Android ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ? চার্জ বেশি রাখতে মেনে চলুন ১১টি টিপস - 24 Ghanta Bangla News
Home

Android ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ? চার্জ বেশি রাখতে মেনে চলুন ১১টি টিপস

Spread the love

স্মার্টফোনের (Android) ব্যাটারি যত বড়ই হোক, সময়ের সঙ্গে চার্জ দ্রুত শেষ হতে শুরু করা স্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি চার্জ সাইকেলের সঙ্গে ব্যাটারির আসল ধারণক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। একটা সময় ব্যাটারি আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না।

তবে আপনি যদি ফোনে বেশি সময় কাটান এবং দিনের মাঝেই বারবার ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়, তাহলে কিছু অভ্যাস বদলে এবং ফোনের কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তন করে ব্যাটারি অনেকটা সময় ধরে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা কিছু অ্যাপ ও প্রসেস আপনার অজান্তেই অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করতে পারে। জেনে নিন, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর সহজ উপায়গুলি।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ

ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হল অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্রাইটনেস। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি উজ্জ্বলতায় স্ক্রিন চালু রাখলে ব্যাটারির উপর চাপ বাড়ে। একইভাবে, একাধিক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকলেও ব্যাটারি দ্রুত কমতে পারে। আপনি সরাসরি অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেগুলি ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা আপডেট বা অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

এছাড়া প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ওয়াই-ফাই, মোবাইল ডেটা বা ব্লুটুথ চালু রাখলে ফোন নিয়মিত নেটওয়ার্ক বা অন্য ডিভাইস খুঁজতে পারে। এর ফলেও অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ হতে পারে। স্ক্রিন টাইমআউট দীর্ঘ সময়ের জন্য সেট করা থাকলে ব্যবহার না করার সময়ও ফোনের ডিসপ্লে চালু থেকে যায়। এটিও ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ।

Advertisements


   


   

Read More: ৮ মাসের বিরতি শেষ! এবার ইওএস-৫ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ISRO

লোকেশন সার্ভিসও খরচ করে ব্যাটারি

লোকেশন সার্ভিস চালু থাকলে গুগল ম্যাপস বা অন্যান্য নেভিগেশন অ্যাপ নিয়মিত আপনার অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। ফলে ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাটারি খরচ হতে পারে। আর ফোনে যদি অ্যামোলেড ডিসপ্লে থাকে, তাহলে ডার্ক মোড ব্যবহার করলে কিছুটা ব্যাটারি সাশ্রয় করা সম্ভব। কারণ কালো রং দেখানোর সময় অ্যামোলেড স্ক্রিনের সংশ্লিষ্ট পিক্সেলগুলি বন্ধ থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলেও কোনও ব্যাটারি চিরকাল একই ক্ষমতায় চার্জ ধরে রাখে না। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমবেই।

Read More: দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ! তেজস বিমানের কাবেরি ইঞ্জিনের পরীক্ষা সফল

ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর ১১টি সহজ উপায়

১. অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস চালু করুন

ফোনের কুইক সেটিংস বা সেটিংস মেনু থেকে অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস চালু করতে পারেন। এতে ফোনের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর পরিবেশের আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করবে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বলতায় স্ক্রিন চালানোর সম্ভাবনা কমবে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।

২. স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিজে কমিয়ে নিন

অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস চালু থাকার পরও যদি স্ক্রিন অতিরিক্ত উজ্জ্বল মনে হয়, তাহলে ম্যানুয়ালি ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বলতা ব্যবহার না করাই ব্যাটারি বাঁচানোর সহজ উপায়।

৩. স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে দিন

সেটিংস মেনু থেকে স্ক্রিন টাইমআউটের সময় কমিয়ে দিন। এতে ফোন ব্যবহার না করার কিছুক্ষণ পরেই ডিসপ্লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে পকেটে বা টেবিলে রাখা অবস্থায় অপ্রয়োজনে স্ক্রিন জ্বলে থেকে ব্যাটারি নষ্ট হবে না।

৪. কিবোর্ডের শব্দ ও ভাইব্রেশন বন্ধ করুন

কিবোর্ডে টাইপ করার সময় শব্দ এবং ভাইব্রেশন ব্যবহার করলে ফোনের স্পিকার ও ভাইব্রেশন মোটর সক্রিয় হয়। এগুলি বন্ধ করলে সামান্য হলেও ব্যাটারি সাশ্রয় করা সম্ভব। সাধারণত সেটিংস > কিবোর্ড সেটিংস থেকে এই অপশনগুলি বন্ধ করা যায়।

৫. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন

সব অ্যাপের নোটিফিকেশন চালু রাখার প্রয়োজন নেই। যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন আপনার দরকার নেই, সেগুলির নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। এর ফলে ফোনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্ক্রিন জ্বলে ওঠা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপের কার্যকলাপ কিছুটা কমানো যায়।

৬. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

ব্যাটারি বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যেসব অ্যাপ আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকার অনুমতি না দেওয়াই ভালো। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অব্যবহৃত অ্যাপগুলিকে স্লিপ বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা যায়। ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

৭. ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন

ফোনের চার্জ খুব কমে গেলে ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন। সাধারণত এটি কুইক সেটিংস থেকে দ্রুত চালু করা যায়। এই মোড ফোনের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যকলাপ ও পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাটারি আরও কিছুক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৮. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন

ফোনে ডার্ক মোড চালু করলে বিশেষ করে অ্যামোলেড ডিসপ্লের ক্ষেত্রে ব্যাটারি সাশ্রয় হতে পারে। অ্যামোলেড স্ক্রিনে কালো অংশ তৈরি করার সময় সংশ্লিষ্ট পিক্সেল বন্ধ থাকতে পারে। ফলে উজ্জ্বল রঙের তুলনায় কম শক্তি প্রয়োজন হতে পারে।

৯. অতিরিক্ত চার্জ ও সম্পূর্ণ চার্জ শেষ হওয়া এড়িয়ে চলুন

ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত সময় চার্জে রেখে দেওয়া এবং বারবার একেবারে শূন্য শতাংশ পর্যন্ত চার্জ শেষ করে ফেলা এড়ানো ভালো। প্রয়োজনে ফোনের ব্যাটারি প্রোটেকশন বা চার্জিং অপ্টিমাইজেশন-এর মতো ফিচার থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন।

১০. অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা থেকে ফোন দূরে রাখুন

অত্যধিক গরম বা ঠান্ডা পরিবেশে ফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরাসরি তীব্র রোদে বা অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করাই ভালো।

১১. অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন

আপনার ফোনে এমন কোনও গুগল বা অন্য অ্যাকাউন্ট থাকলে যা আর ব্যবহার করেন না, তা সরিয়ে দিতে পারেন। গুগলের পরামর্শ অনুযায়ী, অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিলে ফোনের অপ্রয়োজনীয় সিঙ্কিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যকলাপ কমতে পারে।

ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলে প্রথমে যা দেখবেন

যদি নতুন ফোনেও হঠাৎ ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে শুরু করে, তাহলে প্রথমে স্ক্রিন ব্রাইটনেস, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ, লোকেশন সার্ভিস, নোটিফিকেশন এবং ওয়াই-ফাই/ব্লুটুথের ব্যবহার পরীক্ষা করুন।

অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাটারির সমস্যা না হয়ে ফোনের কোনও অ্যাপ বা সেটিংস অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। আর পুরনো ফোনের ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যাওয়াও দ্রুত চার্জ শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *