বেতন নেন না, তবু ‘স্যর’ ডাকটাই সনতের বড় প্রাপ্তি
প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়
সকাল থেকে সন্ধে, কোন কোন দিন গভীর রাত — বুক পকেটে একটি কলম নিয়ে গন্তব্য কখনও হৃদয়পুর, কখনও বারাসত, আবার কখনও প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের ভাঙড়। বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। তবু পড়ানোর ডাক এলে ক্লান্তি যেন তাঁর কাছে অচেনা শব্দ। দু’টি বাস বদলে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পৌঁছে যান পোলেরহাট হাই স্কুলে। বিনিময়ে কোনও পারিশ্রমিক নেন না।
কারণ, তাঁর কাছে পড়ানো কোনও ‘প্রাইভেট টিউশন’ নয়। এ তাঁর নেশা, এ তাঁর জীবন। ছেলে-মেয়েদের কাছে তিনি ‘সনৎ স্যর’। ভালো নাম সনৎ কুণ্ডু। ১৯৭৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হয়েই শুরু করেছিলেন পড়ানো। তখন একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, অঙ্ক ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। সময়ের সঙ্গে বিষয় কমেছে, কিন্তু পড়ানোর দায় কমেনি। এখন মূলত পদার্থবিদ্যা ও অঙ্ক পড়ান। লক্ষ্য—অভাব যেন কোনও মেধাবী পড়ুয়ার স্বপ্নের পথে দেওয়াল হয়ে না দাঁড়ায়।নিজেও মেধাবী ছাত্র ছিলেন সনৎ। সেই যোগ্যতায় রাজ্য সরকারের বস্ত্র দপ্তরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি পান। কিন্তু চাকরি তাঁর পড়ানোর নেশাকে থামাতে পারেনি। অফিসের দায়িত্ব সামলে সকাল-রাতে ব্যাচ পড়িয়েছেন। জীবনের একটা বড় অংশ কেটে গিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে। নিজের সংসার করার সময়ও যেন সেই ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে। আজ বারাসতের কলোনি মোড়ের বাড়িতে বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গেই তাঁর সংসার।তবে সনৎ স্যরের আসল গল্পটা আরও গভীরে।