স্মার্টফোনে কত জিবি র্যাম দরকার? ৮ জিবি, ১২ জিবি নাকি ১৬ জিবি, জেনে নিন
Smartphone Guide: স্মার্টফোন কেনার সময় প্রসেসর, ক্যামেরা এবং ব্যাটারির পাশাপাশি র্যাম এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং সেই মুহূর্তে চালু থাকা অ্যাপগুলিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত র্যাম থাকলে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার সময় বারবার অ্যাপ রিলোড হওয়ার সম্ভাবনা কমে। তবে শুধু র্যামের পরিমাণ বাড়ালেই যে ফোনের গতি একই অনুপাতে বেড়ে যাবে, এমনটা নয়।
স্মার্টফোনে র্যামের ট্রেন্ড বদলেছে
কয়েক বছর আগেও ভালো স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ২ জিবি বা ৩ জিবি র্যাম যথেষ্ট বলে ধরা হত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে এন্ট্রি-লেভেল ফোনেও সাধারণত ৪ জিবি র্যাম দেখা যায়। বাজারে ৪ জিবি, ৬ জিবি, ৮ জিবি, ১২ জিবি এবং ১৬ জিবি র্যামের ফোনও রয়েছে।
৪ জিবি র্যাম ফোন কল, মেসেজিং, ওয়েব ব্রাউজিংয়ের মতো সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। ৬ জিবি র্যাম দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি কিছুটা ভারী মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভালো। ৮ জিবি র্যাম বর্তমানে মিড-রেঞ্জ ফোনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফিগারেশন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ভিডিও স্ট্রিমিং, সাধারণ গেমিং এবং ফটোগ্রাফির মতো কাজ সহজেই সামলাতে পারে। ১২ জিবি র্যাম আরও ভারী অ্যাপ, গেমিং এবং একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
৮ জিবি র্যাম কি যথেষ্ট?
বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ৮ জিবি র্যামই যথেষ্ট। আপনার ব্যবহার যদি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ, ওয়েব ব্রাউজিং, ইউটিউব, মিউজিক স্ট্রিমিং, ফটোগ্রাফি এবং মাঝারি গেমিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ৮ জিবি র্যামের ফোন আগামী কয়েক বছরও যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। শুধু বেশি র্যামের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই।
কখন ১২ জিবি র্যাম নেওয়া উচিত?
যারা নিয়মিত একাধিক ভারী অ্যাপ ব্যবহার করেন, বড় গেম খেলেন কিংবা ফোনে বেশি মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের জন্য ১২ জিবি র্যাম বেশি উপযুক্ত। এছাড়া স্মার্টফোনে অন-ডিভাইস এআই ফিচারের ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই-ভিত্তিক ফিচার একসঙ্গে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বেশি র্যাম কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাই নতুন ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে ১২ জিবি একটি ভালো ব্যালান্সড অপশন।
১৬ জিবি র্যাম কার জন্য?
১৬ জিবি র্যাম এখন প্রিমিয়াম এবং গেমিং স্মার্টফোনে বেশ পরিচিত কনফিগারেশন। যারা অত্যন্ত ভারী গেম খেলেন, একইসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালান অথবা ফোনে বেশি পরিমাণ এআই-ভিত্তিক কাজ করেন, তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ১৬ জিবি র্যামের প্রয়োজন খুব বেশি নয়। ৮ জিবি বা ১২ জিবি ফোনেই তাদের প্রয়োজনীয় কাজ হয়ে যাবে।
২৪ জিবি র্যাম কি সত্যিই প্রয়োজন?
কিছু ফ্ল্যাগশিপ ও গেমিং ফোনে এখন ২৪ জিবি র্যাম পর্যন্ত দেখা যায়। রেডম্যাজিক ১০ প্রো, ওয়ানপ্লাস ১৩, আসুস আরওজি ফোন ৮ প্রো এবং রিয়েলমি জিটি ৫-এর মতো গেমিং-কেন্দ্রিক ফোনে ২৪ জিবি র্যাম এবং ১ টিবি পর্যন্ত স্টোরেজের কনফিগারেশন পাওয়া যায়। তবে এগুলি মূলত গেমিং উৎসাহী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ভিডিও এডিটর এবং অত্যন্ত ভারী অ্যাপ ও এআই ওয়ার্কলোড ব্যবহারকারীদের জন্য। সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য ২৪ জিবি র্যাম প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
বেশি র্যাম মানেই কি ফোন দ্রুত?
না। ফোনের সামগ্রিক গতি নির্ভর করে প্রসেসর, স্টোরেজের গতি, সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং কুলিং সিস্টেমের উপরও। উদাহরণস্বরূপ, ১৬ জিবি র্যাম থাকা একটি ফোনে যদি ধীর প্রসেসর থাকে, তাহলে সেটি নতুন ও দ্রুত চিপসেটের ৮ জিবি র্যামের ফোনের তুলনায় সব কাজে ভালো পারফরম্যান্স নাও দিতে পারে। র্যামের মূল সুবিধা হল একসঙ্গে বেশি অ্যাপ এবং প্রসেস মেমোরিতে সক্রিয় রাখা।
র্যাম কম হলে কী হয়?
র্যাম সীমিত হলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা কিছু অ্যাপ মেমোরি থেকে সরিয়ে দিতে পারে। আপনি পরে সেই অ্যাপে ফিরে গেলে সেটিকে আবার শুরু থেকে লোড করতে হতে পারে। ফলে অ্যাপ বদলানোর সময় অপেক্ষা বাড়তে পারে। এই কারণেই বেশি র্যাম ভারী ব্যবহারকারী, গেমার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এআই-এর যুগে র্যামের গুরুত্ব বাড়ছে
স্মার্টফোন নির্মাতারা এখন অন-ডিভাইস এআই ফিচারের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গুগলের জেমিনি ইন্টেলিজেন্স, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এআই-এর মতো প্রযুক্তি ফোনের মধ্যেই বিভিন্ন এআই কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করছে।
এই ধরনের ফিচার এবং এআই মডেল চালানোর ক্ষেত্রে মেমোরির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে র্যামের গুরুত্ব আগের তুলনায় আরও বাড়তে পারে।
তাহলে কত জিবি র্যাম কিনবেন?
সহজভাবে বললে:
- ৪ জিবি: খুব সাধারণ ব্যবহার
- ৬ জিবি: দৈনন্দিন ব্যবহার ও মাঝারি মাল্টিটাস্কিং
- ৮ জিবি: বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য সেরা ব্যালান্স
- ১২ জিবি: ভারী ব্যবহার, গেমিং, এআই ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য ভালো
- ১৬ জিবি: গেমার ও অত্যন্ত ভারী মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য
- ২৪ জিবি: মূলত হেভি গেমিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও পেশাদার ওয়ার্কলোড
২০২৬ সালে নতুন স্মার্টফোন কিনলে ৮ জিবি র্যাম বেশিরভাগ মানুষের জন্য যথেষ্ট। আপনি যদি ফোনটি কয়েক বছর ব্যবহার করতে চান এবং ভারী গেমিং বা এআই ফিচার বেশি ব্যবহার করেন, তাহলে ১২ জিবি নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।
অন্যদিকে ১৬ জিবি বা ২৪ জিবি র্যামের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করার আগে নিজের ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত। কারণ বেশি র্যাম সবসময় বেশি গতি বা ভালো পারফরম্যান্সের নিশ্চয়তা দেয় না।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন