Maa Mashi Kitchen: শেষ সময়ে মোবাইলে কী লিখেছিলেন ‘মা-মাসি কিচেন’-এর মেসোমশাই? | Maa masi kitchen dadu jyotiprasad basu passes away wife breaks silence on final days and emotional last note
জ্যোতিপ্রসাদ বসু (Jyotiprasad Basu), যাঁর হাসিমুখ আর স্ত্রীর হাতের রান্নার মিষ্টি প্রশংসা মন জয় করেছিল লাখ লাখ দর্শকের। সোশাল মিডিয়ার অত্যন্ত পরিচিত পেজ ‘মা-মাসি কিচেন’-এর মেসোমশাই আর মাসির জুটিকে চেনেন না এমন মানুষ কমই আছেন। গত ১৩ অগস্ট নিভে গিয়েছে সেই হাসিমুখ। প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে প্রায় ২৬ দিন পর ক্যামেরার সামনে এসে ভেঙে পড়লেন তাঁর স্ত্রী সুমিতা বসু। বুকভাঙ্গা কান্না চেপে শোনালেন শেষ কয়েকটা দিনের কষ্টের কথা।
কী বলেছেন তিনি?
সুমিতা জানান, বহু বছর ধরে ফুসফুসের জটিল অসুখ সিওপিডি (COPD)-তে ভুগছিলেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। প্রথম দিকে একটু অবহেলা করেছিলেন, ঠিকমতো ইনহেলার নিতেন না। ২০১৮ সালেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, রোগটি একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। গত বছর ডাক্তাররা তো বলেই দিয়েছিলেন যে হাতে আর বেশি দিন সময় নেই। কিন্তু তাঁর মনের জোর ছিল দেখার মতো। হাজার কষ্টে ভুগেও কখনও বলেননি যে তিনি আর বাঁচতে চান না। সবসময় বিশ্বাস করতেন, ঠিক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। শরীর খারাপ হলেও শুয়ে-বসে থাকতেন না, সংসারের সমস্ত কাজকর্ম সামলে দিতেন।
হঠাৎ করেই গত ৭ অগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। দুপুরে খাওয়ার পরেই শরীর খারাপ লাগায় তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক নেমে গিয়েছিল।
হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়েও নিজের কষ্ট ভুলে স্ত্রীর কথা ভাবছিলেন তিনি। স্ত্রীকে বলেছিলেন, “আমি হাসপাতালে ভর্তি হলাম, তোমার কাজকর্মের কী হবে?” তিন দিনের মাথায় মেয়ের হাতে একটি কাগজ লিখে দেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। সেখানে সংসারের কোথায় কী জিনিস আছে, কী করতে হবে, সব বুঝিয়ে লিখে দিয়েছিলেন।
১১ অগস্ট কিছু একটা বলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন তিনি। কথা স্পষ্ট না হওয়ায় মেয়ে তাঁর হাতে মোবাইল তুলে দেন। তখন কাঁপাকাঁপা হাতে মোবাইলে তিনি লেখেন, “ডাক্তারবাবুকে বলবি ওয়ার্ডে ট্রান্সফার করা যায় কি না বিবেচনা করতে।” কিন্তু আর ফেরা হল না। সে দিনই বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়।
শেষ বিদায়ের দিনের কথা মনে করে তাঁর স্ত্রী বলেন, ১৩ তারিখ বিকেলে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে ডাক দিতেই বড় বড় চোখ করে অদ্ভুতভাবে তাকিয়েছিলেন তিনি। তার কিছুক্ষণ পরেই থেমে যায় সব লড়াই। প্রাণখোলা সেই তৃপ্তির হাসি আর দেখা যাবে না, এই সত্যিটা এখনও মানতে পারছেন না তাঁদের ভক্তরা।