বিশ্বকাপ জয়ী কাফুর হাত ধরে উত্তরবঙ্গের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা দার্জিলিংয়ে
কলকাতা: দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি প্রকৃতিতে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।(Darjeeling sports) ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার ও ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কাফু নিজে উপস্থিত থেকে আরিয়া টি…
কলকাতা: দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি প্রকৃতিতে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।(Darjeeling sports) ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার ও ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কাফু নিজে উপস্থিত থেকে আরিয়া টি এস্টেটে সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রায় ৪০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে চলা এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা।
দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জায়গায় (Darjeeling sports)তৈরি হবে একশোরও বেশি বিলাসবহুল রুম ও ভিলা। সঙ্গে থাকবে ফুটবল, বাস্কেটবল ও টেনিসের আধুনিক সুবিধা এবং নানা রকম অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি। পুরো কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০৩১ সাল।এই উদ্যোগ শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক নয়। এর মূল লক্ষ্য হল উত্তরবঙ্গের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
আরও দেখুনঃ উৎসবের মুখেই প্রতিশ্রুতিপূরণ! আর কিছুক্ষণেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা
দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এফসি পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করে গড়ে তুলবে। অন্যদিকে নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স এফসি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের স্কাউটিং করবে। দুই ক্লাবই এআইএফএফ ও আইএফএ অ্যাকাডেমি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজ করবে। রাজ্য লিগে অংশ নেওয়া এবং বিদেশের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তৈরি করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ।
Advertisements
কাফুর উপস্থিতি এই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছে। (Darjeeling sports)তাঁর এই সফর এসেছে ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় অনুষ্ঠেয় ম্যাচের ঠিক আগে। ফলে ফুটবলপ্রেমীরা দ্বিগুণ উৎসাহে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।পাহাড়ের শান্ত পরিবেশে এমন একটা স্পোর্টস রিসোর্ট গড়ে তোলার ধারণা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো শোনাত।
আরও দেখুনঃ
কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। চা বাগানের মাঝে আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা আর বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা একসঙ্গে থাকবে। পর্যটকরা এখানে এসে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন না, সক্রিয়ভাবে খেলাধুলায়ও অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য এটি কর্মসংস্থানের নতুন দ্বারও খুলে দেবে। হোটেল ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কোচিং, মেইনটেন্যান্স সব মিলিয়ে বহু মানুষের জীবিকা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফুটবলকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। (Darjeeling sports)উত্তরবঙ্গে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সুযোগের অভাব ছিল সবসময়। এখন দুই ক্লাবের মাধ্যমে সেই ফাঁক পূরণের চেষ্টা চলবে। ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়ে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এআইএফএফ ও আইএফএর স্বীকৃতি পেলে একাডেমিগুলো আরও শক্তিশালী হবে।
রাজ্য লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিদেশের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা যুবকদের মানসিকতা বদলে দেবে। কাফুর মতো কিংবদন্তির আশীর্বাদ পেয়ে প্রকল্পটি যেন আরও একধাপ এগিয়ে গেল।দার্জিলিংয়ের পর্যটন শিল্প দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি ও চা বাগানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন ক্রীড়া পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
বিদেশি পর্যটকরাও এখানে এসে খেলার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবেন। ফুটবল মাঠের পাশাপাশি বাস্কেটবল ও টেনিসের ব্যবস্থা থাকবে বলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আকৃষ্ট হবেন। অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটিগুলো পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মানানসই করে সাজানো হবে। ফলে একদিকে যেমন পর্যটক বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।