কোনও টানেলে আটকে সন্দীপ? আশায় পরিবার
এই সময়, বর্ধমান: সন্দীপকুমার গড়াই কি তবে নেপালের কোনও সুড়ঙ্গেই আটকে রয়েছেন অন্যদের মতো তিনিও কি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হবেন? এই একটিমাত্র আশায় প্রহর গুনছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সিমডাল গ্রাম।
দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে নেপালের অ্যান্ডরিৎজ় হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টে স্টোর কিপার হিসেবে কাজ করেন বছর ৪৩-এর সন্দীপ। সিমডাল গ্রামের মাঝেরপাড়ায় তাঁর বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী তিথি, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে, দাদা-সহ অন্যরা। ২৬ অগস্ট সকালে অফিসে যাওয়ার আগে শেষ বার স্ত্রী তিথির সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর।তার পরেই বিপর্যয়ের খবর সামনে আসে এবং সন্দীপের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় সন্ধান না-মেলায় সরকারের উপরে ভরসা না-রেখে সন্দীপের দাদা দীপক গড়াই ও শ্যালক রিন্টু সেন-সহ চার জন নেপালে পৌঁছন। সেখানে সন্দীপের অফিস, ভারতীয় দূতাবাস এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁর। ফিরে আসতে হয় তাঁদের।
ঘটনার ১০ দিন পরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েক জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর মিলতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন পরিবার ও গ্রামবাসীরা। হয়তো সন্দীপও এমন কোনও সুড়ঙ্গে জীবিত আটকে আছেন, এই বিশ্বাসে দিন কাটছে সবার।
সন্দীপের শ্যালক রিন্টু সেনের বক্তব্য, ‘আমরা নেপালে গিয়েও জামাইবাবুর কোনও খোঁজ পাইনি। আশায় আছি ফিরবেন একদিন। বাড়িতে তিথি, ভাগ্নে খুবই ভেঙে পড়েছে। উপরওয়ালাই এখন ভরসা।’