দেদার ‘বিকোচ্ছে’ ডিগ্রি! রাজ্যের কয়েকশো বিএড কলেজকে শো-কজ়, জানালেন মন্ত্রী জগন্নাথ
বিএড কলেজগুলির উপরে নজর রাজ্য প্রশাসনের। রাজ্যে নানা জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা পরিকাঠামোহীন বিএড কলেজগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সাড়ে চারশোর বেশি বিএড কলেজকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, পড়শি রাজ্যের মুখ্যসচিব মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন যে, এই রাজ্যে ডিগ্রি বিক্রি হচ্ছে যার প্রভাবে ওই রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা এই রাজ্যে পড়াশোনা করতে আসছে। এরপরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের ৬০২টি বেসরকারি বিএড কলেজগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। কলেজগুলিতে পড়াশোনা হচ্ছে কি না, শিক্ষক আছে কি না, পড়ুয়া আছে কি না, কতটা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হয়েছে। রাজ্যের তরফে যে পরিদর্শন হয়েছে, তাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ১০০ নম্বরের নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্সে পরিকাঠামো ও পাঠদানের মান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, কলেজগুলির প্রাপ্ত গড় নম্বর মাত্র ৫১.৫%। তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ ছবি।
৫৩টি কলেজ অস্তিত্বহীন:
পরিদর্শকেরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে দেখেছেন, বাস্তবে ৫৩টি বিএড কলেজের কোনও অস্তিত্ব নেই। হয় সেখানে অন্য কোনও কাজ চলছে, নয়তো বাড়ি বন্ধ।
একই ঠিকানা কিন্তু একাধিক সাইনবোর্ড:
১৭টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে কোনও ফ্ল্যাটের ঠিকানায় বিএড কলেজের এনওসি দেওয়া রয়েছে। কেবল সাইনবোর্ড বদলে গিয়েছে, কিন্তু একই ঠিকানায় বিএড, পলিটেকনিক ও ফার্মাসি কলেজ চালানোর অভিযোগও এসেছে।
২৬৫টি প্রতিষ্ঠান ‘অচল’:
১১৪টি কলেজ ১০০-র মধ্যে ৩০-এর কম নম্বর পেয়েছে। ভুয়ো ও অযোগ্য মিলিয়ে মোট ২৬৫টি কলেজকে পুরোপুরি ‘অচল’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ১২১টি কলেজের পরিকাঠামো অত্যন্ত সঙ্গিন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সন্তোষজনক পারফরম্যান্স কতগুলি বিএড কলেজের?
মাত্র ১৫১টি কলেজ ৬৫ থেকে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, শিক্ষকের উপস্থিতি ও সঠিক পরিকাঠামো বজায় রাখতে পেরেছে বলে জানা গিয়েছে।