UPI তে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট চালু হলে খরচ চাপবে গ্রাহকের ঘাড়ে! সমীক্ষায় চাঞ্চল্য
নয়াদিল্লি: লোকাল সার্কেলসের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র(UPI MDR)। ইউপিআই পেমেন্টে যদি মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালু হয়, তাহলে ৮৩ শতাংশ ব্যবসায়ী…
নয়াদিল্লি: লোকাল সার্কেলসের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র(UPI MDR)। ইউপিআই পেমেন্টে যদি মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালু হয়, তাহলে ৮৩ শতাংশ ব্যবসায়ী সেই খরচ সরাসরি গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবসায়ী দুই হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বা তার বেশি এমডিআর নিজেরা বহন করতে রাজি।
বাকিরা এমনকি সামান্য চার্জও নিতে নারাজ। (UPI MDR)ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকের কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি ইউপিআই। শূন্য খরচে তাৎক্ষণিক লেনদেনের সুবিধা মানুষকে নগদ লেনদেন থেকে সরিয়ে এনেছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা চালু রাখতে বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা খরচ হয় বলে জানা যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ মাদক অভিযানে কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে রেকর্ড! মোদীর নেতৃত্বে ১ কোটি ১৯ লক্ষ মাদক বাজেয়াপ্ত
অন্যদিকে সরকারের প্রণোদনা তহবিল রয়েছে মাত্র দুই হাজার কোটি টাকার আশপাশে। (UPI MDR)এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে উচ্চমূল্যের লেনদেনে এমডিআর চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সমীক্ষা বলছে, সেই সিদ্ধান্ত সহজে বাস্তবায়ন করা যাবে না।গ্রাহকদের মনোভাব আরও স্পষ্ট। সমীক্ষায় ৫৩ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, যদি ব্যবসায়ীরা এমডিআরের খরচ তাঁদের ওপর চাপান, তাহলে তাঁরা ইউপিআই ছেড়ে অন্য মাধ্যমে চলে যাবেন।
Advertisements
কেউ ক্রেডিট কার্ড, কেউ ডেবিট কার্ড, আবার কেউ নগদ বা নেট ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকবেন। ইউপিআইয়ের জনপ্রিয়তার মূল কারণই ছিল বিনামূল্যে লেনদেন। সেই সুবিধা চলে গেলে মানুষ আগের অভ্যাসে ফিরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।ব্যবসায়ীদের অবস্থানও বোঝা যায়। ছোট ও মাঝারি দোকানদাররা ইতিমধ্যেই নানা খরচের চাপে আছেন।
অতিরিক্ত শূন্য দশমিক তিন শতাংশ চার্জও তাঁদের কাছে বোঝা মনে হচ্ছে। (UPI MDR)অনেকে বলছেন, গ্রাহক যদি চার্জ দিতে না চান, তাহলে ব্যবসা কমে যাবে। আবার চার্জ নিজেরা বহন করলে মুনাফা কমে যাবে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী একেবারেই কোনো এমডিআর দিতে রাজি নন।ইউপিআইয়ের সাফল্য অভূতপূর্ব।
কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এর মাধ্যমে পেমেন্ট করছেন। গ্রামগঞ্জ থেকে শহর পর্যন্ত এর বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু এই বিশাল নেটওয়ার্ক চালু রাখতে পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত খরচ ক্রমশ বাড়ছে। প্রণোদনার পরিমাণ সেই খরচের তুলনায় অনেক কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটিকে টেকসই করতে হলে নতুন অর্থায়নের মডেল দরকার বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
তবে চার্জ চাপানোর সিদ্ধান্ত যদি হয়, তাহলে তার প্রভাব গ্রাহক ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষেই পড়বে। ব্যবসায়ীরা খরচ গ্রাহকের ওপর চাপাবেন, গ্রাহকরা ইউপিআই ছেড়ে চলে যাবেন এমন একটি চক্র তৈরি হতে পারে। তখন ডিজিটাল পেমেন্টের যে গতি এখন দেখা যাচ্ছে, তা থেমে যেতে পারে। বিশেষ করে দুই হাজার টাকার বেশি লেনদেনে এর প্রভাব বেশি হবে বলে আশঙ্কা।