বালুরঘাটে ২ লাখ বোতল ফেনসিডিলে রোলার চালিয়ে ধ্বংস মুখ্যমন্ত্রীর
বালুরঘাট: মাদকমুক্ত ভারত গড়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচারাভিযানকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে বুধবার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী…
বালুরঘাট: মাদকমুক্ত ভারত গড়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচারাভিযানকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে বুধবার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশেষ করে সীমান্তপথে মাদক পাচার বন্ধ করতে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বালুরঘাটে একটি সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন বালুরঘাটে বেআইনিভাবে পাচার করা বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ ধ্বংস করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একটি রোড রোলারে উঠে ওই কাশির সিরাপের বোতল নষ্ট করেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছিল এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস
শুভেন্দু অধিকারী জানান, বুধবার প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ এবং পুলিশের যৌথ সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে এই কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করার এই ঘটনা শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে গোটা দেশকে একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতেই এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে মাদকাসক্তিমুক্ত করার যে লক্ষ্য নিয়েছেন, বুধবারের অভিযান সেই প্রচেষ্টাকে আরও বিস্তৃত করার অংশ। রাজ্যেও মাদক ও নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সীমান্তে বিএসএফ-পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর দাবি
দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই অংশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে কাশির সিরাপের চাহিদা থাকায় ফেনসিডিল পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বর্তমানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিএসএফ এবং পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। এমনকি বিএসএফকে শত্রুর মতো দেখা হত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে যৌথ অভিযান এবং তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মাদক পাচারে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাবাসের মতো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত চার মাসে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বড় পরিমাণে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সেগুলিরই প্রতীকীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তাঁর বার্তা, “আমরা বাংলাকে মাদকমুক্ত করব।” গত মাসেও দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
শীঘ্রই বিমান পরিষেবা পাবে বালুরঘাট?
এ দিনের অনুষ্ঠানে বালুরঘাটের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই বালুরঘাটের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বালুরঘাটকে কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই শহর থেকে বিমান পরিষেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও বালুরঘাটে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একদিকে সীমান্তপথে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে বিমান যোগাযোগ ও মেডিক্যাল কলেজের মতো পরিকাঠামো তৈরির ঘোষণা, বালুরঘাটের এই কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন, দুই বিষয়েই জোর দেওয়ার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।