পেট্রোলকে টপকাল EV-CNG-হাইব্রিড, গ্রামীণ ভারতের জোরে ১৭.৫% বাড়ল গাড়ি বিক্রি
মুম্বই: ভারতের অটোমোবাইল বাজারে (Auto Sales) অগস্টে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ফেডারেশন অফ অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ফাডা-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগস্টে দেশে মোট খুচরো গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৫ শতাংশ বেড়ে ২৪.২ লাখ ইউনিট হয়েছে।
তবে মোট বিক্রির বৃদ্ধির পাশাপাশি অগস্টের পরিসংখ্যানে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রথমত, CNG, LPG, হাইব্রিড এবং EV মিলিয়ে বিক্রির বাজার অংশীদারি প্রথমবার পেট্রোল গাড়িকে ছাপিয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ বাজারে গাড়ির চাহিদা বেশি বেড়েছে। তৃতীয়ত, বড় গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে বাজার দখলের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।
প্রথমবার পেট্রোলকে টপকাল বিকল্প জ্বালানি
অগস্টের যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে পেট্রোলচালিত গাড়ির বাজার অংশীদারি ছিল ৪০.৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে:
- CNG ও LPG: ২৫.২৮ শতাংশ
- হাইব্রিড: ৯.০৪ শতাংশ
- ইলেকট্রিক গাড়ি বা EV: ৭.৬৩ শতাংশ
এই তিন ধরনের বিকল্প পাওয়ারট্রেন একসঙ্গে ধরলে মোট বাজার অংশীদারি দাঁড়াচ্ছে ৪১.৯৫ শতাংশ।
Advertisements
অর্থাৎ অগস্টে প্রথমবার CNG, LPG, হাইব্রিড এবং EV মিলিয়ে ৪১.৯৫ শতাংশ বাজার দখল করেছে, যা পেট্রোলের ৪০.৮৫ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। এটি ভারতীয় ক্রেতাদের গাড়ি কেনার পছন্দে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। CNG এখনও বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড এবং EV-এর চাহিদাও বাড়ছে।
শহরের চেয়ে গ্রামে গাড়ির চাহিদা বেশি
অগস্টের অটো রিটেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ডগুলির মধ্যে অন্যতম হল গ্রামীণ বাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স। গ্রামীণ অঞ্চলে গাড়ির খুচরো বিক্রি গত বছরের তুলনায় ১৯.৭৯ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে শহরাঞ্চলে বৃদ্ধির হার ছিল ১৫.১৭ শতাংশ। শুধু সামগ্রিক বাজারেই নয়, প্রায় সমস্ত বড় গাড়ির বিভাগেই গ্রামীণ বাজার শহরকে পিছনে ফেলেছে।
যাত্রীবাহী গাড়িতে বড় পার্থক্য
গ্রামীণ এলাকায় যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ২৪.৯৯ শতাংশ। শহরাঞ্চলে একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১০.৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রামীণ বাজারের বৃদ্ধি শহরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। দুই-চাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও গ্রামীণ বাজার এগিয়ে রয়েছে। গ্রামে বিক্রি বেড়েছে ২০.২৫ শতাংশ, যেখানে শহরে বৃদ্ধি হয়েছে ১৯.০৭ শতাংশ। উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় গ্রামীণ ভারতের এই শক্তিশালী চাহিদা অটোমোবাইল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Maruti Suzuki ও Tata Motors-এর বাজার দখল বাড়ল
অগস্টে যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে বড় নির্মাতাদের মধ্যে বাজার অংশীদারিতেও পরিবর্তন হয়েছে। মারুতি সুজুকি-র বাজার অংশীদারি বেড়ে হয়েছে ৪১.০৫ শতাংশ। তুলনায় আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৩৮.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারে মারুতি সুজুকির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। টাটা মোটরস-ও বাজার অংশীদারি বাড়িয়েছে। সংস্থার শেয়ার ১১.৮৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৩৭ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা-র বাজার অংশীদারি কমে হয়েছে ১২.৪৯ শতাংশ, যেখানে আগের তুলনামূলক সময়ে তা ছিল ১৩.৩৬ শতাংশ। হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া-র বাজার অংশীদারিও ১২.৯৪ শতাংশ থেকে কমে ১১.৬৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ অগস্টে যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে মারুতি সুজুকি এবং টাটা মোটরস কিছুটা জায়গা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে মাহিন্দ্রা ও হুন্ডাইয়ের বাজার অংশীদারি কমেছে।
সবচেয়ে বেশি বাড়ল দুই-চাকার গাড়ির বিক্রি
অগস্টে মোট খুচরো অটো বিক্রি ১৭.৫ শতাংশ বাড়ার পিছনে দুই-চাকার গাড়ির বড় ভূমিকা ছিল। দুই-চাকার গাড়ির বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৭ লাখ ইউনিট হয়েছে। উৎসবের মরসুমে এই সেগমেন্টের বিক্রি আরও বাড়ে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে অটোমোবাইল শিল্পের।
অন্যান্য সেগমেন্টের বিক্রির হিসাব
অগস্টে বিভিন্ন অটোমোবাইল সেগমেন্টে বিক্রির চিত্র ছিল:

ট্র্যাক্টর বিক্রি প্রায় স্থির ছিল। গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি মাত্র ০.৮ শতাংশ।
উৎসবের মরসুমে বড় পরীক্ষা
অগস্টের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ভারতের অটো বাজারে এখন শুধু শহরের ক্রেতাদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। গ্রামীণ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে যাত্রীবাহী গাড়ি এবং দুই-চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে CNG, হাইব্রিড এবং EV-এর সম্মিলিত বাজার অংশীদারি পেট্রোলকে ছাপিয়ে যাওয়ায় গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিকল্প পাওয়ারট্রেনের গুরুত্বও আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সামনে উৎসবের মরসুম। ফলে গ্রামীণ চাহিদা কতটা বজায় থাকে এবং বিকল্প জ্বালানির গাড়ির বিক্রি কতটা বাড়ে, তার উপরই আগামী কয়েক মাসে ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন