাঁধায় ফেলেছে। এই ঘটনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জার্মানির ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’ (Geophysical Research Letters) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। প্রচণ্ড তাপমাত্রার অধিকারী সূর্যের থেকে এর গড় দূরত্ব হলো ৩ কোটি ৬০ লক্ষ মাইল। বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় বুধের এই সংকুচিত হয়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন।
এই গ্রহটি শিলাময়। এটি প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে মূলত ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধূলিকণা থেকে গঠিত হয়েছিল। সৌরজগতের শুরুর সময়টা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল; তখন সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণরত অসংখ্য মহাজাগতিক শিলাখণ্ড প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো – যা সেই সময়ে ছিল একটি অতি সাধারণ ঘটনা। একটি নতুন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বুধ গ্রহের ব্যাসার্ধের তারতম্য ৭.২ মাইল (১১.৬ কিলোমিটার) পর্যন্ত হতে পারে; অথচ আগের গবেষণায় এই পরিসরটি মাত্র ০.৬ থেকে ৪.৩ মাইল বলে ধারণা করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, সদ্য গঠিত গ্রহগুলোর অভ্যন্তরে প্রচুর তাপ থাকে। এগুলোর ভিতরে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। তবে তাপের আরও উল্লেখযোগ্য উৎস রয়েছে; বিভিন্ন সংঘর্ষের ফলে নির্গত শক্তি আরও বেশি তাপ উৎপন্ন করে। সময়ের সাথে সাথে এই গ্রহগুলো তাপ হারালে বুধের মতো গ্রহের অভ্যন্তরীণ অংশ সংকুচিত হতে থাকে।
কী কারণে এই সংকোচন ঘটে?
বুধ গ্রহের ফাটল-ধরা পৃষ্ঠতলে সংকোচনের এমন অনেক চিহ্ন রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই শৈলশিরা ও পাথুরে খাড়া ঢালগুলোকে ‘সংকোচনজনিত কাঠামো’ (shortening structures) হিসেবে অভিহিত করেন। এর মধ্যে কোনো কোনও খাড়া ঢাল এক মাইল (১.৬ কিলোমিটার) পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং শত শত মাইল জুড়ে বিস্তৃত থাকতে পারে। তবে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর ক্রমাগত আঘাতের ফলেও বুধের পৃষ্ঠতলে গর্ত বা ‘ইমপ্যাক্ট ক্রেটার’ তৈরি হয়েছে – ঠিক যেমনটা দেখা যায় পৃথিবীর চাঁদের গায়ে।
Advertisements
বুধ গ্রহের বন্ধুর পৃষ্ঠতলে সংকোচনজনিত বিভিন্ন চিহ্ন বা নিদর্শন রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই শৈলশিরা ও পাথুরে খাড়া ঢালগুলোকে ‘সংকোচনজনিত বৈশিষ্ট্য’ (contractional features) হিসেবে অভিহিত করেন। এর মধ্যে কোনো কোনো খাড়া ঢাল এক মাইল (১.৬ কিলোমিটার) পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং শত শত মাইল জুড়ে বিস্তৃত থাকতে পারে। তবে বুধ গ্রহ গ্রহাণু ও ধূমকেতুর আঘাতেরও শিকার হয়েছে; এর ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠতলে সৃষ্টি হয়েছে নানা গহ্বর বা ‘ইমপ্যাক্ট ক্রেটার’- ঠিক যেমনটা দেখা যায় পৃথিবীর চাঁদের গায়ে।
পরিবর্তনটি কী হবে?
বুধ গ্রহ যদি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়ে থাকে, তবে তা ইঙ্গিত দেয় যে এর ধাতব কেন্দ্রকটি হয়তো আগে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে বড় এবং এতে সিলিকনের মতো হালকা উপাদানের পরিমাণ কম। এই ফলাফলটি নির্দেশ করবে যে গ্রহটির প্রাথমিক তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি। এছাড়া এটি বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র, আগ্নেয়গিরি-সংক্রান্ত ইতিহাস এবং অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।
সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে অবস্থিত ‘সেরেস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেস’-এর ভূতাত্ত্বিক ড. কেলসি ক্রেন বলেন, “মহাকাশযানটিতে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো মাধ্যাকর্ষণজনিত অসামঞ্জস্য শনাক্ত করবে, ভূত্বকের পুরুত্ব ও অভ্যন্তরীণ গঠন বিষয়ক হিসাব আরও নিখুঁত করবে এবং গ্রহটির পৃষ্ঠতলে বিদ্যমান বিভিন্ন মৌল ও খনিজ পদার্থ চিহ্নিত করবে। এই সব তথ্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে; এগুলো বিজ্ঞানীদের গ্রহটির বিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য নতুন সব প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।”