ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্বে সবজি চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভারতের কৃষকরা
নয়াদিল্লি: ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব যখন কৃষকের মাঠে পৌঁছায়, তখন তার ছবিটা এমনই হয়(India Israel)। সবজি চাষে ইন্দো-ইসরায়েল সেন্টারস অফ এক্সিলেন্সের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দশ হাজারেরও বেশি কৃষক…
নয়াদিল্লি: ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব যখন কৃষকের মাঠে পৌঁছায়, তখন তার ছবিটা এমনই হয়(India Israel)। সবজি চাষে ইন্দো-ইসরায়েল সেন্টারস অফ এক্সিলেন্সের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দশ হাজারেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই কেন্দ্রগুলো শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদাহরণ নয়, বরং কৃষকের ফলন ও আয় বাড়ানোর বাস্তব হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
খোলা মাঠে বীজ বুনলে যেখানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ চারা ব্যবহারযোগ্য হয়, সেখানে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রিত নার্সারি পরিবেশে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ শতাংশে। (India Israel)এই পার্থক্যটাই কৃষকের জীবনে বড় পরিবর্তন আনছে।ভারত ও ইসরায়েলের কৃষি সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স ফর ভেজিটেবলস সেই সহযোগিতার অন্যতম সফল উদাহরণ।
আরও দেখুনঃ সম্পর্কে উন্নতি! ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে উঠে এল পোল্যান্ড
এই কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক নার্সারি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চারা উৎপাদন, উন্নত বীজ ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শেখানো হয়। কৃষকরা এখানে শুধু দেখে শেখেন না, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও পান। ফলে তাঁরা নিজেদের ক্ষেতেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।খোলা মাঠে বীজ বপনের সমস্যা অনেক কৃষকই জানেন। আবহাওয়ার তারতম্য, পোকামাকড়, রোগবালাই আর মাটির অবস্থার কারণে অনেক বীজই নষ্ট হয়ে যায়।
Advertisements
ফলে ব্যবহারযোগ্য চারার সংখ্যা কমে যায়। (India Israel)অনেক সময় ৫০ শতাংশেরও কম চারা বেঁচে থাকে। এর ফলে খরচ বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফলনও কমে যায়। ইন্দো-ইসরায়েল কেন্দ্রগুলোতে নিয়ন্ত্রিত নার্সারি ব্যবস্থা এই সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো ও পানির সঠিক নিয়ন্ত্রণে চারা তৈরি করা হয়। ফলে প্রায় ৯৫ শতাংশ চারাই সুস্থ ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে।এই প্রযুক্তি শুধু চারার সংখ্যা বাড়ায় না।
চারার মানও উন্নত হয়। সুস্থ চারা ক্ষেতে লাগানোর পর দ্রুত বাড়ে, রোগবালাইয়ের সম্ভাবনা কমে এবং ফলন বাড়ে। কৃষকরা কম বীজেই বেশি চারা পান। খরচ কমে, উৎপাদন বাড়ে। দশ হাজারেরও বেশি কৃষক ইতিমধ্যে এই সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখন নিজেদের এলাকায় এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একজন কৃষকের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে।ইসরায়েলের কৃষি প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
সীমিত জমি ও জল নিয়েও তাঁরা উচ্চ ফলন অর্জন করে। (India Israel)ভারতের মতো দেশে যেখানে ছোট ও মাঝারি কৃষকের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই প্রযুক্তি বিশেষ উপযোগী। সেন্টারস অফ এক্সিলেন্সগুলো স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর করছে। শুধু বিদেশি মডেল নয়, ভারতীয় কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী তা খাপ খাইয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রযুক্তি আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।
সবজি চাষে এই উন্নতি খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। (India Israel)বেশি চারা, ভালো ফলন মানে বাজারে সবজির জোগান বাড়া। কৃষকের আয় বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়। অনেক কৃষক এখন নিজেরাই নার্সারি তৈরির কথা ভাবছেন। কেন্দ্রগুলো থেকে শেখা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তাঁরা স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন করতে পারলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।
ভারত-ইসরায়েল অংশীদারিত্বের এই দিকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সরাসরি মাটির মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। অনেক সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শুধু নীতিনির্ধারক বা বড় শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই সেন্টারগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি পৌঁছে দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ক্ষেত এবং নিয়মিত পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকরা নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করছেন। ফলে প্রযুক্তি শুধু কাগজে থাকছে না, বাস্তবে কাজে লাগছে।