দেশজুড়ে ২,০০০ আউটলেটের লক্ষ্য Ather-এর, আসছে আরও সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক স্কুটার
হোসুর: ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে অ্যাথার (Ather) এনার্জি। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বাজারে সংস্থার খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ২,০০০-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি স্টোরের মাধ্যমে অ্যাথারের ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি হয়। নতুন কনার্ক পরিবারের স্কুটার বাজারে আনা এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও সাশ্রয়ী দামের মডেলের মাধ্যমে বাজারের বৃহত্তর অংশে পৌঁছতে চাইছে সংস্থা।
২৪ মাসে ১,৮০০-২,০০০ স্টোর
অ্যাথার এনার্জির চিফ বিজনেস অফিসার রবনীত ফোকেলা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ মাসে ১,৮০০ থেকে ২,০০০টি স্টোর তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার। বর্তমানে অ্যাথারের ৪৫০এক্স এবং রিজ়তা ইলেকট্রিক স্কুটার মূলত প্রিমিয়াম এবং মাস প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বিক্রি হয়। দেশের প্রায় ৭৫০টি স্টোরে এই মডেলগুলি পাওয়া যায়।
এবার নতুন ইএল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তুলনামূলক কম দামের ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে অ্যাথার। ফলে আগামী দিনে শুধু প্রিমিয়াম ক্রেতাদের উপর নির্ভর না করে আরও বড় ক্রেতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কনার্ক দিয়ে শুরু নতুন পরিকল্পনা
অ্যাথারের নতুন ইএল প্ল্যাটফর্মে তৈরি প্রথম স্কুটার কনার্ক। এটি দুটি সিরিজে এবং ছয়টি ব্যাটারি বিকল্পে বাজারে আসবে। প্রাথমিকভাবে কনার্কের এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৯৯,৯৯৯ টাকা। প্রথম পর্যায়ে কনার্ক এস ১২৫ এবং এস ১৬১, এই দুই সংস্করণের ডেলিভারি সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে বাকি ব্যাটারি বিকল্পগুলিও বাজারে আনা হবে।
অ্যাথারের মতে, নতুন ইএল প্ল্যাটফর্ম শুধু একটি নির্দিষ্ট মডেলের জন্য তৈরি নয়। এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের স্কুটার তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটারির আকার, চাকার মাপ এবং ড্যাশবোর্ডের নকশাতেও পরিবর্তন করা যাবে।
উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্য
নতুন প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সুবিধা হিসেবে খরচ কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে অ্যাথার। প্ল্যাটফর্মটিতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার কমানো এবং ইঞ্জিনিয়ারিংকে তুলনামূলক সহজ করার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব বলে সংস্থার দাবি।
এর ফলে একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একাধিক মডেল দ্রুত বাজারে আনা যাবে। অ্যাথার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে একাধিক ইলেকট্রিক স্কুটার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ কনার্ককে একটি বিচ্ছিন্ন মডেল হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের আরও বিস্তৃত স্কুটার পরিবারের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সংস্থা।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের জন্য আরও অপেক্ষা
অ্যাথার শুধু স্কুটারেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনায় ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল রয়েছে ঠিকই, তবে সেটির জন্য এখনও বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। অ্যাথারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারে আসতে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ আপাতত সংস্থার প্রধান লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক স্কুটারের মাধ্যমে বাজারের পরিধি বাড়ানো।
উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে অ্যাথার
বাজারে আরও বেশি মডেল এবং বেশি সংখ্যক স্কুটার বিক্রির পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়াতে চাইছে অ্যাথার। বর্তমানে সংস্থার প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হোসুরে। এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪.২০ লাখ ইউনিট। এর পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে, যা আগে ঔরঙ্গাবাদ নামে পরিচিত ছিল, নতুন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি করছে সংস্থা।
নতুন কারখানায় ৫ লাখ ইউনিটের ক্ষমতা
ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের নতুন কারখানার প্রথম পর্যায়ের কাজ চলতি বছরের শেষের দিকে চালু হওয়ার কথা। প্রথম পর্যায় সম্পূর্ণ কার্যকর হলে কারখানাটি অ্যাথারের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতায় আরও ৫ লাখ ইউনিট যোগ করবে। ফলে হোসুরের বর্তমান ক্ষমতার সঙ্গে নতুন কারখানার উৎপাদন যুক্ত হলে সংস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। চাহিদা বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর কারখানার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও নির্ধারিত সময়ের আগে শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে অ্যাথার ভাবনাচিন্তা করছে।
আপাতত ভারতের বাজারেই বেশি জোর
অ্যাথারের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আপাতত ভারতের বাজারই প্রধান লক্ষ্য। রবনীত ফোকেলার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছর দেশের বাজারে ব্যবসা বাড়ানোর উপর বেশি গুরুত্ব দেবে সংস্থা।
রফতানি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তবে সেটিকে এখনই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ নতুন স্টোর, উৎপাদন ক্ষমতা এবং সাশ্রয়ী মডেল, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনের দেশীয় ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে অ্যাথার।
কনার্কের মাধ্যমে অ্যাথার যে বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত স্টোর সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল। আগামী ২৪ মাসে যদি ১,৮০০-২,০০০টি স্টোরের লক্ষ্য পূরণ হয় এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হয়, তাহলে ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে অ্যাথারের উপস্থিতি বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বড় হতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন