পৃথিবীতেই রয়েছে 'নরকের দরজা', মরুভূমির মাঝখানে ৫৫ বছর ধরে তীব্রভাবে জ্বলছে মাটি - 24 Ghanta Bangla News
Home

পৃথিবীতেই রয়েছে ‘নরকের দরজা’, মরুভূমির মাঝখানে ৫৫ বছর ধরে তীব্রভাবে জ্বলছে মাটি

Spread the love

তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত থেকে ২৬০ কিলোমিটার উত্তরে কারাকুম মরুভূমির মাঝখানে একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তীব্রভাবে জ্বলছে। গত ৫৫ বছর ধরে এই বিশাল গর্তটিতে আগুন…

তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত থেকে ২৬০ কিলোমিটার উত্তরে কারাকুম মরুভূমির মাঝখানে একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তীব্রভাবে জ্বলছে। গত ৫৫ বছর ধরে এই বিশাল গর্তটিতে আগুন জ্বলছে। অবিরাম জ্বলতে থাকা আগুনের কারণে এটিকে “নরকের দরজা” (Door to Hell) আখ্যা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা এটিকে “দারভাজা গ্যাস ক্রেটার” বলে ডাকে, নামটি এসেছে নিকটবর্তী একটি গ্রামের নামানুসারে। এদিকে, ২০১৮ সালে দেশটির সরকার এর নাম দেয় “শাইনিং অফ কারাকুম” (Shining of Karakum)।

কারাকুম মরুভূমিতে অবস্থিত এই গর্তটি ২২৯ ফুট চওড়া ও ৭০ ফুট গভীর এবং এটি মিথেন গ্যাস ও আগুনে পরিপূর্ণ। গর্তটি কোনো বিশাল চুল্লির মতো দাউ দাউ করে জ্বলছে। ১৯৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের (তৎকালীন তুর্কমেনিস্তান ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ) বিজ্ঞানীরা এই স্থানে খননকাজ চালানোর সময় বেরিয়ে আসা গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দিলে এর সৃষ্টি হয়; তখন থেকেই গর্তটি অবিরাম জ্বলছে।

গর্তটিতে কেন আগুন ধরে গিয়েছিল?
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, ১৯৭১ সালে একটি গ্যাস খননকারী যন্ত্র (রিগ) দুর্ঘটনাবশত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি ভাণ্ডারের সংস্পর্শে আসার ফলে এই গর্তটির সৃষ্টি হয়েছিল। এর ফলে রিগের আশেপাশের মাটি ধসে পড়ে এবং মাটি ফেটে মিথেন গ্যাস ও ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হতে শুরু করে। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা গর্তটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন এই ভেবে যে, গ্যাস ফুরিয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই আগুন নিভে যাবে। কিন্তু তাঁদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় এবং তখন থেকেই আগুন জ্বলছে।

এই গহ্বরটি আমু দরিয়া অববাহিকার ওপর অবস্থিত, এমন একটি অঞ্চল যা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদে সমৃদ্ধ এবং তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান জুড়ে বিস্তৃত। কয়েক বছর আগে তুর্কমেনিস্তান সরকার “নরকের প্রবেশদ্বার” (Gateway to Hell) নামে পরিচিত এই গহ্বরটি বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি নিভিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

Advertisements


   


   

রাতে দূর থেকেই দৃশ্যমান
রাতে এই গর্তের উজ্জ্বল আভা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়। একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে যার সূচনা হয়েছিল, তা এখন পর্যটকদের জন্য এক প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত এই জ্বলন্ত গর্তটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। ফলে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই অগ্নিময় গর্তটি অর্থনৈতিকভাবেও একটি লাভজনক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

কানাডার জর্জ কৌরৌনিস ‘ডোর টু হেল’ বা ‘নরকের দরজা’র গভীরে নেমেছিলেন। একটি সুরক্ষা পোশাক পরে তিনি দড়ির সাহায্যে নিজেকে সেই জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের ভেতরে নামিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মাটির নমুনা সংগ্রহ করা, যাতে বোঝা যায় সেখানে চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম ব্যাকটেরিয়ার (এক্সট্রিমোফাইল) অস্তিত্ব আছে কি না, যা এমন পরিবেশে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *