২.২৯ লক্ষ টাকার বাইকে কী বেশি পাবেন?
কলকাতা: ভারতের অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ (Royal Enfield Himalayan 440)। নতুন এই বাইকের দাম শুরু হচ্ছে ২.২৯ লাখ…
কলকাতা: ভারতের অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ (Royal Enfield Himalayan 440)। নতুন এই বাইকের দাম শুরু হচ্ছে ২.২৯ লাখ টাকা থেকে। অন্যদিকে একই সেগমেন্টে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার, যার দাম ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ২.০৮ লাখ থেকে ২.৩৫ লাখ টাকা। দাম ছাড়াও ইঞ্জিন, পারফরম্যান্স, ওজন, সাসপেনশন এবং ফিচারের ক্ষেত্রে দুই বাইকের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
দাম: কোন বাইক কত সস্তা?
| মডেল | এক্স-শোরুম দাম, চেন্নাই |
| রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ | ২.২৯ লাখ টাকা |
| ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার | ২.০৮-২.৩৫ লাখ টাকা |
হিমালয়ান ৪৪০, ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের বেস ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ২১,০০০ টাকা বেশি দামি। তবে ইয়েজদির টপ ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় হিমালয়ান ৪৪০-এর দাম মাত্র ৬,০০০ টাকা কম। অর্থাৎ বাজেটের দিক থেকে দুই বাইকের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়।
ডিজাইনে কার চেহারা বেশি অ্যাডভেঞ্চার-কেন্দ্রিক?
রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০-তে রাখা হয়েছে অপেক্ষাকৃত ট্র্যাডিশনাল অ্যাডভেঞ্চার বাইকের ডিজাইন। রয়েছে গোলাকার হেডলাইট, লম্বা উইন্ডস্ক্রিন এবং বড় ফ্রন্ট বেক। পুরো ডিজাইনটি অফ-রোড ব্যবহারের জন্য তৈরি বাইকের মতোই দেখায়। অন্যদিকে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের ডিজাইন তুলনায় বেশি আধুনিক ও শার্প। এতে রয়েছে স্প্লিট প্রজেক্টর হেডলাইট এবং অ্যাঙ্গুলার বডিওয়ার্ক। রঙের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। হিমালয়ান ৪৪০ পাওয়া যায় Sela Black, Mustang Brown এবং Nelong White রঙে। ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে রয়েছে Yellow Falcon, Nebula Blue White, Glacier White এবং Tornado Black।
ইঞ্জিনে কে এগিয়ে?
দুই বাইকের ইঞ্জিনের ক্ষমতা এবং পাওয়ার ডেলিভারির ধরন একেবারেই আলাদা।
Advertisements
| স্পেসিফিকেশন | রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ | ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার |
| ইঞ্জিন | ৪৪৩cc, এয়ার ও অয়েল-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার | ৩৩৪cc, লিকুইড-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার |
| পাওয়ার | ২৫.৪ PS @ ৬২৫০ RPM | ২৯.৬ PS @ ৮০০০ RPM |
| টর্ক | ৩৪ Nm @ ৪০০০ RPM | ২৯.৮ Nm @ ৬৫০০ RPM |
| গিয়ারবক্স | ৬-স্পিড | ৬-স্পিড |
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার বেশি সর্বোচ্চ পাওয়ার তৈরি করে। এর পাওয়ার ২৯.৬ PS, যেখানে হিমালয়ান ৪৪০-এর পাওয়ার ২৫.৪ PS। তবে টর্কের ক্ষেত্রে এগিয়ে হিমালয়ান। এর ৩৪ Nm টর্ক ৪০০০ RPM-এই পাওয়া যায়। ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের ২৯.৮ Nm টর্ক পেতে ইঞ্জিনকে ৬৫০০ RPM পর্যন্ত ঘোরাতে হয়।ফলে কম RPM-এ বেশি টর্কের কারণে ট্যুরিং এবং অফ-রোডে হিমালয়ান ৪৪০-এর পাওয়ার ডেলিভারি বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অন্যদিকে বেশি RPM-এ পারফরম্যান্স যাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের কাছে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার আকর্ষণীয় হতে পারে। দুই বাইকেই রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স।
