নামেও ভেজাল! লাইসেন্স বাতিল হিন্দু দোকানের আড়ালে মুসলিম মালিক
কলকাতা: চলতি মাসের শুরুর দিন থেকেই নামকরা মিষ্টি এবং খাবারের (food shop)দোকানে অভিযান শুরু করেছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। এইসব দোকানে অভিযানে গিয়ে পাওয়া গিয়েছে পচা…
কলকাতা: চলতি মাসের শুরুর দিন থেকেই নামকরা মিষ্টি এবং খাবারের (food shop)দোকানে অভিযান শুরু করেছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। এইসব দোকানে অভিযানে গিয়ে পাওয়া গিয়েছে পচা খাবার এবং ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া খাদ্য বস্তু। খাদ্য দফতরের এই অভিযানেই ব্যবসা বন্ধের মুখে ৪০ টি দোকান। তবে সূত্র মারফত বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।
সেই তথ্য অনুযায়ী দেখা গিয়েছে এই সব দোকানের শুধু খাবারেই ভেজাল তা নয়। (food shop)জানা গিয়েছে দোকানের নাম হিন্দু দেবদেবী বা হিন্দুদের নামে রাখলেও আদতে এই দোকানের মালিকরা প্রত্যেকেই মুসলমান এবং দীর্ঘ বছর ধরে মুসলিম মালিকানা গোপন রেখে দোকানের হিন্দু নাম রেখে দিব্বি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও দেখুনঃ খাদ্যের পর এবার শহরের ওষুধের দোকানে হানা, বড়বাজারে শুরু তল্লাশি অভিযান
খাদ্য দফতরের নথি অনুযায়ী, বেশ কিছু উদাহরণের মধ্যে উঠে এসেছে শহরের মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারির নাম। এই বেকারিটির আসল মালিকের নাম সোফিয়া খাতুন। (food shop)বেকারি পরিদর্শনের সময় প্রসেসিং এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে একটি বিড়াল উপস্থিত ছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি পেস্ট কন্ট্রোল সংক্রান্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা বা তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং আরশোলার উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাসপেনশনের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
Advertisements
দ্বিতীয় উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে শ্রীকৃষ্ণ সুইটস নামের একটি দোকান। এই দোকানের মালিক আবার রিফাত নওয়াজ উল ইসলাম। এই দোকানেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিদর্শন রিপোর্টে বলা হয়েছে, উন্নয়ন বা সংশোধন সংক্রান্ত নোটিসের জবাব দেওয়া হয়নি। দোকানে বৈধ FSSAI লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয়নি এবং Food Safety Display Board-ও দেখা যায়নি।
এছাড়া সরঞ্জাম পরিষ্কারের কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি। (food shop)এই ধরনের নিয়মভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট Designated Officer-এর কাছে সাসপেনশন অর্ডারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আসল মালিকানা গোপন রেখে সম্পূর্ণ হিন্দু দেবতার নাম করে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া।
এদিকে অভিযোগের তীর বলরাম মল্লিক এবং রাধারামণ মল্লিকের প্রতিষ্ঠানের দিকেও। এই ঐতিহ্যবাহী সংস্থাটির মালিক সেই রিফাত নওয়াজ উল ইসলাম। এই দোকানেও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। খাদ্যকর্মীদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাকরণের নথি পাওয়া যায়নি। ফ্রিজে রাখা প্রস্তুত বা আধা-প্রস্তুত খাবারে তারিখের ট্যাগ ছিল না।
ব্যবহৃত রান্নার তেল কীভাবে শেষ করা হয়েছে, তার কোনও নথিও পাওয়া যায়নি।(food shop) ঢাকনাবিহীন ডাস্টবিন, তাপমাত্রা স্পষ্টভাবে দেখার ব্যবস্থা না থাকা এবং খাদ্যকর্মীদের হেডগিয়ার বা অ্যাপ্রন না পরার মতো বিষয়ও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কিছু খাবার ঢেকে না রেখে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ধরণের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই সরব হয়েছেন রাজনৈতিক থেকে সামাজিক মহলের একাংশ। তাদের মতে এমনিতেই দোকানে খাবার তৈরির নিয়ম মানা হয়নি এবং তার থেকেই মারাত্মক আসল মালিকানা গোপন করে হিন্দু দেবদেবীদের নাম করে ব্যবসা চালানো। এই মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকেই এইসব দোকানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন দেখার বিষয় খাদ্য দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নাম ভাঁড়ানো দোকান মালিকদের কি শাস্তিবিধান করে।