Viral Phone Trend: জানেন স্মার্টফোনের কভারের পেছনে তেজপাতা রাখলে কী কী ঘটে? | Viral Trend: Why Are People Keeping Bay Leaves in Their Phone Covers?
কেন এই ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন অনেকে?Image Credit: Meta
তেজপাতা (Bay Leaf) বললে সবার আগে মনে আসে জমজমাট বিরিয়ানি বা মাংসের ঝোলের কথা। রান্নার স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন, রান্নাঘরের এই অতি পরিচিত মশলা একদিন আপনার সাধের স্মার্টফোনের পিছনে জায়গা করে নেবে? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! আজকাল সোশাল মিডিয়ায় উঁকি দিলেই চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। অনেকেই নিজেদের মোবাইল কভারের ভিতর সযত্নে একটি শুকনো তেজপাতা রেখে দিচ্ছেন। ফোনের কভারে খুচরো টাকা, বাসের টিকিট বা প্রিয়জনের ছবি রাখার চল তো অনেক পুরনো। কিন্তু তাই বলে তেজপাতা! কেন এই নতুন ট্রেন্ড ভাইরাল হয়ে গিয়েছে? চলুন, বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখা যাক।
কারণ কী?
আসলে অনেকেই মনে করছেন, এই তেজপাতা একটি ‘গুড লাক চার্ম’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় এই পাতাকে সম্মান ও জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হত। সেই বিশ্বাস আজও মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। আধ্যাত্মিকতা ও বাস্তুশাস্ত্রে যাঁরা বিশ্বাস রাখেন, তাঁদের মতে, এই পাতা সঙ্গে রাখলে চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং আর্থিক উন্নতি ঘটে।
কিন্তু মানিব্যাগ বা আলমারি ছেড়ে হঠাৎ ফোনের কভার কেন? এর উত্তরটা বেশ সোজা। আগেকার দিনে মানুষ টাকা রাখার জায়গায় বা ক্যাশ বাক্সে এই পাতা রাখতেন। কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে আমাদের মানিব্যাগ হল ওই স্মার্টফোনটাই। ব্যাঙ্কের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন পেমেন্ট, সবই তো চলছে ওই ছোট্ট স্ক্রিনে। তাছাড়া, সারা দিনে সবচেয়ে বেশি সময় আমরা কাটাই মোবাইলের সঙ্গেই। তাই অনেকের ধারণা, ফোনের সঙ্গে তেজপাতা রাখলে জীবনে সবসময় ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকবে। এটি নাকি ছাঁকনির মতো পারিপার্শ্বিক ‘কুদৃষ্টি’ বা খারাপ শক্তিকে শুষে নেয়।
তবে এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। এই ধারণার পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কিন্তু নেই। ইন্টারনেট সিগন্যাল দিয়ে ফোন খারাপ শক্তি টানে, আর তেজপাতা সেটা আটকে দেয়, এমন কোনও কথা বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত মানেনি। পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে মানুষের বিশ্বাস আর কিছু পুরনো রীতিনীতির ওপর।
তাই আপনি যদি এই ভাইরাল ট্রেন্ডে গা ভাসাতে চান, তবে অনায়াসেই কভারের পিছনে একটা পাতা রাখতেই পারেন। এতে আপনার প্রিয় ফোনের কোনও ক্ষতি তো হবেই না, উলটে মনে যদি একটু শান্তি আসে, তবে মন্দ কী!