বর্জ্যের পাহাড় সরিয়ে পুনর্ব্যবহারে জোর বঙ্গে, উদ্যোগী পুর দপ্তর - 24 Ghanta Bangla News
Home

বর্জ্যের পাহাড় সরিয়ে পুনর্ব্যবহারে জোর বঙ্গে, উদ্যোগী পুর দপ্তর

Spread the love

শ্যামগোপাল রায়

পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জঞ্জালমুক্ত শহর গড়তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য। স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ ও জমি পুনরুদ্ধারের কাজ আগেই শুরু হয়েছে।

এবার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিধি আরও বাড়াতে রাজ্য জুড়ে বেশ কিছু ‘ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট’ বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করতে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পা‍লের কথায়,‘ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্যের পাহাড় তৈরি করা যাবে না। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হবে। বর্জ্য থেকেও রাজস্ব আদায়ের সুযোগও রয়েছে।’

বর্তমানে রাজ্যের ১৬টি পুরসভা এলাকায় ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট সফলভাবে চালু রয়েছে। এই প্লান্টগুলির মাধ্যমে প্রতিদিনের জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তবে তা যথেষ্ট বলে মনে করছে না প্রশাসন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ৬৭টি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টের নির্মাণকাজ চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে এই ৬৭টি প্লান্ট পুরোপুরি চালু করে দেওয়া। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির জঞ্জাল সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে বলে মনে করছেন পুর দপ্তরের কর্তারা।

এর পাশাপাশি আরও ৩২টি নতুন ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট নির্মাণের কাজও খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে চলেছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলিতে যাতে বর্জ্যের বিশাল পাহাড় তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে বিজেপি সরকার। ডাম্পিং সাইটগুলিতে পড়ে থাকা পুরোনো ‘লিগ্যাসি ওয়েস্ট’ বৈজ্ঞানিক উপায়ে অপসারণ করে জমি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যে পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ হাজার ‘নির্মল বন্ধু’ এবং ৬ হাজার ‘নির্মল সাথী’ বর্জ্য সংগ্রহ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে যুক্ত। পুর দপ্তরের দাবি, অধিকাংশ পুরসভা এলাকায় বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ বার উৎসস্থলেই ১০০ শতাংশ বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়,‘ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ই-বর্জ্য ও বিভিন্ন ধাতব বস্তু আলাদা করে এই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমবে, তেমনই জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।’ প্রতিদিনের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জৈব গ্যাস, প্লাস্টিকের সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিস তৈরি করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও রাজস্ব আদায়ের পথও প্রশস্ত হবে বলে জানাচ্ছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *