কার দেওয়াল কে ঢাকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বন্দ্ব তীব্র বাম ও ডানে!
এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এতদিন মূলত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিরই একচেটিয়া আধিপত্য দেখা যেত। কিন্তু এ বার সেই চেনা ছবিতে বদল আনল ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্ট’ বা এনএসএফ। শুক্রবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে জাতীয়তাবাদী এবং বাম-বিরোধী স্লোগান লিখে তারা বার্তা দিল, ক্যাম্পাসের দেওয়ালের উপরে বামপন্থীদের মতো তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে।
শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জনা দশেক এনএসএফ সদস্য ওপেন এয়ার থিয়েটার, ওয়ার্ল্ডভিউ, ফেটসু ইউনিয়ন রুম এবং টেকনোলজি ভবনের দেওয়ালে গ্রাফিতি আঁকেন ও স্লোগান লেখেন। সংগঠনের সদস্য তথা প্রথম বর্ষের ছাত্রী সমীক্ষা জয়সওয়াল বলেন, ‘বামপন্থীরা এতদিন দেওয়ালগুলিকে নিজেদের একচেটিয়া সম্পত্তি ভাবত। এখন থেকে ভারত-বিরোধী স্লোগান লেখা হলে আমরা ভারতপন্থী ও বাম-বিরোধী স্লোগান দিয়ে তা ঢেকে দেবো।’ পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে হামলার মতো বিষয়গুলি তাদের লেখায় উঠে এসেছে।
স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ওয়ার্ল্ডভিউয়ের কাছে আইসার আঁকা একটি দেওয়ালে এনএসএফ কাস্তে-হাতুড়ির উপরে লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে দেয়। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই আইসা দেওয়ালটি পুনরুদ্ধার করে এনটিএ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি তোলে। আইসা সদস্য সুমন হালদারের অভিযোগ, ‘ছুটির দিনে দেওয়াল দখল করা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।’
অন্য দিকে, ‘আর্ট এগেনস্ট অপ্রেশন’ নামের একটি সংগঠনের আঁকা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও মাইকেল মধুসূদনের ছবির পাশে এনএসএফ লেখে, ‘দেশবিরোধী কাজ ঢাকতেই শুধু এঁদের স্মরণ করা হয়।’ এর পাল্টা ‘আর্ট এগেনস্ট অপ্রেশনে’র বক্তব্য, ‘ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা কখনও দেশবিরোধী হতে পারে না।’ এনএসএফের অন্যান্য স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘ফ্রি তিব্বত ফ্রম রেড ডেভিলস’, ‘ইটস আওয়ার ক্যাম্পাস, নট ইয়োর ওয়ো’, এবং ‘ইসরো বা ব্রহ্মোস হোক অনুপ্রেরণা, চারু মজুমদার নয়।’
এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে ডিএসএফ এবং এসএফআই। ডিএসএফ সদস্য নবাব জানান, ৫০ বছর ধরে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন এবং আগামী দিনে গণতান্ত্রিক ভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। এসএফআই নেত্রী তনিকা দেব জানান, ক্যাম্পাসে অশালীন স্লোগান লেখা অনুচিত। তাঁরা প্যালেস্তাইনের পাশাপাশি বাংলাদেশে হিন্দু হত্যারও তীব্র প্রতিবাদ করেছেন।