চিনে প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত বেড়ে ১৬, সরানো হল ১৮ হাজার
দক্ষিণ-পূর্ব চিনের জিয়াংসি প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট ভূমিধসে (China Landslide) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে বৃষ্টির কারণে একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধস…
দক্ষিণ-পূর্ব চিনের জিয়াংসি প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট ভূমিধসে (China Landslide) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে বৃষ্টির কারণে একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধস নামে। উদ্ধারকারী দল আরও একটি দেহ উদ্ধার করার পর বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিয়াংসি প্রদেশের সুইচুয়ান কাউন্টি। সেখানে টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। টাইফুন সাউডেল চিনের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ওই অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
তিনটি শহরে প্রাণহানি
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম CCTV জানিয়েছে, সুইচুয়ান কাউন্টির তিনটি শহরে এই ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে। গাওপিং শহরে একটি ভয়াবহ কাদাধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জুওআন শহরে দু’জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। টাংহু শহরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারীরা দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালানোর সময় নতুন করে একটি দেহ খুঁজে পান। এরপরই জিয়াংসি প্রদেশে ভূমিধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ও নিচু এলাকাগুলিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি কাদাধস বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
১৮,০০০-এর বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুইচুয়ান কাউন্টিতে ১৮,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য জানিয়েছে। বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
Advertisements
হুনানেও প্রাণহানি
টাইফুন সাউডেলের প্রভাবে প্রতিবেশী হুনান প্রদেশেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। CCTV-এর প্রতিবেদনে ওই দু’জনের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনের কারণে হওয়া বৃষ্টিতে ভূমিধসসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি হয়েছে। ফলে জিয়াংসি ও হুনান, দুই অভ্যন্তরীণ প্রদেশেই টাইফুন-পরবর্তী ভারী বৃষ্টির প্রভাব দেখা দিয়েছে।
একাধিকবার চিনে আছড়ে পড়ে সাউডেল
টাইফুন সাউডেল চিনের পূর্ব উপকূলে একাধিকবার প্রভাব ফেলেছে। ২৮ আগস্ট এটি ঝেজিয়াং প্রদেশে দু’বার স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর ফুজিয়ান প্রদেশে তৃতীয়বারের মতো ট্রপিক্যাল স্টর্ম হিসেবে স্থলভাগে প্রবেশ করে।
ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান চিনের পূর্ব উপকূলীয় প্রদেশ। অন্যদিকে জিয়াংসি ও হুনান উপকূল থেকে আরও ভেতরের দিকে অবস্থিত। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব কমে যাওয়ার পরও এর সঙ্গে যুক্ত ভারী বৃষ্টি অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
টানা বৃষ্টির ফলে মাটি ও পাহাড়ি ঢালে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। জিয়াংসির সুইচুয়ান কাউন্টিতে সাম্প্রতিক প্রাণহানি সেই পরিস্থিতিরই ভয়াবহ দিক তুলে ধরেছে।
বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তার কারণে বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন