১ লাখ নাকি ১০ লাখ, সম্পদ তৈরিতে কোন লক্ষ্য আগে রাখবেন? - 24 Ghanta Bangla News
Home

১ লাখ নাকি ১০ লাখ, সম্পদ তৈরিতে কোন লক্ষ্য আগে রাখবেন?

Spread the love

মুম্বই: সম্পদ তৈরি  (Personal Finance)একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি বড় তহবিল তৈরি হয়। তাই অনেক ভারতীয় পরিবারের…

মুম্বই: সম্পদ তৈরি  (Personal Finance)একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি বড় তহবিল তৈরি হয়। তাই অনেক ভারতীয় পরিবারের সামনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে, প্রথমে ১ লাখ টাকা সঞ্চয়ের লক্ষ্য রাখা ভালো, নাকি সরাসরি ১০ লাখ টাকার বড় লক্ষ্য নেওয়া উচিত?

১০ লাখ টাকার লক্ষ্য অবশ্যই বেশি আকর্ষণীয়। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হল, বড় লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগে ছোট এবং বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্য দিয়ে শুরু করা ভালো। সেই দিক থেকে প্রথম আর্থিক মাইলস্টোন হিসেবে ১ লাখ টাকা তৈরি করা বেশি ব্যবহারিক হতে পারে। এই অর্থ একটি প্রাথমিক আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকার লক্ষ্যে পৌঁছনোর ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে।

আদানির ২ প্রকল্পের জন্য ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি কেটে সাফ মহারাষ্ট্রে

আর্থিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝায়?

আর্থিক লক্ষ্য হল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা বা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা। যেমন, জরুরি খরচের জন্য টাকা রাখা, বাড়ি কেনার জন্য সঞ্চয় করা, সন্তানের পড়াশোনার জন্য অর্থ তৈরি করা বা অবসরের জন্য তহবিল গড়ে তোলা। ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতির কারণে সময়ের সঙ্গে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে। তাই ভবিষ্যতের খরচের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই পরিষ্কার আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য শুধু বেশি বিনিয়োগের রিটার্ন পাওয়া নয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলির জন্য আগে থেকেই অর্থের ব্যবস্থা করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ফলে প্রতিটি টাকার একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপও কিছুটা কমানো যায়।

থাকবে না ডলারের চিহ্ন! কেন গুরুত্বপূর্ণ BRICS র এই সম্মেলন ?

কেন প্রথম লক্ষ্য ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত?

১. তৈরি হবে প্রাথমিক নিরাপত্তার তহবিল

প্রথম ১ লাখ টাকা আপনার আর্থিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে। হঠাৎ গাড়ি বা বাড়ি মেরামত, জরুরি কোনও খরচ অথবা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে এই টাকা প্রাথমিক জরুরি তহবিল হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে ছোটখাটো আর্থিক সমস্যার জন্য সঙ্গে সঙ্গে ঋণ বা ধার করার প্রয়োজন কমে। একটি নির্দিষ্ট নগদ তহবিল হাতে থাকলে হঠাৎ খরচ এলেও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

২. সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয়

১ লাখ টাকার প্রথম মাইলস্টোনে পৌঁছনো শুধু অর্থ জমা করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসও তৈরি হয়। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাস ভবিষ্যতের বড় আর্থিক লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে। একবার প্রথম লক্ষ্য পূরণ হলে নিজের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে। যাঁরা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত বিনিয়োগের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে রুপি-কস্ট অ্যাভারেজিং-এর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

৩. অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমে

হঠাৎ চিকিৎসার খরচ, বাড়ির কোনও জরুরি মেরামতি অথবা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত ব্যয় সামনে এলে অনেকের আর্থিক পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আগে থেকেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখা থাকলে পরিস্থিতি সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়। এই আর্থিক সুরক্ষা মানসিক চাপও কমাতে পারে।

১ লাখের পর লক্ষ্য ১০ লাখ

প্রথম ১ লাখ টাকা জমা হয়ে গেলে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ১০ লাখ টাকা। এই পর্যায় থেকেই নিয়মিত সঞ্চয় এবং চক্রবৃদ্ধি বা কম্পাউন্ডিংয়ের শক্তি আরও স্পষ্ট হতে শুরু করতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। ১ লাখ থেকে ১০ লাখে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে শুধু বিনিয়োগের রিটার্নের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রথম দিকে আপনার আয় এবং প্রতি মাসে কত টাকা সঞ্চয় করছেন, সেটিই তহবিল তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। আপনার সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের রিটার্ন এবং চক্রবৃদ্ধির প্রভাবও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বেতন বাড়লে খরচ নয়, সঞ্চয় বাড়ান

প্রথম ১ লাখ টাকা তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে সঞ্চয়ের হার বাড়ানো। বেতন বাড়লে অনেকেই জীবনযাত্রার খরচও একই সঙ্গে বাড়িয়ে দেন। ফলে আয় বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না। তার পরিবর্তে বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ সরাসরি আর্থিক লক্ষ্যে পাঠানো যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বেতন বাড়লে সেই অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় বা বিনিয়োগে রাখা যায়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ১০ লাখ টাকার লক্ষ্যে পৌঁছনোর গতি বাড়তে পারে।

১ লাখ থেকে ১০ লাখের পথ

দুটি লক্ষ্যকে যদি পাশাপাশি দেখা হয়, তাহলে ১ লাখ টাকা হল ভিত্তি তৈরি করার মাইলস্টোন এবং ১০ লাখ টাকা হল সেই ভিত্তির ওপর বড় তহবিল গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপ। প্রথম লক্ষ্যটি তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় তা বাস্তবসম্মত মনে হতে পারে। লক্ষ্য পূরণ হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস আরও শক্তিশালী হয়। এরপর একই অভ্যাসকে দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়াই ১০ লাখ টাকার লক্ষ্যে পৌঁছনোর মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

তাহলে কোন লক্ষ্য আগে?

যাঁরা আর্থিক সঞ্চয়ের যাত্রা শুরু করছেন, তাঁদের জন্য প্রথমে ১ লাখ টাকার লক্ষ্য নেওয়া বেশি ব্যবহারিক। কারণ এটি একটি প্রাথমিক আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করে, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে এবং পরবর্তী বড় লক্ষ্য নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। এরপর ১০ লাখ টাকার লক্ষ্যে যাওয়ার সময় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করা এবং বেতন বাড়লে সঞ্চয়ের হারও বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

১ লাখ টাকা শেষ লক্ষ্য নয়, বরং ১০ লাখ টাকার পথে প্রথম বড় মাইলস্টোন। ছোট লক্ষ্য দিয়ে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির আরও স্থিতিশীল পদ্ধতি হতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *