২০২৭ জুলাই থেকে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাটারি স্টোরেজ
নয়াদিল্লি: ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বা সিইএ খসড়া বিধিমালায় বলেছে, ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন সৌর ও…
নয়াদিল্লি: ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বা সিইএ খসড়া বিধিমালায় বলেছে, ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যাটারি স্টোরেজ বাধ্যতামূলক করা হবে।
লক্ষ্য হল উৎপাদিত গ্রীন এনার্জি সংরক্ষণ করে প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।খসড়া অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর চালু হওয়া গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সৌর ও অনশোর বায়ু প্রকল্পগুলোতে স্থাপিত ক্ষমতার অন্তত ১০ শতাংশের সমতুল্য ব্যাটারি স্টোরেজ থাকতে হবে।
এই স্টোরেজ কমপক্ষে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হতে হবে। (Battery storage)অর্থাৎ ১০০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্পে অন্তত ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি লাগবে, যা দুই ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ দিতে পারবে। ২০২৯ সালের জুলাই থেকে এই সময়সীমা বাড়িয়ে চার ঘণ্টা করা হবে। ক্ষমতার শতাংশ একই থাকবে।এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ। ভারত সৌর ও বায়ু শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ।
আরও দেখুনঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে সবচেয়ে বেশি দিন গদিতে মেলোনি! অভিনন্দন মোদীর
Advertisements
কিন্তু দিনের বেলায় উৎপাদন বেশি হলেও সন্ধ্যা বা রাতে চাহিদা মেটাতে সমস্যা হয়। অনেক সময় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়ে নষ্ট হয় বা সীমিত হয়। ব্যাটারি স্টোরেজ এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। উৎপাদনের সময় বিদ্যুৎ জমিয়ে রেখে পরে ব্যবহার করা যাবে।সিইএ আরও প্রস্তাব করেছে যে, নতুন প্রকল্পগুলোতে গ্রিড-ফর্মিং ইনভার্টার থাকতে হবে। অন্তত ১৫ শতাংশ ইনভার্টারে এই প্রযুক্তি থাকবে। ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের পাওয়ার কনভার্সন সিস্টেমেও গ্রিড-ফর্মিং সক্ষমতা থাকতে হবে।
এই প্রযুক্তি ভোল্টেজ ও ফ্রিকোয়েন্সি স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। (Battery storage)নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়ার সঙ্গে গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।নবায়ন ও নতুন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ছাড়া বড় আকারের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে একীভূত করা কঠিন। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।
সেই লক্ষ্য পূরণে স্টোরেজ ব্যবস্থা অপরিহার্য।এই প্রস্তাব শিল্পমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেক উন্নয়নকারী মনে করেন, ব্যাটারি খরচ প্রকল্পের ব্যয় বাড়াবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে এবং বিদ্যুৎ অপচয় কমাবে। ব্যাটারির দাম কমছে এবং সরকারি প্রণোদনা থাকলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।খসড়া বিধিমালা এখন জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মতামত বিবেচনা করা হবে।
বাস্তবায়ন হলে নতুন প্রকল্পগুলোতে স্টোরেজ একীভূত হয়ে আসবে। পুরনো প্রকল্পগুলোর জন্য আলাদা নিয়ম থাকতে পারে।ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ছে। সৌর ও বায়ুর অনিয়মিত উৎপাদন গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করে। ব্যাটারি স্টোরেজ এই চাপ কমাবে। দিনের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রাতের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও কমবে।