সাক্ষরতার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল কংগ্রেস শাসিত রাজ্য হিমাচল
হিমাচল প্রদেশ ভারতের শিক্ষা মানচিত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে। (Himachal)রাজ্যটি এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার পৌঁছেছে ৯৯.৫৫ শতাংশে। শুধু গোয়ার…
হিমাচল প্রদেশ ভারতের শিক্ষা মানচিত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে। (Himachal)রাজ্যটি এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার পৌঁছেছে ৯৯.৫৫ শতাংশে। শুধু গোয়ার পরেই এই অবস্থান। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে নয়াদিল্লিতে এই অর্জনের জন্য
জাতীয় সম্মাননাও পেয়েছে হিমাচল। শিক্ষামন্ত্রী রোহিত ঠাকুর রাজ্যের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।এই সাফল্য একদিনে আসেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে হিমাচলের সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৭.৯৮ শতাংশ। ধাপে ধাপে তা বেড়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে তা ৮২.৮০ শতাংশে পৌঁছায়। গত বছর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যকে পূর্ণ সাক্ষর ঘোষণা করা হয় যখন হার ছিল ৯৯.৩ শতাংশ।
আরও দেখুনঃ কংগ্রেসের আপত্তি উড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময়ে দাঁড়িয়ে সম্মান ওমর-ফারুকের
এবার তা আরও বেড়ে ৯৯.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। (Himachal)লক্ষ্য এখন ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন।এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে নিউ ইন্ডিয়া লিটারেসি প্রোগ্রাম বা উল্লাস। ২০২৩-২৪ সাল থেকে হিমাচলে এই কর্মসূচি চালু হয় এবং রাজ্যের সবকটি ১২ জেলায় তা সম্প্রসারিত হয়। প্রায় ৯৪,৯৩০ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে উল্লাস পোর্টালে নিবন্ধন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে ১৯,২৩২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
Advertisements
মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাতত্ত্বের মূল্যায়ন পরীক্ষায়ও ভালো ফল এসেছে।পাহাড়ি রাজ্য হিমাচলে শিক্ষা বিস্তারে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। দুর্গম এলাকা, বিক্ষিপ্ত জনবসতি, আবহাওয়ার প্রভাব সবকিছু মানিয়ে নিয়ে শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করেছেন। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে মহিলা ও বয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন শুধু পড়া ও লেখা নয়, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও জীবিকা উপযোগী দক্ষতা অর্জনের দিকেও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এই অর্জন শুধু সংখ্যার খেলা নয়। (Himachal)সাক্ষরতা মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ায়, সচেতনতা আনে এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে। হিমাচলের মানুষ এখন আরও আত্মবিশ্বাসী। শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলার এই যাত্রা অন্যান্য রাজ্যের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এখন লক্ষ্য টেকসই সাক্ষরতা বজায় রাখা এবং আজীবন শিক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে এই সম্মাননা সেই প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।