ফ্রিজে রাখা সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীয়ের কাটা মাথা, ঘরে পড়ে ক্ষতবিক্ষত ধড়, গ্রেপ্তার স্বামী
ঘরে পড়ে রয়েছে মহিলার ক্ষতবিক্ষত মুণ্ডুহীন দেহ। হাতের বেশ কয়েকটি আঙুলও কুচিয়ে কাটা। দেহ ধরেছে পচনও। গোটা ঘরে ছড়ানো রক্ত শুকিয়ে গিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ফ্রিজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। সেখানে রাখা মহিলার কাটা মাথা। এমনই ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেল গুয়াহাটির এক বাড়িতে।
বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ২৫ বছরের স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার শহরের একটি আবাসনে তরুণীর মাথা কাটা দেহ উদ্ধারের পরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই ঘরের ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর কাটা মাথাও। শরীরের কয়েকটি আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক স্বামীর সন্ধানে নেমে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে রবিবার। গুয়াহাটির যে আবাসনে ওই দম্পতি থাকতেন, সেখান থেকে হঠাৎই বিটকেল দুর্গন্ধ আসছিল। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় খবর যায় পুলিশে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দু’দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না। দু’জনের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।
পুলিশ এসে বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। তার পরেই নজরে আসে ওই বীভৎস দৃশ্য। সেখানেই উদ্ধার হয় তরুণীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ইতিমধ্যেই পচতে শুরু করেছিল। শরীর থেকে মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল। হাতের কয়েকটি আঙুলও অর্ধেক কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় ঘটনাস্থলে।
তদন্তে নেমে ঘরটি তল্লাশি করতে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। একটি পলিথিনের ব্যাগে মুড়ে ওই তরুণীর কাটা মাথা রাখা ছিল ফ্রিজে। মৃতার নাম রিয়া তালুকদার বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেহ এবং মাথা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার স্বামী
ঘটনার পর থেকেই রিয়ার স্বামীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবারই তাঁকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। তরুণীর দেহ উদ্ধারের পরেই পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন জেরা করে পুরো ঘটনাক্রম জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
কেন খুন? এখনও স্পষ্ট নয়
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের তরফে এখনও খুনের সম্ভাব্য কারণ বা কোনও নির্দিষ্ট মোটিভের কথা জানানো হয়নি। আত্মসমর্পণের পরে অভিযুক্তের বক্তব্যও তদন্তকারীরা যাচাই করে দেখছেন।
এই ঘটনায় অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দম্পতির মধ্যে আগে কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে কী ঘটেছিল এবং ঠিক কী ভাবে তরুণীকে খুন করা হয়েছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অভিযুক্তের স্টেটমেন্ট থেকে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।