কী রয়েছে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত অনুচ্ছেদ ৩৭১(কে)-তে? লাদাখ সংকটে নতুন মোড়
নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালের পর থেকেই লাদাখের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সেখানকার মানুষের নিজস্ব অধিকার ও শাসনক্ষমতা নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার বড়সড় প্রস্তাব দিল…
নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালের পর থেকেই লাদাখের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সেখানকার মানুষের নিজস্ব অধিকার ও শাসনক্ষমতা নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার বড়সড় প্রস্তাব দিল কেন্দ্র৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) এবং লাদাখের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক দফার বৈঠকে একটি নতুন সাংবিধানিক বিধান, ‘অনুচ্ছেদ ৩৭১(কে)’ (Article 371K), চালু করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ জমি, সংস্কৃতি, ভাষা, বনভূমি, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আরও বেশি আইনি সুরক্ষা ও বিধানসভার মতো ক্ষমতা পেতে পারে।
২০১৯ সালের আগস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে লাদাখকে বিধানসভাবিহীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জনতা পূর্ণ রাজ্যমর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তি এবং জমি-চাকরির সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। লেহ অ্যাপেক্স বডি (Leh Apex Body) এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (Kargil Democratic Alliance)-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কেন্দ্র এই মধ্যপন্থা বা বিকল্প মডেলের প্রস্তাব দিয়েছে।
সংবিধানের বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ সুরক্ষার জন্য যেভাবে ৩৭১ থেকে ৩৭১-এর জে (J) পর্যন্ত অনুচ্ছেদ রয়েছে, ঠিক তেমনি লাদাখের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি ‘অনুচ্ছেদ ৩৭১(কে)’ যুক্ত করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাদাখে সরাসরি নির্বাচিত একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-স্তরীয় (UT-level) সংস্থা গঠিত হতে পারে, যার নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে। তবে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত কোনো আইন নয়, এর জন্য সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে ক্ষমতার পরিধি নিয়ে। অর্থাৎ, নতুন এই নির্বাচিত সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কতটা আইন প্রণয়ন করতে পারবে, উপরাজ্যপাল (LG) ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার বণ্টন ঠিক কী রকম হবে এবং আইন-শৃঙ্খলার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাছাড়া, লাদাখের সমস্ত জেলায় নতুন করে স্বায়ত্তশাসিত পাহাড়ি উন্নয়ন পরিষদ (Hill Development Councils) গঠনের যে উদ্যোগ কেন্দ্র নিয়েছে, তার সঙ্গে এই নতুন কাঠামোর পারস্পরিক সম্পর্ক কী হবে, তাও একটি বড় বিষয়।
Advertisements
চরম সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
লাদাখের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ রাজ্যমর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবি তুললেও, কেন্দ্রের এই ‘অনুচ্ছেদ ৩৭১(কে)’-এর প্রস্তাবকে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার সূত্র হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি লাদাখবাসীদের হাতে জমি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় উন্নয়নের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে পারবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে খসড়ায় চূড়ান্ত আইনি ক্ষমতার পরিধি কতখানি রাখা হয় তার ওপর।
গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে হতে পারে মোদী- জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
দক্ষিণ ভারতের রেল পরিবহনে ১০,০২১ কোটি অনুমোদন! এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর