AFC U20 এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৩-০ হারিয়ে ভারতের দাপুটে জয় - 24 Ghanta Bangla News
Home

AFC U20 এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৩-০ হারিয়ে ভারতের দাপুটে জয়

Spread the love

উজবেকিস্তান: AFC U20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় পেল ভারত। ৬ সেপ্টেম্বর দোস্তলিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ৩-০ গোলে হারাল…

উজবেকিস্তান: AFC U20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় পেল ভারত। ৬ সেপ্টেম্বর দোস্তলিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ৩-০ গোলে হারাল ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল।

ভারতের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ড্যানি মেইতেই লায়শরাম। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করেন বিশাল যাদব এবং আরবাশ। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশকে কার্যত ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ দেয়নি ব্লু কোল্টস। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে দুটি জয় ও একটি হার নিয়ে ভারতের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। গ্রুপ বি-তে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

হারের পর ঘুরে দাঁড়াল ভারত

উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ভারতের কাছে কার্যত জিততেই হবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১-০ জয় পেয়েছিল ভারত। এরপর উজবেকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হারের ফলে পরের ম্যাচে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবশ্য শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভারত। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, প্রায় সব বিভাগেই ভারতের দাপট দেখা যায়। প্রথম কয়েক মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। কিন্তু ২৫ মিনিটের পর থেকেই ম্যাচের চেহারা বদলে যায়।

২৫ মিনিটে ড্যানির গোলে এগিয়ে ভারত

ভারতের প্রথম গোলটি আসে ২৫ মিনিটে। বাংলাদেশের উপর চাপ তৈরি করে বল কেড়ে নেন হাতিম। এরপর ১৮ গজের বক্সের দিকে বল বাড়ানো হলে সেখানে থাকা ড্যানি মেইতেই লায়শরাম সুযোগটি কাজে লাগান। দারুণ ফিনিশে বাংলাদেশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন ড্যানি। এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ভারতীয় দল। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের উপর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্লু কোল্টস।

Advertisements


   


   

দ্বিতীয়ার্ধে বিশাল যাদবের দুর্দান্ত গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশ কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভারত ফের আক্রমণে উঠে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। বিশাল যাদব থ্রো-ইন থেকে আসা বলে অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক শটে গোল করেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষকের কার্যত কিছুই করার ছিল না। বল জালে জড়িয়ে যায় এবং ভারতের ব্যবধান বেড়ে হয় ২-০।এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে ভারতের হাতে চলে যায়।

৭৯ মিনিটে আরবাশের গোল, জয় নিশ্চিত

দুই গোলে এগিয়েও আক্রমণ থামায়নি ভারত। ৭৯ মিনিটে বাংলাদেশের বক্সের মধ্যে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা আরবাশ। বলের দিকে নজর রেখে দুর্দান্ত শটে তিনি গোল করেন। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই ম্যাচ জেতে ভারত।

আক্রমণে ভারতের একতরফা আধিপত্য

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবল। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ফুটবলাররা বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকেন। প্রেসিংয়ের মাধ্যমে ভুল করাতে বাধ্য করা, দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং প্রতিপক্ষের বক্সে বারবার ঢুকে পড়ার চেষ্টা দেখা যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ বেশ কিছু মুহূর্তে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইলেও শেষ তৃতীয়াংশে সেই আক্রমণকে কার্যকর সুযোগে পরিণত করতে পারেনি। ভারত অবশ্য বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার পূর্ণ সুবিধা নেয়।

তিন ম্যাচে প্রথমবার একসঙ্গে তিন গোল

এই ম্যাচের আগে যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের গোল করার পরিসংখ্যান খুব একটা ভালো ছিল না। সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভারত মাত্র একটি গোল করেছিল, সেটিও এসেছিল ম্যাচের শেষ দিকে। এরপর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত গোল করতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই গোলখরা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠল দল। এক ম্যাচেই তিনটি গোল করে ভারত শুধু জয়ই নিশ্চিত করেনি, আক্রমণাত্মক ফুটবলেরও পরিচয় দিয়েছে। ড্যানি, বিশাল যাদব এবং আরবাশের গোল ভারতকে তিন পয়েন্ট এনে দেওয়ার পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।

রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

ম্যাচের আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল রেফারিং। ভারতের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলাররা একাধিকবার ফাউল করলেও সেগুলির অনেকগুলিই রেফারি দেখেননি। প্রথমার্ধেই অন্তত ছয়টি ঘটনায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের ফাউল করার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ঘটনা ভারতের জন্য বিপজ্জনক জায়গায় ঘটেছিল। এমনকি ভারতীয় দলের দাবি, বাংলাদেশের এক ফুটবলার পেনাল্টি বক্সের ভিতরে হ্যান্ডবল করলেও সেটির জন্যও কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ভারতের দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্তগুলির কারণে অন্তত দুটি বা তারও বেশি গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তবে এগুলি ম্যাচ-পরবর্তী ভারতীয় দলের পর্যবেক্ষণ এবং রেফারিং নিয়ে তাদের অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।

মূল পর্বের টিকিট প্রায় নিশ্চিত?

বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট এখন ৬। গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছে তারা। তবে মূল AFC U-20 এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর যোগ্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ভারতের আশা এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফলের দিকে। উজবেকিস্তান অনূর্ধ্ব-২০ দল যদি সিরিয়াকে হারায়, তাহলে ভারত সাতটি সেরা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩-০ জয় ভারতের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনাকে অনেকটাই শক্তিশালী করেছে। দুই জয় ও ছয় পয়েন্ট নিয়ে ভারত এখন মূল পর্বের দরজায়। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করতে অন্য ম্যাচের ফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *