বড় বাজার ধরতে Ather Konark নিয়ে এল সস্তায় ইলেকট্রিক স্কুটার - 24 Ghanta Bangla News
Home

বড় বাজার ধরতে Ather Konark নিয়ে এল সস্তায় ইলেকট্রিক স্কুটার

Spread the love

কলকাতা: ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজারে আরও বড় জায়গা দখলের লক্ষ্যে নতুন কনার্ক নিয়ে এল অ্যাথার (Ather Konark)। এতদিন প্রযুক্তিনির্ভর প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক স্কুটারের জন্য পরিচিত অ্যাথার এবার তুলনামূলক বেশি সংখ্যক সাধারণ ক্রেতার কাছে পৌঁছতে চাইছে। নতুন কনার্ক সেই পরিকল্পনারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কনার্ক হল অ্যাথারের নতুন ইএল প্ল্যাটফর্মে তৈরি প্রথম মডেল। সংস্থার দাবি, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা, সহজে রক্ষণাবেক্ষণ এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের কথা মাথায় রেখে।

ছয়টি ভ্যারিয়েন্টে আসবে কনার্ক

অ্যাথার কনার্ককে এস এবং জেড, এই দুই লাইনে বাজারে আনবে। মোট ছয়টি ভ্যারিয়েন্ট ধাপে ধাপে বাজারে আসবে। বর্তমানে ঘোষিত দাম অনুযায়ী, ১০০ কিমি রেঞ্জের কনার্ক এস-এর দাম ৯৯,৯৯৯ টাকা। ১২৫ কিমি রেঞ্জের কনার্ক এস-এর দাম ১.২২ লাখ টাকা, আর ১৬১ কিমি রেঞ্জের সংস্করণের দাম ১.৪৫ লাখ টাকা। ২০০ কিমি রেঞ্জের কনার্ক এস এবং জেড সিরিজের দুটি ভ্যারিয়েন্টের দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

কবে কোন মডেল আসবে?

কনার্কের বাজারে আসার প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে হবে। প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কনার্ক এস ১২৫ এবং এস ১৬১-এর সরবরাহ শুরু হবে। এরপর ১০০ কিমি রেঞ্জের কনার্ক এস আসবে ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে। জেড সিরিজের দুটি মডেল বাজারে আসার কথা ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে। সবশেষে ২০০ কিমি রেঞ্জের কনার্ক এস আসবে ২০২৭ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। অ্যাথারের লক্ষ্য, আগামী এক বছরে কনার্কের সব ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনার পর ভারতের স্কুটার বাজারের ৮০-৯০ শতাংশ ক্রেতার চাহিদা কভার করার মতো বিকল্প তৈরি করা।

ather konark colours see all four colour options

সার্ভিসিং নিয়ে বড় পরিবর্তন

ইলেকট্রিক স্কুটারের মালিকদের অন্যতম চিন্তা সার্ভিসিং। অ্যাথার নতুন কনার্কের মাধ্যমে সেই জায়গাতেও পরিবর্তন আনতে চাইছে। সাধারণত অধিকাংশ স্কুটারের সার্ভিসিং ইন্টারভাল প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার হলেও কনার্কে তা বাড়িয়ে ১০,০০০ কিলোমিটার করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্ভিসিংয়ের সময় পরীক্ষা করতে হয় এমন পয়েন্টের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। লঞ্চের সময় একটি প্রদর্শনীতে কনার্কের মোটর ও ট্রান্সমিশন অ্যাসেম্বলি মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে খুলে ফেলা হয়। সেটি আবার গাড়িতে লাগাতে সময় লাগে ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড।

অ্যাথারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও তরুণ মেহতা অবশ্য জানিয়েছেন, বাস্তবে প্রতিটি সার্ভিস সেন্টারে একই সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে এমনটা নয়। তবে কনার্কের আর্কিটেকচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সার্ভিসিং সহজ হয় এবং কম সময়ে করা যায়।

চার্জিং সমস্যার সমাধানে অ্যাথারনোড

ইলেকট্রিক স্কুটারের ক্ষেত্রে চার্জিং পরিকাঠামোও বড় বিষয়। কনার্ক ব্যবহারকারীরা অ্যাথারের প্রায় ৬,০০০টি পাবলিক ফাস্ট চার্জার-এর নেটওয়ার্ক অ্যাথার গ্রিড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সংস্থার মতে, আগামী দিনে আবাসন বা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে চার্জিং ব্যবস্থা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যাথার নিয়ে এসেছে অ্যাথারনোড।

এটি আবাসনের সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আলাদা পার্কিং স্পেসে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করতে সাহায্য করবে। সিস্টেমটি বিল্ডিংয়ের মোট বিদ্যুৎ লোড নিয়ন্ত্রণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন গাড়ির চার্জিংয়ের জন্য কিউ তৈরি করবে।

এছাড়া প্রতিটি বাসিন্দার জন্য আলাদা বিল তৈরি করা যাবে। এর ফলে কোনও আবাসনকে একসঙ্গে ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন না-ও হতে পারে। অ্যাথার ডিসেম্বর থেকে ছয়টি শহরে অ্যাথারনোড চালু করার পরিকল্পনা করেছে। প্রথম শহর হিসেবে বেঙ্গালুরুকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

৯০০ ওয়াট পর্যন্ত চার্জিং

কনার্কে রয়েছে ৪৫০ ওয়াটের অনবোর্ড চার্জার। তবে এটি সম্মিলিত চার্জিং সমর্থন করে। অর্থাৎ স্কুটারের সঙ্গে থাকা চার্জিং ব্যবস্থার পাশাপাশি আরও একটি ৪৫০ ওয়াটের বাহ্যিক চার্জার ব্যবহার করা যাবে। দুটি চার্জার একসঙ্গে ব্যবহার করলে মোট চার্জিং ক্ষমতা ৯০০ ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

পুরনো স্কুটার বিক্রিতেও সাহায্য করবে ট্রু হেলথ

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে নতুন ক্রেতাদের আরেকটি প্রশ্ন হল ভবিষ্যতে গাড়িটি বিক্রি করলে কত দাম পাওয়া যাবে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য অ্যাথার তাদের অ্যাপে ট্রু হেলথ নামে নতুন ডিজিটাল রিপোর্ট চালু করেছে। যোগ্য তিন বছরের বেশি পুরনো স্কুটারের ক্ষেত্রে এই রিপোর্টে ব্যাটারি, মোটর, চার্জার, ড্যাশবোর্ড, সার্ভিসের ইতিহাস এবং বিভিন্ন ক্ষয়যোগ্য যন্ত্রাংশের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য থাকবে।

এমনকি ব্যাটারির স্টেট অব হেলথ এবং স্কুটারটির আনুমানিক পুনর্বিক্রয় মূল্যও দেখা যাবে। সংস্থার যাচাই করা এই রিপোর্ট ক্রেতা এবং বিক্রেতা দু’পক্ষকেই গাড়ির প্রকৃত অবস্থা বুঝে দাম নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে।

প্রযুক্তির সঙ্গে এবার সাধারণ ক্রেতার চাহিদাতেও নজর

অ্যাথার এতদিন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর ইলেকট্রিক স্কুটারের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। কনার্কের মাধ্যমে সেই প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ স্কুটার ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলিকেও একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তরুণ মেহতার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাথার যখন শুরু করেছিল, তখন ক্রেতাদের প্রধান প্রশ্ন ছিল ইলেকট্রিক স্কুটার যথেষ্ট শক্তিশালী কি না, নির্ভরযোগ্য কি না এবং বাস্তবে ব্যবহার করা কতটা সুবিধাজনক।

কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের প্রশ্নও বদলেছে। এখন তাঁরা জানতে চান, কোথায় চার্জ করবেন, ব্যাটারি কতটা নিরাপদ, কতদিন চলবে, সার্ভিসিং কীভাবে হবে এবং ভবিষ্যতে গাড়ি বিক্রি করলে কতটা দাম পাওয়া যাবে। কনার্কের মাধ্যমে অ্যাথার মূলত সার্ভিসিং, চার্জিং এবং পুনর্বিক্রয় মূল্য, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে চাইছে।

সফটওয়্যার ব্যবহারে অ্যাথারের জোর

বাজারের আরও সাধারণ অংশে প্রবেশ করলেও অ্যাথার তাদের সফটওয়্যারকেন্দ্রিক কৌশল থেকে সরে আসছে না। এর উদাহরণ হিসেবে সংস্থা মধ্যপ্রদেশের তথ্য তুলে ধরেছে।

সেখানে অ্যাথারস্ট্যাক প্রোর ব্যবহার শুরুর দিকে প্রায় ৪০ শতাংশ থাকলেও পরে আউটলেটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তা ৮৮ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।

ফলে কনার্ক শুধু একটি নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার নয়, অ্যাথারের জন্য আরও বড় বাজারে প্রবেশের কৌশল। এতদিন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য দিয়ে যে সীমিত ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল, এবার তার বাইরে গিয়ে পেট্রলচালিত স্কুটারের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে চাইছে সংস্থা। কনার্কের উন্নত সার্ভিসিং, চার্জিং পরিকাঠামো এবং পুনর্বিক্রয় সংক্রান্ত সুবিধা সাধারণ ক্রেতাদের ইলেকট্রিক স্কুটারে আস্থা বাড়াতে কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *