কলা চাষেও FDI! নিয়ম শিথিলের পথে কেন্দ্র, রপ্তানি বাড়াতে বড় পরিকল্পনা
কলকাতা: ভারতের কলা চাষ (Banana Farming) ও বাণিজ্যিক উৎপাদন ক্ষেত্রে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্ল্যান্টেশন সেক্টরে FDI-এর নিয়ম আরও…
কলকাতা: ভারতের কলা চাষ (Banana Farming) ও বাণিজ্যিক উৎপাদন ক্ষেত্রে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্ল্যান্টেশন সেক্টরে FDI-এর নিয়ম আরও শিথিল করে কলার মতো বাণিজ্যিক ফসলকেও এর আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিক।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছে। সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য, “কলা-সহ প্ল্যান্টেশন সেক্টরে আরও FDI উদারীকরণের বিষয়ে আমরা ভাবছি।”
বর্তমানে কোন কোন ক্ষেত্রে ১০০% FDI অনুমোদিত?
বর্তমানে চা-সহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্ল্যান্টেশন ক্ষেত্রে অটোমেটিক রুটে ১০০% FDI অনুমোদিত। এর মধ্যে রয়েছে:
- চা ও চা বাগান
- কফি
- রাবার
- এলাচ
- পাম
- অলিভ অয়েল গাছের চাষ
তবে অন্যান্য প্ল্যান্টেশন-সংক্রান্ত ক্ষেত্র ও কর্মকাণ্ডে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ। কলা চাষকে এই অনুমোদিত তালিকার আওতায় আনার প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদেশি সংস্থাগুলি ভারতের কলা উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারে।
Advertisements
আরও পড়ুন:ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্বে সবজি চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভারতের কৃষকরা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলা উৎপাদক ভারত
কলা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের শীর্ষে। দেশে বছরে ৩ কোটি টনেরও বেশি কলা উৎপাদিত হয়। ২০২২-২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট কলা উৎপাদনের ৬৭%-এরও বেশি আসে পাঁচটি প্রধান উৎপাদনকারী রাজ্য থেকে। এই রাজ্যগুলি হল:
- অন্ধ্রপ্রদেশ
- মহারাষ্ট্র
- কর্ণাটক
- তামিলনাড়ু
- উত্তরপ্রদেশ
কলা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানপালন বা হর্টিকালচার পণ্য।
উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে ভারত
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কলা উৎপাদন করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের উপস্থিতি এখনও তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্বের মোট কলা উৎপাদনের প্রায় ২৬.৪৫% ভারত থেকে এলেও আন্তর্জাতিক কলা রপ্তানি বাজারে ভারতের অংশ মাত্র ১%। অর্থাৎ বিপুল উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এখনও বড় সুযোগ রয়েছে। এই জায়গাতেই বিদেশি বিনিয়োগকে কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:পণ্য পরিবহনে আরও এক ধাপ এগিয়ে তৈরী হচ্ছে ডানকুনি-সুরাট ২,০৫২ কিলোমিটার রেল করিডোর
এক বছরে কলা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩০%
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৩৭৭.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কলা রপ্তানি করেছে। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০% বেড়েছে। আগামী বছরগুলিতে ভারত কলা রপ্তানিকে আরও বাড়িয়ে ১০০ কোটি ডলার করার লক্ষ্য নিয়েছে। রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, কোল্ড চেন, প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কোন কোন দেশে যায় ভারতের কলা?
ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে ভারতীয় কলার চাহিদা রয়েছে। প্রধান রপ্তানি বাজারগুলির মধ্যে রয়েছে: ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব, নেপাল, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপ। এর পাশাপাশি আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান, জার্মানি, চিন, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স-এর মতো বড় বাজারেও ভারতীয় কলার রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু উৎপাদন নয়, রপ্তানি পরিকাঠামোয়ও জোর
কেন্দ্রের পরিকল্পনা কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগ শুধু কলা চাষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেন ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কারণ ভারতের সমস্যা এখন কলা উৎপাদনের পরিমাণে নয়, বরং বিপুল উৎপাদনকে কীভাবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেখানে।
FDI বাড়লে উন্নত প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলা উৎপাদক দেশ হয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ১% অংশীদার ভারতের সামনে রপ্তানি বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।