সাসপেনশন ও ব্রেকে বড় পার্থক্য
দুই বাইকেই সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে মনোশক সাসপেনশন রয়েছে।
| স্পেসিফিকেশন | হিমালয়ান ৪৪০ | ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার |
| ফ্রন্ট সাসপেনশন | টেলিস্কোপিক ফর্ক | টেলিস্কোপিক ফর্ক |
| রিয়ার সাসপেনশন | মনোশক | মনোশক |
| ফ্রন্ট ব্রেক | ৩০০ মিমি ডিস্ক | ৩২০ মিমি ডিস্ক |
| রিয়ার ব্রেক | ২৪০ মিমি ডিস্ক | ২৪০ মিমি ডিস্ক |
| ফ্রন্ট হুইল | ২১ ইঞ্চি | ২১ ইঞ্চি |
| রিয়ার হুইল | ১৭ ইঞ্চি | ১৭ ইঞ্চি |
| গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স | ২২০ মিমি | ২২০ মিমি |
| কার্ব ওজন | ১৯৯ কেজি | ১৮৭ কেজি |
| সিট হাইট | ৮০০ মিমি | ৮১৫ মিমি |
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে ৩২০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক রয়েছে, যা হিমালয়ানের ৩০০ মিমি ডিস্কের তুলনায় বড়। দুই বাইকেই ২১ ইঞ্চির ফ্রন্ট এবং ১৭ ইঞ্চির রিয়ার হুইল রয়েছে। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সও সমান, ২২০ মিমি। তবে ওজনের ক্ষেত্রে ইয়েজদি অনেকটাই এগিয়ে। হিমালয়ান ৪৪০-এর ওজন ১৯৯ কেজি, যেখানে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের ওজন ১৮৭ কেজি। অর্থাৎ রয়্যাল এনফিল্ড ১২ কেজি বেশি ভারী। অন্যদিকে হিমালয়ানের সিট হাইট ৮০০ মিমি, যা ইয়েজদির ৮১৫ মিমির তুলনায় ১৫ মিমি কম। কম উচ্চতার রাইডারদের ক্ষেত্রে এটি সুবিধা দিতে পারে। হিমালয়ান ৪৪০-তে টিউব-টাইপ হুইল রয়েছে। ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে অপশন হিসেবে টিউবলেস ক্রস-স্পোক হুইল পাওয়া যায়।
ফিচারে কে এগিয়ে?
ফিচারের দিক থেকে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার কিছু ক্ষেত্রে বেশি আধুনিক।
| ফিচার | হিমালয়ান ৪৪০ | ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার |
| ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল | সেমি-ডিজিটাল | ডিজিটাল |
| অল-এলইডি লাইটিং | শুধু হেডলাইট | হ্যাঁ |
| ব্লুটুথ | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| ডুয়াল-চ্যানেল ABS | হ্যাঁ, রিয়ার ABS সুইচেবল | হ্যাঁ, ৩টি ABS মোড |
| ট্র্যাকশন কন্ট্রোল | নেই | আছে |
দুই বাইকেই ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন রয়েছে। তবে হিমালয়ান ৪৪০-তে সেমি-ডিজিটাল কনসোল ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে রয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইউনিট। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই বাইকেই সুইচেবল ডুয়াল-চ্যানেল ABS রয়েছে। তবে ইয়েজদিতে Road, Rain এবং Off-Road, এই তিনটি ABS মোড পাওয়া যায়। এছাড়াও ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে, যা হিমালয়ান ৪৪০-তে নেই।
তাহলে কোনটি বেশি যুক্তিযুক্ত?
রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০ মূলত তাঁদের জন্য বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে, যাঁরা আরামদায়ক ট্যুরিং, কম RPM-এ শক্তিশালী টর্ক এবং তুলনামূলক কম সিট হাইট চান। তবে এর ওজন বেশি এবং ফিচারের তালিকায় ইয়েজদির কিছু সুবিধা নেই। অন্যদিকে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার বেশি পাওয়ার, কম ওজন, বড় ফ্রন্ট ব্রেক, সম্পূর্ণ ডিজিটাল কনসোল, তিনটি ABS মোড এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোলের মতো ফিচার দিচ্ছে। অর্থাৎ ট্যুরিং ও কম RPM-এর টর্ককে অগ্রাধিকার দিলে হিমালয়ান ৪৪০, আর পারফরম্যান্স, কম ওজন ও বেশি ইলেকট্রনিক ফিচার চাইলে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার বেশি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।