Teachers’ Day: বেতন শুধু ১ টাকা! তাঁর বেতনেই মাইনে ২ শিক্ষকের, অবসরের পরও স্কুলই জীবন গঙ্গাধর পালের | Teachers’ Day Special: Retired Bengal Teacher Keeps Just RS 1 From Salary, Spends Lifetime Earnings on School and Students
কালনা: শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু চাকরি নয়, জীবনের ব্রত। তাই, খাতায়-কলমে অবসর নিলেও থামেনি পাঠদান। এমনকী, বেতনের টাকাও কোনওদিন নিজে ভোগ করেননি। সবটাই খরচ করেছেন স্কুলের উন্নয়নে। স্কুলের জন্য নিজের বেতনের টাকা দিয়ে নিয়োগ করেছেন দুই অস্থায়ী শিক্ষককে। তাঁর একটাই লক্ষ্য, দেশের জন্য, আগামির জন্য ছাত্রদের তৈরি করা।
কালনা মহকুমার কুতুবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক গঙ্গাধর পাল। ২০০৩ সাল থেকে স্কুলটাকে একটু একটু করে নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু, তাঁর শিক্ষকসত্তা অবসর নেয়নি। গত তিন বছর ধরে প্রতিদিন স্কুলে এসেছেন। ক্লাস নিয়েছেন। স্কুলের উন্নয়নে একাধিক কাজও করেছেন।
জানেন কি, দীর্ঘ চাকরি জীবনে পাওয়া বেতনের মধ্যে নিজের জন্য মাত্র এক টাকা রেখেছেন। সেই এক টাকা তাঁর কাছে গুরুদক্ষিণা। বেতনের বাকি অর্থ সঞ্চয় করে স্কুলের জন্য খরচ করেছেন। যেমন শৌচালয় থেকে শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার-বেঞ্চ থেকে লাইব্রেরি, পানীয় জল কিংবা আলোর ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে কম্পিউটারের ব্যবস্থা করেছেন।
গঙ্গাধরবাবু বলেন, “২০০৩ সাল থেকে স্কুলটা নিজের হাতে তৈরি করেছি। সেই থেকে স্কুলটার প্রতি আমার একটা গভীর টান রয়েছে। পুত্রসম ছাত্রছাত্রীদের যাতে একটু সুবিধা হয়, এখানে প্রতিদিনই আসি। যতদিন পারব, শরীর সক্ষম থাকবে, চেষ্টা করব এটা চালিয়ে যাওয়ার।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উনি আসছেন বলে বিদ্যালয়টা এখনও সুষ্ঠুভাবে চালু রয়েছে। কিন্তু উনি একা তো এটা চালিয়ে যেতে পারবেন না।” স্কুলের যাতে উন্নয়ন হয় তার জন্য আবেদন করেছেন তিনি।
সংসারে আর্থিক সমস্যা ছিল। খুব কষ্টে লেখাপড়া শিখেছেন। তবে, একটাই স্বপ্ন দেখেছিলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে গরিব অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু করবেন। সেই ভাবনা থেকেই স্কুলের উন্নয়নে নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অবসরের পরেও স্কুলের শিক্ষক-সংকট তাঁকে ভাবিয়েছে। জানা গিয়েছে, নিজের সঞ্চয় থেকে ছয় লক্ষ টাকা রেখে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের জন্য। সেই টাকার সুদ থেকে বর্তমানে দু’জন অস্থায়ী শিক্ষকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা যাতে থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
শিক্ষক দিবসে তাঁর বার্তা, শিক্ষকতা শুধু বেতন পাওয়ার পেশা নয়, এটি একটি ব্রত। ভালোবেসে পড়ুয়াদের তৈরি করতে হবে। কারণ আজকের ছাত্রই আগামী দিনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র কিংবা বিজ্ঞানী হয়ে দেশের কাজে লাগবে। তাই চাকরি শেষ হলেও থামেনি তাঁর পথচলা। অবসর এসেছে, কিন্তু অবসর নেয়নি তাঁর শিক্ষকসত্তা।