ফের ডুয়ার্সের জঙ্গল থেকে লোকালয়ে বাইসন

ডুয়ার্সে বাইসনের হামলার খবর সাম্প্রতিক সময়ে বার বার খবরে শোনা গিয়েছে। এখানকার ঘন জঙ্গলে হাতি থেকে শুরু করে বাইসন সবই দেখা যায়। তবে মাঝে মাঝেই তারা হানা দেয় নিকটবর্তী গ্রামে বা জনপথে।

কিছুদিন আগেই ধূপগুড়িতে এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে লোকালয়ে বাইসন চলে আসে। তাণ্ডব চালায় গোটা গ্রামে। এই ঘটনায় একটি শিশু-সহ তিনজন গ্রামবাসী আহতও হন।

ফের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো জলপাইগুড়িতে। সাতসকালে লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়াল বাইসন। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি আমগুড়ি ও রামসাই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দিকভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় বাইসনটি।

খবর পেতেই গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের রামসাই মোবাইল স্কোয়াড ও জলপাইগুড়ি বনবিভাগের রামসাই রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু একটি ব্যতিক্রমী তাঁদের নজরে আসে।

লোকালয় থেকে জঙ্গলের দূরত্ব ছিল প্রায় বারো থেকে পনেরো কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে কী ভাবে সে ফের জঙ্গলে ফিরে যাবে, সেই নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়।

যদিও বাইসনটি নিজেই আড়াই ঘণ্টাই একার প্রচেষ্টায় অক্ষত অবস্থাতেই জলঢাকা নদী পার করে অপর প্রান্তের জলপাইগুড়ি বনবিভাগের নাথুয়ার জঙ্গলে ঢুকে যায়। বনকর্মীরাও যথেষ্ট নিরাপদ ভাবে বাইসনটিকে ফেরত পাঠাতে সফল হন। বন দপ্তর জানিয়েছে একই পথ দিয়েই বাইসনটি ভুলবশত এদিকে এসেছিল।

ভোর নাগাদ আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার৷ চাপগড় দোমুখার পাড় এলাকায় বাইসনটিকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীরা জানান, ভাগ্যক্রমে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আসেনি, বাইসনটি গ্রামে থাকলেও কাউকে আক্রমণ করেনি।

আর এখানেই ব্যতিক্রম। সাধারণত বাইসন গ্রামে ঢুকলে ফসলের ক্ষতি করে। সাধারণ মানুষের উপর হামলাও করে। তবে এই বাইসনটি যে পথে এসেছিল, সেই পথে একাই ফিরে গিয়েছে।

বাইসনটি গ্রাম ছেড়ে পাকা রাস্তা পেরিয়ে একের পর এক জনবসতি পূর্ণ এলাকা ছেড়ে জঙ্গলের দিকে পা বাড়ায়। কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। এর আগেও এই ঘটনা ঘটেছিল। তখন ঘুম পাড়ানি গুলি ছুড়ে বাইসনকে জঙ্গলে পাঠানো হয়। কিন্তু এই বাইসনটির ক্ষেত্রেই এই ব্যতিক্রম লক্ষ্য করেছেন বন কর্মীরা।