BrahMos ঠেকাতে পাকিস্তানের নতুন ঢাল, HQ-17A ও KORKUT-এ বাড়ছে প্রতিরক্ষা - 24 Ghanta Bangla News
Home

BrahMos ঠেকাতে পাকিস্তানের নতুন ঢাল, HQ-17A ও KORKUT-এ বাড়ছে প্রতিরক্ষা

Spread the love

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস এবং এয়ার ডিফেন্স পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে…

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস এবং এয়ার ডিফেন্স পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ার ফোর্স বা PAF দাবি করেছে, সম্প্রতি তারা নতুন কয়েক ধরনের অস্ত্র ও ক্লোজ-ইন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সংগ্রহ করেছে। ভবিষ্যতে ভারতের মতো দূরপাল্লার বিমান হামলা মোকাবিলায় এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান ডে উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে নতুন অস্ত্রগুলির কয়েকটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এগুলির মধ্যে রয়েছে চিনের HQ-17A এবং তুরস্কের তৈরি KORKUT এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।

Operation Sindoor-এ পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্সে ধাক্কা

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানের চিনা উৎসের HQ-16 সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বা SAM সিস্টেমের রাডার ধ্বংস হওয়ার দাবি সামনে এসেছিল। এর পরেই পাকিস্তান নিজেদের এয়ারবেসগুলিকে আরও সুরক্ষিত করতে স্বল্পপাল্লার এবং ক্লোজ-ইন এয়ার ডিফেন্সের উপর জোর দিচ্ছে। নতুন সিস্টেমগুলির লক্ষ্য মূলত বিমানঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোর কাছাকাছি এলাকায় আসা শত্রুর বিমান, ড্রোন এবং মিসাইলকে আটকানো।

Read More: 

Advertisements


   


   

HQ-17A কতটা শক্তিশালী?

নতুন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম হল HQ-17A। এটি রাশিয়ার Tor-M1 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের নকশার উপর ভিত্তি করে চিনের তৈরি একটি ব্যবস্থা। এটি সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম স্বল্পপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম। মূলত কম থেকে মাঝারি উচ্চতায় উড়তে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। HQ-17A দিয়ে বিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করা যায়। এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং এটি ৩৫,০০০ ফুটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর পাল্লা সীমিত হওয়ায় দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

BrahMos-এর মতো মিসাইলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে BrahMos-এর মতো সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলকে HQ-17A কতটা সময়ের মধ্যে শনাক্ত করতে পারবে, তা নিয়ে। BrahMos প্রায় ম্যাক ৩ গতিতে অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় ভূখণ্ডের কাছাকাছি দিয়ে উড়তে পারে। এই ধরনের দ্রুতগতির ও লো-অল্টিটিউড মিসাইলকে রাডারে তুলনামূলক দেরিতে শনাক্ত করা গেলে প্রতিক্রিয়ার সময়ও অত্যন্ত কমে যায়। ফলে HQ-17A কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি শেষ স্তরের প্রতিরক্ষা দিতে পারলেও BrahMos-এর মতো অস্ত্রকে অনেক দূর থেকে আটকানোর ক্ষমতা তার নেই।

Read More: 

ভারতের Rudram-ও বড় চ্যালেঞ্জ

ভারত একইসঙ্গে Rudram সিরিজের অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল বা ARM তৈরি করছে। এই ধরনের মিসাইলের মূল লক্ষ্য হল শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের রাডার। রাডার যে জায়গা থেকে শত্রুর বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করছে, সেই রেডিয়েশনকে অনুসরণ করে অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল তার রাডার অ্যারেকে আঘাত করতে পারে। ফলে কোনও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মিসাইল লঞ্চার অক্ষত থাকলেও তার রাডার ধ্বংস হলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

তুরস্কের KORKUT-ও পাকিস্তানের নতুন ঢাল

পাকিস্তান আরও একটি নতুন ক্লোজ-ইন এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা হিসেবে তুরস্কের তৈরি KORKUT সংগ্রহ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তুরস্কের আসেলসান তৈরি এই সিস্টেমে রয়েছে ৩৫ মিমি স্বয়ংচালিত অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান। এতে সুইস নকশার দুটি ৩৫ মিমি কামান ব্যবহার করা হয় এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৪ কিলোমিটার।

ড্রোন এবং বিশেষ করে ড্রোন সোয়ার্ম মোকাবিলায় এই ধরনের বন্দুকভিত্তিক প্রতিরক্ষা কার্যকর হতে পারে। অল্প দূরত্বে দ্রুতগতিতে একাধিক ছোট ড্রোন এগিয়ে এলে মিসাইলের তুলনায় কামানভিত্তিক ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। পাকিস্তান আগে থেকেই সুইস প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করায় KORKUT-এর গোলাবারুদ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান লজিস্টিক পরিকাঠামো কাজে লাগানোর সুবিধাও পেতে পারে।

একাধিক স্তরের এয়ার ডিফেন্স তৈরির চেষ্টা

নতুন অস্ত্রগুলি পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্সকে একেবারে অপ্রতিরোধ্য করে দেবে এমন নয়। বরং HQ-17A, KORKUT এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে মোতায়েন করে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছিল। কিন্তু ভারতীয় অস্ত্র ও হামলার কৌশলের বিরুদ্ধে সেগুলি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে দাবি করা হয়েছিল।

ভারতীয় বায়ুসেনা অস্ত্রের ধরন, হামলার সময়, লক্ষ্য নির্বাচন এবং বিভিন্ন কৌশলের সমন্বয় করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

উত্তর থেকে দক্ষিণে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা

পাকিস্তানের ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যর্থ হামলার পর ভারতীয় বায়ুসেনা পাল্টা আঘাত হানে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানের বিভিন্ন এয়ারবেস, এয়ার ডিফেন্স সাইট এবং আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার লক্ষ্যবস্তু হয়। উত্তরে নূর খান এয়ারবেস থেকে দক্ষিণে করাচির মালির ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এর পরেই পাকিস্তানের নতুন অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে নতুন HQ-17A বা KORKUT ভবিষ্যতে ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে শুধু অস্ত্রের ক্ষমতার উপর নয়, রাডার নেটওয়ার্ক, সেন্সর, কমান্ড সিস্টেম, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কৌশলের উপরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *