ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা নিয়ে আসতে চলেছে মাস্কের ষ্টারলিংক
নয়াদিল্লি: ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবার দ্বার খুলতে চলেছে।(Starlink satellite) মোদী সরকার ট্রাইয়ের স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইলন মাস্কের স্টারলিংকসহ অন্যান্য স্যাটেলাইট…
নয়াদিল্লি: ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবার দ্বার খুলতে চলেছে।(Starlink satellite) মোদী সরকার ট্রাইয়ের স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইলন মাস্কের স্টারলিংকসহ অন্যান্য স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রদানকারীরা ভারতে স্পেকট্রাম পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাইয়ের সুপারিশ অনুযায়ী স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বরাদ্দের (Starlink satellite)কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ায় এখন বেসরকারি সংস্থাগুলো আবেদন করতে পারবে। স্টারলিংক ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। ভারতেও এই পরিষেবা চালু হলে পাহাড়ি এলাকা, দ্বীপপুঞ্জ এবং দুর্গম অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।
আরও দেখুনঃ ফের ভারত-বাংলাদেশ যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে রেল কর্মকর্তাদের ত্রি-দিবসীয় বৈঠক
স্থলভাগের অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছানো কঠিন এমন জায়গাগুলোতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট (Starlink satellite)একমাত্র ভরসা হতে পারে।তবে ভারত শুধু বিদেশি পরিষেবার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। দেশীয় প্রতিযোগিতা তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। রিলায়েন্স জিও ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৬০০ লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের টেস্ট ফ্লাইটের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জিওর এই পরিকল্পনা সফল হলে ভারতীয় আকাশসীমায় দেশীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
Advertisements
এর ফলে শুধু বিদেশি অপারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা (Starlink satellite)কমবে এবং দেশীয় প্রযুক্তি ও শিল্পের বিকাশ ঘটবে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন একক বিদেশি স্যাটেলাইট অপারেটরের হাতে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলে দিতে সতর্ক হয়ে উঠেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অনেক দেশ বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। ভারতও সেই পথেই হাঁটছে। স্টারলিংককে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জিওর মতো দেশীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত করে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এতে ভারতের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং কোনো একক সংস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না।
স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের (Starlink satellite)সম্ভাবনা বিশাল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় কোম্পানিগুলো যাতে প্রযুক্তি উন্নয়নে এগিয়ে আসে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
স্টারলিংক ভারতে এলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এর ফলে পরিষেবার মান উন্নত হবে এবং মূল্য সাশ্রয়ী হতে পারে। অন্যদিকে জিওর স্যাটেলাইট প্রকল্প সফল হলে ভারত নিজস্ব লো আর্থ অরবিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মহাকাশ ও টেলিকম শিল্পের জন্য বড় অর্জন হবে। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেকট্রাম কাঠামো অনুমোদনের ফলে (Starlink satellite)এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্রুত লাইসেন্স প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। নিরাপত্তা পরীক্ষা, তথ্য সুরক্ষা এবং স্থানীয় নিয়মকানুন মেনেই বিদেশি সংস্থাগুলোকে অনুমতি দেওয়া হবে। ভারত কোনো একক অপারেটরের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প তৈরি করে রাখছে। এতে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।