ছাড়তেও পারছেন না, আবার থাকাও যাচ্ছে না, গলায় কাঁটার মতো বিঁধছে সম্পর্ক?
তখন ক্লাস টেন। সদ্য প্রেমে কুশলের প্রেমে পড়েছিল তৃষা। তারপরে প্রায় ৮-৯ বছর ওরা সম্পর্কে কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন আর সম্পর্কটা আগের মতো নেই। বরং, নরকযন্ত্রণা দিচ্ছে সম্পর্কে। একে অন্যকে ছেড়েও যেতে পারছে না, আবার একসঙ্গে থাকতেও পারছে না। এই ধরনের সম্পর্কে ‘ট্রমা বন্ড’ সম্পর্ক বলে। আপনি হয়তো ভাবছেন, একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা আছে বলে সম্পর্কটা ভাঙা যাচ্ছে না। কিন্তু আদতে তা ঘটে না। বরং, এটা হলো এমন একটি মানসিক বন্ধন যা অত্যন্ত টক্সিক।
ট্রমা বন্ড সম্পর্ক কী?
ট্রমা বন্ড হলো এমন এক ধরনের সম্পর্ক, যেখানে একজন অন্যজনকে বার বার আঘাত দেয়, মানসিক নির্যাতন করে। সঙ্গীকে বার বার অপমান করে এবং নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই নির্যাতনের মধ্যেও বার বার স্নেহ, ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া বা যত্ন নেওয়ার মতো মুহূর্তগুলো ফিরে আসে। সেই কারণেই যে সম্পর্ক বহুদিন আগেই ভেঙে ফেলা উচিত, সেগুলো বয়ে বেড়াতে হয় দিনের পর দিন।
কী ভাবে বুঝবেন ট্রমা বন্ড সম্পর্কে রয়েছেন?
১) এই ধরনের সম্পর্কে ইমোশন বা আবেগ রোলার কোস্টারের মতো হয়। কখনও সম্পর্কটা অসহ্যকর হয়ে ওঠে। আবার কখনও প্রেমে টুইম্বর হয়ে যান। রোম্যান্সে ভুলে যান পুরোনো কথা।

২) একটা সময়ে সঙ্গীর খারাপ আচরণের জন্য নিজেকেই দোষী মনে করতে পারেন। সঙ্গীর খারাপ আচরণ করার পিছনে হয়তো আপনার দোষ— এটা ভেবে বার বার অজুহাত খোঁজেন। সম্পর্ক ভাঙার কথা ভাবলেই আপনার মধ্যে অপরাধবোধ কাজে করে।
৩) আপনি যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন, যা পরিবার বা বন্ধুরা বুঝতে পারে। কিন্তু আপনি তাঁদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে টক্সিক সম্পর্কেই থাকেন। শুধু তা-ই নয়, আপনার বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা কমতে থাকে বা পরিসর ছোট হতে থাকে।
৪) এই ধরনের সম্পর্কে সঙ্গী সব সময়ে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। আপনার উপর মানসিক নির্যাতন করে। এমন সম্পর্কে দিনের পর দিন থাকলে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যায়।
৫) সঙ্গীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার জেরেও সম্পর্ক থেকে বেরোনো কঠিন হয়ে যায়। অনেকের মধ্যে একাকিত্বের ভয় কাজ করে। সেই ভয় থেকেই অনেকেই এই সম্পর্ক থেকে বেরোতে পারেন না।
কী ভাবে এই ধরনের সম্পর্ক থেকে বেরোবেন?
১) আপনি যে টক্সিক সম্পর্কে রয়েছেন, তা স্বীকার করুন। তা হলে সম্পর্ক থেকে বেরোনো সহজ হবে।
২) নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। নিজের মানসিক শান্তির কথা ভেবে বেরিয়ে আসুন।
৩) সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। প্রয়োজনে পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য নিন।