পণ্য পরিবহনে আরও এক ধাপ এগিয়ে তৈরী হচ্ছে ডানকুনি-সুরাট ২,০৫২ কিলোমিটার রেল করিডোর
কলকাতা: ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২,০৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল করিডোর (rail corridor)ভারতের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত একটি নতুন মালবাহী মহাসড়ক তৈরি করতে চলেছে। কেন্দ্রীয়…
কলকাতা: ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২,০৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল করিডোর (rail corridor)ভারতের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত একটি নতুন মালবাহী মহাসড়ক তৈরি করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত এই করিডোর শুধু পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলেরও সুযোগ রাখবে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট এই ছয়টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে এই নতুন রেলপথ।
বাংলার জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। (rail corridor)ডানকুনি হয়ে উঠবে প্রস্তাবিত তৃতীয় ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোরের পূর্ব প্রান্ত।এই করিডোর শুধু একটা রেললাইন নয়। এটি পূর্ব ভারতকে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের শিল্প ও লজিস্টিক্স কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিল্পপণ্যের চলাচলের জন্য একটি নতুন পূর্ব-পশ্চিম পথ তৈরি হবে। বাংলার শিল্পবিকাশে এর প্রভাব পড়বে গভীরভাবে।
আরও দেখুনঃ ‘ঘরে ঢুকে মারা হবে!’ পাকিস্তানকে জিরো টলারেন্সের বার্তা মোদীর
ডানকুনি এলাকা ইতিমধ্যেই রেল ও সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। (rail corridor)এখন সেখান থেকে সুরাট পর্যন্ত সরাসরি মালবাহী করিডোর গড়ে উঠলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ দুটোই কমবে।বর্তমানে পূর্ব ভারত থেকে পশ্চিম ভারতে মালপত্র পাঠাতে অনেক সময় উত্তর বা দক্ষিণ দিক ঘুরে যেতে হয়। এর ফলে সময় লাগে বেশি, খরচও বাড়ে। নতুন এই করিডোর সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
Advertisements
কয়লা, লোহা, ইস্পাত, কৃষিপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য সরাসরি পশ্চিমের বন্দর ও শিল্পকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে পারবে। গুজরাটের সুরাট ও তার আশপাশের শিল্প এলাকাগুলোর সঙ্গে বাংলার সংযোগ আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের খনিজ সম্পদ সহজেই পূর্ব ও পশ্চিমের বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রেল ও শিল্প মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (rail corridor)মানে শুধু মালবাহী ট্রেনের জন্য আলাদা লাইন। এর ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ কমবে, গতি বাড়বে। প্রস্তাবিত করিডোরে যাত্রী পরিষেবারও ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শুধু পণ্য নয়, মানুষের চলাচলও সহজ হবে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা আরও মসৃণ হতে পারে।পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক।
ডানকুনি হয়ে উঠলে পূর্ব ভারতের একটি বড় লজিস্টিক্স হাব। এখান থেকে পণ্য সরাসরি গুজরাটের বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারলে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য দুটোই বাড়বে। রাজ্যের শিল্পগুলো কাঁচামাল সহজে পেতে পারবে, আবার তৈরি পণ্যও দ্রুত বাজারে পাঠাতে পারবে। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে নির্মাণ পর্যায়ে এবং পরে পরিচালনার সময়।
ছয়টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই করিডোর আঞ্চলিক ভারসাম্যও আনতে পারে। (rail corridor)পূর্ব ভারতের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা পিছিয়ে ছিল পরিবহন পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে। নতুন এই সংযোগ সেই ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে। ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের খনিজ সম্পদ, মধ্যপ্রদেশের শিল্প, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের বন্দর ও কারখানা সবকিছু একসূত্রে বাঁধা পড়বে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে।