হুমকির মুখে মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ, সমাধানের জন্য ৪.৭৮ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা নাসার
মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে, বিশেষ করে থার্মোস্ফিয়ারে, আবহাওয়া-জনিত…
মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে, বিশেষ করে থার্মোস্ফিয়ারে, আবহাওয়া-জনিত পরিবর্তনের কারণে উপগ্রহগুলোর গতিপথ বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় নাসা ৫,০০,০০০ ডলার (প্রায় ৪,৭৮,৬১,৫৫০ টাকা) পুরস্কারমূল্যসহ একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, যা উপগ্রহের ওপর ক্রিয়াশীল বায়ুমণ্ডলীয় বাধা বা ‘ড্র্যাগ’ (atmospheric drag) সঠিকভাবে পরিমাপ করতে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হবে।
নাসা তার ‘অরবিটাল ক্ল্যারিটি চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় নতুন ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনকারী দলগুলোর জন্য ৫,০০,০০০ ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৪.৭৮ কোটি রুপি—পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
সমস্যাটা আসলে কী?
উড্ডয়নের সর্বোচ্চ উচ্চসীমা অতিক্রম করলেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কিন্তু হুট করে মিলিয়ে যায় না। সেই সর্বোচ্চ উচ্চতার অনেক ওপরেই রয়েছে গ্যাসীয় উপাদানে গঠিত এক পাতলা স্তর, যা ‘থার্মোস্ফিয়ার’ নামে পরিচিত। সূর্যের কোনো সক্রিয়তার ফলে নির্গত শক্তি এই স্তরটিকে উত্তপ্ত করে তোলে, যার ফলে এটি প্রসারিত হয়।
বায়ুমণ্ডলের স্তরের প্রসারণ ‘লো আর্থ অরবিট’ বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) বায়ুর ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে অধিকতর ‘ড্র্যাগ’ বা বায়ুর বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সময়ের সাথে সাথে এই বাধা উপগ্রহগুলোর গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং সেগুলোকে তাদের নির্ধারিত কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। নিম্ন কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, এই ঝুঁকি সঠিকভাবে নিরূপণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Advertisements
সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী সমাধানের সন্ধানে
নাসার মূল লক্ষ্য হলো এমন সব সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী যন্ত্র খুঁজে বের করা, যা থার্মোস্ফিয়ারের ঘনত্ব, চাপ বা ড্র্যাগ (বায়ুমণ্ডলীয় বাধা) সঠিকভাবে পরিমাপ করতে কিংবা এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের পরিবর্তে নাসা এমন প্রযুক্তির সন্ধান করছে যা ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব এবং বাণিজ্যিক উপগ্রহগুলোতে সহজেই স্থাপন করা যায়। এটি বিজ্ঞানীদের রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করবে, যার ফলে মহাকাশ আবহাওয়ার কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের গতিপথে যে পরিবর্তন আসে, সে সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। ১৯ আগস্ট ২০২৬-এ শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাটি নাসার ‘টেক-লিপ প্রাইজ’ (TechLeap Prize) কর্মসূচির একটি অংশ। এটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেরা চারটি ধারণা নির্বাচন করা হবে।
বিজয়ী দলগুলো কী পাবে?
এই পরীক্ষায় বিজয়ী দলগুলোকে ৫,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের অর্থের পাশাপাশি, নাসা বিজয়ী দলগুলোকে তাদের প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে ‘টেস্ট ফ্লাইট’ বা পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সুবিধাও প্রদান করবে। নাসার লক্ষ্য হলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই নতুন প্রযুক্তিটিকে মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা।
নাসার হেলিওফিজিক্স ডিভিশন, ফ্লাইট অপরচুনিটিস প্রোগ্রাম এবং সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ফর কোলাবোরেটিভ ইনোভেশন যৌথভাবে এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে মহাকাশে ক্রমবর্ধমান স্যাটেলাইটের সংখ্যা ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।