৯ দিন মাটির তলায়! নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২, ভেসে আসছে আরও আর্তনাদ - 24 Ghanta Bangla News
Home

৯ দিন মাটির তলায়! নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২, ভেসে আসছে আরও আর্তনাদ

Spread the love

কাঠমাণ্ডু: চারদিকে যখন শুধুই মৃত্যু আর ধ্বংসের খবর, তখন আচমকাই অন্ধকারে দেখা মিলল এক চিলতে আশার আলোর। গত ২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর ৯টি…

কাঠমাণ্ডু: চারদিকে যখন শুধুই মৃত্যু আর ধ্বংসের খবর, তখন আচমকাই অন্ধকারে দেখা মিলল এক চিলতে আশার আলোর। গত ২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর ৯টি দিন কেটে গিয়েছে। মাটির তলায় জমাট বাঁধা অন্ধকার সুড়ঙ্গে একটানা আটকে থাকার পর, নেপালের রসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল দু’জনকে! শুধু তাই নয়, উদ্ধারকারীদের দাবি, সুড়ঙ্গের আরও গভীর থেকে ভেসে আসছে মানুষের গলা। যার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার মাঝেই নতুন করে বেঁচে থাকার আশা জাগছে স্বজনহারাদের মনে।

ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওই সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে কাজ করছিল নেপালি সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশের বিশেষ দল। সেই উদ্ধারকারী দলে থাকা ইঞ্জিনিয়ার তথা ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’-র সাংসদ শ্রীরাম নেউপানে নিজের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই কর্মীর নাম সঞ্জয় সাহ (মেকানিক্যাল ফোরম্যান) এবং কবীর মহরজন (মেকানিক্যাল সুপারভাইজার)। প্রথমে সঞ্জয়কে এবং পরে কবীরকে সুড়ঙ্গের অন্ধকার থেকে বের করে আনা হয়।

এর আগে শ্রীরাম তাঁর পোস্টে জানিয়েছিলেন, সুড়ঙ্গের গভীরে পৌঁছনোর পর উদ্ধারকারীরা একাধিক মানুষের গলা শুনতে পেয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘‘উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে মানুষের কথা বলার আওয়াজ পেয়েছেন। তাঁরা যখন ভেতর থেকে চিৎকার করে বলেন, ‘ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করছি’, তখন ভেতর থেকেও সাড়া মেলে।’’ তাঁর মতে, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটা খবর। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সুড়ঙ্গের কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে সেনা।

আশার মাঝেই মৃতদেহের হদিস

তবে ত্রিশূলী-৩এ-তে আশার আলো দেখা গেলেও, রসুয়ারই অন্য একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘লাংতাং খোলা’-তে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেখানে প্রায় ১৫০ মিটার গভীরে প্রবেশ করে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সেনা। জানা গিয়েছে, এই ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৪১ জন কর্মীর এখনও কোনও খোঁজ নেই।

Advertisements


   


   

অপেক্ষার প্রহর ও বুকফাটা যন্ত্রণা

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নেপালে এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৫৯। এখনও পর্যন্ত হদিস নেই অন্তত ৫,০৫৩ জন মানুষের। একা ত্রিশূলী-৩এ থেকেই নিখোঁজ প্রায় ৪০ জন, আর দেশের ৬টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা ৯০০-রও বেশি।

সরকারি অফিস থেকে সেনা সদর দফতর, সর্বত্র হন্যে হয়ে ঘুরছেন নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের লোকেরা। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা এক ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, এতগুলো দিন কেটে গেলেও তাঁরা এখনও আশা ছাড়তে নারাজ। মাটির তলায় ৯ দিন পরেও যখন প্রাণের স্পন্দন মিলেছে, তখন চরম উৎকণ্ঠার প্রহর গুনেও বেঁচে ফেরার আশায় বুক বাঁধছেন তাঁরা।

মাঝআকাশে বোমাতঙ্ক! দাম্মাম-দিল্লি বিমানে হুমকি-চিঠির নেপথ্যে কি খোদ ক্রু সদস্য?

নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৬০০ শিশু! ‘সন্তানরা কোথায়?’ হাহাকার বাবা-মায়েদের

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *