মহালয়ায় ইডেনে মেগা অনুষ্ঠান, নজর গিনেস রেকর্ডে! আমন্ত্রণ পাবেন মোদী-শাহ
কলকাতা: মহালয়ার দিনই দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহকে আরও (Mahalaya)জমকালো করে তুলতে বড়সড় আয়োজনের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একটি…
কলকাতা: মহালয়ার দিনই দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহকে আরও (Mahalaya)জমকালো করে তুলতে বড়সড় আয়োজনের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একটি মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। (Mahalaya )মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তাঁদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে নিশ্চিত খবর পরে জানানো হবে।
আরও দেখুনঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে সবচেয়ে বেশি দিন গদিতে মেলোনি! অভিনন্দন মোদীর
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সরকারের লক্ষ্য শুধু দুর্গাপুজোর সূচনা উদযাপন নয়, বরং এমন একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন করা, যা আন্তর্জাতিক রেকর্ডের তালিকাতেও জায়গা করে নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একাধিক রাজ্যে বড় আকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে। সেই নজির সামনে রেখেই বাংলায় মহালয়ার অনুষ্ঠানকে আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Advertisements
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে অসমের গুয়াহাটিতে আয়োজিত বিহু অনুষ্ঠানে ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী এবং ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক অংশ নিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের ভোগাপুরামে আরও একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নজর কেড়েছে। (Mahalaya )সেখানে প্রায় ১৪ হাজার আদিবাসী তরুণীর অংশগ্রহণ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল। এই দুই আয়োজনের সাফল্য থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে বাংলার মহালয়া অনুষ্ঠানকে রেকর্ড গড়ার মতো করে সাজাতে চাইছে সরকার।
বুধবার বালুরঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহালয়া একটি বড় অনুষ্ঠান হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে পরে জানানো হবে।” ফলে এখন থেকেই মহালয়ার ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিল্পীকে নিয়ে আসার ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকি, লোকশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। দুর্গাপুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ধুনুচি নাচ-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনাও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, মহালয়ার অনুষ্ঠানকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে না রেখে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বৃহত্তর উদযাপন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে সরকার। দুর্গাপুজো যে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেই বার্তাই দেশ-বিদেশের অতিথিদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
তবে মহালয়ার দিনে দুর্গাপুজোর সূচনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক বাংলায় নতুন নয়। অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে মহালয়ার (Mahalaya)দিন দুর্গাপুজোর উদ্বোধন এবং পুজো-পরবর্তী রেড রোড কার্নিভাল নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সমালোচনা করা হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই মহালয়াকেই কেন্দ্র করে বর্তমান সরকার যে বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।