ইউক্রেনের Koral Missile প্রকাশ্যে, ব্যালিস্টিক হামলা ঠেকাতেও তৈরি
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইউক্রেন। এবার প্রথমবার প্রকাশ্যে আনা হল ইউক্রেনের তৈরি Koral…
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইউক্রেন। এবার প্রথমবার প্রকাশ্যে আনা হল ইউক্রেনের তৈরি Koral সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের (Koral Missile) লঞ্চার। নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক লক্ষ্যবস্তু intercept করার জন্যও তৈরি করা হচ্ছে।
পোল্যান্ডে আয়োজিত MSPO প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ৮ সেপ্টেম্বর Koral-এর লঞ্চার প্রদর্শন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম Militarnyi।
Tatra ট্রাকে বসানো লঞ্চার
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, একটি Koral ক্ষেপণাস্ত্র স্বচালিত প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটি চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি Tatra ট্রাকের উপর বসানো হয়েছে। Koral-এর মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি ধ্বংস করা। এর মধ্যে বিমান এবং ব্যালিস্টিক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে নির্মাতাদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাডারে শনাক্ত করা স্থল বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
৪৫০ কেজি ওজন, ৩৬ কেজির ওয়ারহেড
Koral-এর সর্বশেষ সংস্করণটির ওজন প্রায় ৪৫০ কেজি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬ কেজি ওজনের ওয়ারহেড। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৮ মিটার এবং এর বডির ব্যাস ২৩০/৩০০ মিমি। গাইডেন্স সিস্টেমের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়েছে। এতে রয়েছে:
Advertisements
- ইনর্শিয়াল নেভিগেশন
- রেডিও-কমান্ড আপডেট
- অ্যাক্টিভ রাডার সিকার
এর ফলে উড়ানের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি বাইরের উৎস থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধন পেতে পারে। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছনোর শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব অ্যাক্টিভ রাডার সিকার লক্ষ্য অনুসরণ করে সেটিকে আঘাত করার জন্য নির্দেশনা দেয়।
২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল Koral প্রকল্প
Koral কোনও সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প নয়। এর উন্নয়ন শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন এটি একটি জাহাজভিত্তিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-র অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটির নকশা ও উদ্দেশ্যে বড় পরিবর্তন এসেছে।
প্রাথমিক সংস্করণের তুলনায় বর্তমান Koral অনেকটাই বড়। নতুন সংস্করণটি প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ভারী এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্যও বেড়েছে। একই সঙ্গে ওয়ারহেডের ওজনও ২৫ কেজি থেকে বেড়ে ৩৬ কেজি করা হয়েছে। তবে বর্তমান Koral-এর সর্বোচ্চ পাল্লা কত, তা ইউক্রেন এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি।
বিভিন্ন ধরনের সংস্করণের পরিকল্পনা ছিল
Koral-কে শুরু থেকেই ইউক্রেনের একটি বড় বায়ু প্রতিরক্ষা পরিবারের অংশ হিসেবে ভাবা হয়েছিল। বিভিন্ন পাল্লার জন্য আলাদা সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থলভিত্তিক এবং নৌবাহিনীর জন্য সংস্করণ তৈরির বিষয়েও কাজ করা হয়েছিল। এমনকি ভবিষ্যতে এর একটি এয়ার-টু-এয়ার সংস্করণ তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে যে Koral প্রকাশ্যে এসেছে, সেটি মূলত স্থলভিত্তিক সারফেস-টু-এয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবেই সামনে এসেছে।
ব্যালিস্টিক হুমকি মোকাবিলায় নজর
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য বায়ু প্রতিরক্ষা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অগ্রাধিকার। রাশিয়ার বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে কিয়েভ। সেই প্রেক্ষাপটে Koral-এর নতুন সংস্করণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু প্রচলিত বিমান বা আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুর জন্য নয়, ব্যালিস্টিক হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা মাথায় রেখেও তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন Koral-এর লঞ্চার প্রথমবার প্রকাশ্যে আসায় প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থাও কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। ২০১৬ সালে জাহাজভিত্তিক মাঝারি-পাল্লার ধারণা থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি এখন আরও বিস্তৃত আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার উপযোগী একটি আধুনিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে।
তবে সর্বোচ্চ পাল্লা, ব্যালিস্টিক লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার নির্দিষ্ট সক্ষমতা এবং পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল স্ট্যাটাস সম্পর্কে ইউক্রেন এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন